গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণে ৫০ হাজার টাকা বহাল কোন শক্তির প্রভাবে?-প্রশ্ন টিআইবির

প্রধানমন্ত্রীর সুস্পষ্ট নির্দেশনা সত্ত্বেও প্রাধিকারপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তাদের সুদমুক্ত ঋণে কেনা গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ খরচ ৫০ হাজার টাকা বহাল থাকার পেছনে কোন শক্তির প্রভাব কাজ করেছে, এ প্রশ্ন তুলেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত একশ্রেণির আমলাদের ‘অন্যায্য প্রভাবের কাছে সরকার নতি স্বীকার করেছে’ বলে মনে করছে প্রতিষ্ঠানটি। গতকাল রোববার এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলছেন, “সরকারি সীমিত সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিতের লক্ষ্যে সুদমুক্ত ঋণ সুবিধায় ক্রয় করা গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ খরচ অর্ধেক কমিয়ে ২৫ হাজার টাকা করা এবং সুদমুক্ত ঋণ সুবিধা বাতিলের সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে একটি প্রশংসনীয় দৃষ্টান্ত ছিল। সরকার প্রধানের এ অবস্থানের পেছনে মূল যুক্তি ছিল বৈষম্যনিরোধ ও জনগণের অর্থের অপচয় কমানো। “অথচ বাস্তবতাকে বিবেচনায় না নিয়ে সংকীর্ণ স্বার্থে সুবিধাভোগীদের প্রভাবে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত অকার্যকর করে দেওয়ার দৃষ্টান্ত স্থাপিত হতে যাচ্ছে। কোন শক্তির প্রভাবে সর্বোচ্চ পর্যায়ের সদিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও ব্যয়-কৃচ্ছ্রতার এই নীতিগত সিদ্ধান্ত থেকে সরকারকে সরে আসতে হচ্ছে, তা চিহ্নিত হওয়ার পাশাপাশি এদের সুবিধাবাদী মনস্তত্ত্ব অনুধাবন করা সরকারের জন্য জরুরি বলে মনে করছি।” উপসচিব থেকে সচিব মর্যাদার সরকারি কর্মচারীরা ২০১৭ সাল থেকে গাড়ি কেনার জন্য ৩০ লাখ টাকা সুদমুক্ত ঋণ সুবিধা পেয়ে আসছেন। এসব গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ ব্যয় এতদিন ছিল মাসে ৫০ হাজার টাকা, পরে তা ২৫ হাজার টাকা করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে ৯ জুলাই চিঠি দিয়েছিল অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ। এরপর বিষয়টি নিয়ে ১৬ জুলাই বৈঠকে বসার কথা ছিল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের। সেই বৈঠক না করার পর ওইদিন সন্ধায় ৯ জুলাইয়ের দেওয়া এই চিঠি আমলে না নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়ে আরেকটি চিঠি দেয় অর্থ বিভাগ। ইফতেখারুজ্জামান বলছেন, “শুরু থেকেই তথাকথিত প্রাধিকারপ্রাপ্ত কর্মচারীদের যে উদ্দেশ্যমূলক শ্রেণিবিভাগ করা হয়েছিল, সেটি ছিল বঞ্চনা ও বৈষম্যমূলক। মাত্র ২ হাজার ৪০০ কর্মচারীর বাইরে একই ক্যাডার ও সমমর্যাদাভুক্ত অন্যান্য সার্ভিসে কর্মরতদের জন্য যা ছিল গ্লানিকর। এ জাতীয় পক্ষপাতদুষ্ট সুযোগ সরকারি খাতে আন্ত-ক্যাডার ভারসাম্যকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। “অধিকন্তু, কিছুসংখ্যক কর্মকর্তাদের জন্য এই সুযোগ বহাল থাকার ফলে সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে একদিকে যেমন নির্দিষ্ট পদ ও পদবীর জন্য অসুস্থ প্রতিযোগিতার সৃষ্টি করছে, অন্যদিকে তেমনি বঞ্চিতদের স্বাভাবিক কর্মসম্পৃহাকে ধ্বংস করছে। এ রকম একটি বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখাসহ তার ভিত্তিতে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে প্রতিমাসে গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ খরচ গ্রহণ করার অধিকতর বৈষম্যমূলক চর্চা কতটা যৌক্তিক, তা ভেবে দেখার অনুরোধ করছি।”




