জাতীয়প্রধান খবর

বন্যায় ৮ জেলায় ৬ লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত, পুনর্বাসনে সর্বোচ্চ গুরুত্ব: ত্রাণমন্ত্রী

সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের কারণে দেশের আটটি জেলায় সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৬ লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং প্রাণ হারিয়েছেন ৫৪ জন। পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতির দিকে গেলেও সরকার এখন উদ্ধার কার্যক্রমের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর পিআইডি সম্মেলন কক্ষে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সাম্প্রতিক বন্যা পরিস্থিতি, জরুরি সাড়াদান ও সমন্বয় নিয়ে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। এসময় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসাইন, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ সচিব মো. সাইদুর রহমান খান উপস্থিত ছিলেন। ত্রাণমন্ত্রী বলেন, অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে প্রথমে চট্টগ্রাম বিভাগের পার্বত্য এলাকা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার এবং পরে হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও সিলেটের কিছু অংশে ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে কাজ করছে। তিনি জানান, বন্যায় চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগ মিলিয়ে আটটি জেলার ৫৯টি উপজেলা, ৩৬৮টি ইউনিয়ন এবং ১২টি পৌরসভা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ৬ লাখ ৯ হাজার ৪৪১ জন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিহত হয়েছেন ৫৪ জন, যাদের বেশির ভাগই পাহাড়ধসে প্রাণ হারিয়েছেন। দুলু বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জরুরি সহায়তার জন্য ইতোমধ্যে ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা এবং ৩ হাজার ২৫০ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শুকনো খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত জেলায় অতিরিক্ত ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে রান্না করা খাবার সরবরাহের পাশাপাশি উদ্ধার অভিযানে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও কোস্ট গার্ডকে নিয়োজিত করা হয়েছে। ত্রাণমন্ত্রী বলেন, পানি নামতে শুরু করায় এখন পুনর্বাসন কার্যক্রমই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। কৃষি খাতে ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন চলছে এবং সে অনুযায়ী সহায়তা দেওয়া হবে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বন্যা-পরবর্তী রোগবালাই মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক দ্রুত সংস্কারে সড়ক ও জনপথ বিভাগ, স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করবে। কাঁচা সড়ক কাবিখা ও কাবিটা কর্মসূচির মাধ্যমে সংস্কার করা হবে। আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, খাদ্য মন্ত্রণালয় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি চালু রাখবে। এ বছরের বন্যাকে চট্টগ্রাম অঞ্চলের সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যাগুলোর একটি উল্লেখ করে তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন এবং সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তিনি নিজেও বুধবার থেকে দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করবেন। গতকাল মঙ্গলবারই তিনি চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হন। ঢাকার জলাবদ্ধতা নিরসন ও ড্রেজিং প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ এবং বিপুল অর্থ ব্যয়ের পরও দৃশ্যমান উন্নতি হয় না কেন- এমন প্রশ্নের জবাবে ত্রাণমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতির বিষয়ে সরকারের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’। তিনি বলেন, আগের সরকারের সময় কী হয়েছে, সেটি আলাদা বিষয়। বর্তমান সরকার কোনো ধরনের দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেয় না। প্রধানমন্ত্রীর সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। মাঠপর্যায়ে নিবিড়ভাবে মনিটরিং করা হচ্ছে এবং কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

Back to top button
error: Content is protected !!