জাতীয়

রেলের আয় ২ হাজার কোটি টাকা ছাড়ালো, পণ্য পরিবহনে রাজস্ব কমলো

যাত্রী পরিবহন থেকে রাজস্ব বৃদ্ধির ফলে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ রেলওয়ের মোট আয় বেড়ে ২ হাজার ৬৬ কোটি ৩৮ লাখ টাকায় পৌঁছেছে। তবে ইঞ্জিন সংকটের কারণে পণ্য পরিবহন খাতে আয় কমেছে ৮ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। গতকাল রোববার বাংলাদেশ রেলওয়ের পরিচালক (জনসংযোগ) আনিসুর রহমান আয়-ব্যয়ের হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করেন। রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সংস্থাটির মোট আয় ছিল ১ হাজার ৮৪৫ কোটি টাকা। এক বছরের ব্যবধানে আয় বেড়েছে ২২১ কোটি টাকার বেশি। এ বৃদ্ধির পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে যাত্রী পরিবহন খাত, যেখানে আগের অর্থবছরের তুলনায় রাজস্ব বেড়েছে ২৫৬ কোটি টাকা। অন্যদিকে, পর্যাপ্ত লোকোমোটিভ না থাকায় মালামাল পরিবহন ব্যাহত হয়েছে। এর ফলে পণ্য পরিবহন থেকে আয় কমেছে ৮ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। এছাড়া ভেন্ডিং লাইসেন্স, বাণিজ্যিক কার্যক্রম ও অন্যান্য উৎস মিলিয়ে পরিবহন ও বাণিজ্যিক খাতের রাজস্বও প্রায় ২৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকা কমেছে। তবে কয়েকটি খাতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। রেলওয়ের ভূসম্পত্তি ব্যবস্থাপনা থেকে আয় বেড়েছে প্রায় ৩ কোটি টাকা। পাশাপাশি অপটিক্যাল ফাইবার লিজ দিয়ে আয় বেড়েছে ১১ কোটি ৫২ লাখ টাকা। রেলওয়ের হিসাবে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পরিচালন ব্যয়- যার মধ্যে বেতন-ভাতা, পেনশন, রেলপথ ও রোলিং স্টকের রক্ষণাবেক্ষণসহ অন্যান্য ব্যয় অন্তর্ভুক্ত- দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৯৫৫ কোটি টাকা। এতে ব্যয় ও আয়ের অনুপাত বা অপারেটিং রেশিও হয়েছে ১ দশমিক ৯১, যা আগের অর্থবছরের ২ দশমিক ৯ থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তবে রেলওয়ের দাবি, বছরে প্রায় এক হাজার কোটি টাকা পেনশন ব্যয়কে পরিচালন ব্যয়ের সঙ্গে যুক্ত করায় প্রকৃত চিত্র কিছুটা ভিন্ন দেখা যায়। এই ব্যয় বাদ দিলে পরিচালন ব্যয় নেমে আসে প্রায় ২ হাজার ৯৫৫ কোটি টাকায় এবং অপারেটিং রেশিও দাঁড়ায় ১ দশমিক ৪৩। সংস্থাটি আরও জানায়, বাংলাদেশ রেলওয়ে একটি রাষ্ট্রীয় গণপরিবহন প্রতিষ্ঠান হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে ভর্তুকিনির্ভর ও রেয়াতি ভাড়ায় সেবা দিয়ে আসছে। ২০১৬ সালের পর যাত্রীভাড়া আর বাড়ানো হয়নি। অথচ এ সময়ে রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়, আমদানিনির্ভর যন্ত্রাংশের মূল্য, ডলারের বিনিময় হার, জ্বালানি তেলের দাম এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও পেনশন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। রেলওয়ের মতে, বর্তমান বাজার পরিস্থিতি ও অন্যান্য পরিবহন ব্যবস্থার ভাড়ার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে যাত্রীভাড়া যৌক্তিকভাবে পুনর্র্নিধারণ করা হলে আয়-ব্যয়ের ব্যবধান আরও কমানো সম্ভব হবে। এজন্য সংস্থাটিকে কেবল লোকসানি প্রতিষ্ঠান হিসেবে মূল্যায়ন করা ঠিক হবে না বলেও মত দিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

Back to top button
error: Content is protected !!