হরমুজে সেনা না পাঠাতে দক্ষিণ কোরিয়ায় বিক্ষোভ

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অবৈধ যুদ্ধের’ সমালোচনা করে দক্ষিণ কোরিয়ার কয়েক ডজন নাগরিক গতকাল বুধবার বিক্ষোভ করেছেন। তারা দেশটির সরকারকে হরমুজ প্রণালিতে সেনা না পাঠানোর আহ্বান জানান। সিউলে মার্কিন দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড নিয়ে দাঁড়ান। সেখানে লেখা ছিল, ‘আগ্রাসী যুদ্ধে যোগ দেবেন না।’ মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে সহযোগিতা করতে দক্ষিণ কোরিয়ার ওপর চাপ দিচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই যুদ্ধের মধ্যে ইরান গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। বিক্ষোভকারীরা বলেন, ‘আমরা আমাদের তরুণদের মৃত্যুর মুখে পাঠাতে পারি না।’ এএফপির হিসাবে, বিক্ষোভে প্রায় ৬০ জন অংশ নেন। হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি দেখতে একটি তথ্য অনুসন্ধানকারী দল পাঠানোর কথা জানানোর এক দিন পর এই বিক্ষোভ হয়। তবে দক্ষিণ কোরিয়ার সরকার বলেছে, সেনা পাঠানোর বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। শুক্রবার দক্ষিণ কোরিয়া জানায়, তাদের নিজস্ব সামরিক প্রস্তুতিতে সমস্যা না হলে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নিরাপত্তা কার্যক্রমে সহযোগিতা করার বিষয়টি তারা বিবেচনা করছে। এদিকে ইরান সতর্ক করে বলেছে, দক্ষিণ কোরিয়া সেখানে সেনা পাঠালে তা যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের প্রতি সরাসরি সমর্থন হিসেবে বিবেচিত হবে। এর ফলে গুরুতর পরিণতি হতে পারে বলেও সতর্ক করেছে তেহরান। নাগরিক সংগঠন ‘অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্রের জন্য জনগণের সংহতি’র সদস্য জং কিয়ং-জিক এএফপিকে বলেন, ইরানের এই অবস্থান তিনি বুঝতে পারছেন। তিনি বলেন, ‘হরমুজ প্রণালিতে দক্ষিণ কোরিয়ার সেনা পাঠানো হলে তা একটি অবৈধ যুদ্ধে সরাসরি অংশ নেওয়ার মতো হবে। ’ তিনি আরো বলেন, ইরানের ওপর মার্কিন হামলায় আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলাও রয়েছে। প্রায় ছয় মাস আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে। সেই যুদ্ধে মিত্র দেশগুলোর কাছ থেকে সহায়তা পাওয়ার চেষ্টা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এখন পর্যন্ত পরিস্থিতিতে তেমন পরিবর্তন আসেনি। ইরান হরমুজ প্রণালির ওপর শক্ত নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে। যুদ্ধের আগে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ আরো জোরদার করেছে। ‘কোরিয়ান পিস সলিডারিটি ফর সভরেনটি অ্যান্ড রিইউনিফিকেশন’-এর সদস্য চোই ইয়ং-ওক সতর্ক করে বলেন, হরমুজে দক্ষিণ কোরিয়ার সেনা পাঠানো হলে হতাহতের ঘটনা ঘটতে পারে। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের পরিচালিত একটি অবৈধ যুদ্ধে আমাদের সেনাদের পাঠানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’ তিনি আরো বলেন, ‘অন্য কোনো দেশ সেখানে সেনা পাঠায়নি বা পাঠানোর কথা বলেনি। তাই দক্ষিণ কোরিয়ারও সেনা পাঠানোর কোনো কারণ নেই।’ দক্ষিণ কোরিয়া যদি হরমুজ প্রণালিতে সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে এ জন্য দেশটির জাতীয় পরিষদের অনুমোদন নিতে হবে। সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের ভোটে এই অনুমোদন দিতে হবে।




