জাতীয়প্রধান খবর

কোথাও প্রশ্নফাঁস হচ্ছে না, মিথ্যা প্রচার-প্রতারণা চলছে: শিক্ষামন্ত্রী

চলমান এইচএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র টেলিগ্রাম গ্রুপে বিক্রির অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, কোথাও কোনো প্রশ্নপত্র ফাঁস হচ্ছে না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নপত্র দেওয়ার নামে যা প্রচার করা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভুয়া এবং প্রতারণার অংশ। গতকাল রোববার দুপুরে রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিক শিক্ষামন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, তার ছবি ব্যবহার করে টেলিগ্রামে ‘রেজাল্ট ফিক্স বিডি’ নামে একটি অ্যাকাউন্ট থেকে এইচএসসির প্রশ্নপত্র দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতি প্রশ্নের জন্য এক হাজার টাকা এবং ‘ফুল প্যাকেজ’-এর জন্য আট হাজার টাকা দাবি করা হচ্ছে। জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘সাইবার অপরাধ ননস্টপ চলছে। আমি সাংবাদিকদের কাছে আবেদন জানাব, আপনারা যখন সংবাদ করবেন, তখন স্পষ্টভাবে বলবেনÑ এগুলো ভুয়া। অনেক সময় এমনভাবে সংবাদ করা হয়, যেন প্রশ্নপত্র আউট হচ্ছে। এতে মানুষের মধ্যে ভুল বার্তা যায়। তিনি বলেন, যেটি সত্য নয়, সেটিকে এমনভাবে উপস্থাপন করা উচিত নয়, যাতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ধারণা তৈরি হয়। শিক্ষাবিটে কর্মরত সাংবাদিকরা অন্তত জানেন, কোথাও কোনো প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়নি। গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশন করলে প্রতারকদের অপতৎপরতা অনেকটাই ব্যর্থ হবে। মানুষ যদি নিশ্চিতভাবে জানতে পারে যে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়নি, তাহলে তারা অর্থের বিনিময়ে প্রশ্নপত্র কেনার ফাঁদে পা দেবে না। তিনি আরও বলেন, সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রতারকদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী জানান, গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে। টেলিগ্রামসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে প্রশ্নপত্র ফাঁসের নামে প্রতারণায় জড়িতদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। ভারী বৃষ্টিপাত ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষা পিছিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন কিছু শিক্ষার্থী। বিষয়টি নিয়ে তিনি বলেন, আজকে আমরা গভীর পর্যবেক্ষণে আছি এবং কিছুক্ষণের মধ্যে আবারও বসবো। কোথাও পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব না হলে তা অবশ্যই স্থগিত করা হবে। পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে এবং শিক্ষার্থীদের স্বার্থই সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমরা লেটেস্ট ওয়েদার রিপোর্ট এখনো হাতে পাইনি। এটার জন্যই অপেক্ষা করছি। কারণ ঢাকাতেও ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। কিছুক্ষণ আগেও বিষয়গুলো নিয়ে উপদেষ্টা এবং সচিবের সঙ্গে আলোচনা করছিলাম। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ৬৪ জেলার ডিসি এবং সংশ্লিষ্ট বোর্ড চেয়ারম্যানদের সঙ্গে কথা বলে কোথায় কি হচ্ছে না হচ্ছে সেগুলো মনিটরিং করে আমরা পরীক্ষা নেওয়া না, নেওয়ার সিদ্ধান্তগুলো নিচ্ছি। শিডিউলগুলো নিয়মিত আপডেট করছি এবং যেসব পরীক্ষাগুলো পিছিয়ে যাবে; সে পরীক্ষাগুলো নেওয়ার পরিকল্পনা করছি। এদিকে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থী চূড়ান্ত সুপারিশ পেয়েও পাঁচমাস ধরে ঝুলে আছেন। বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তাদের যোগদান নিয়ে তিনি বলেন, ‘টা নিয়ে কাজ চলছে। আমরা তাদের আগে দুইমাসের ট্রেনিং দেবো। এরপর স্কুলে পাঠাবো। বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। খুব শিগগির তাদের ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। এসময় উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী প্রমুখ। গত ৯ জানুয়ারি দেশের ৬১ জেলায় (পার্বত্য তিন জেলা ছাড়া) একযোগে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে লিখিত পরীক্ষা (এমসিকিউ টাইপ) অনুষ্ঠিত হয়। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৬৯ হাজার ২৬৫ জন মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত হন। মৌখিক পরীক্ষা নিয়ে ৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়। এতে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীকে নিয়োগের জন্য প্রাথমিকভাবে নির্বাচন করা হয়। তাতে জেলাভিত্তিক উত্তীর্ণ প্রার্থীদের তালিকাও প্রকাশ করা হয়। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সব প্রক্রিয়া শেষ করলেও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকরা এখনো যোগদান করতে পারেননি। এমন পরিস্থিতিতে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন ১৪ হাজার ৩৮৪ জন সুপারিশপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক। এ নিয়ে গত এপ্রিলের শেষ দিকে রাজধানীতে আন্দোলনে নামেন তারা। এরপর তাদের প্রশিক্ষণ শেষে নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী।

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

Back to top button
error: Content is protected !!