জাতীয়প্রধান খবর

এনজিওগুলোকে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগের আহ্বান জ্বালানিমন্ত্রীর

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোকে (এনজিও) সোলার এনার্জি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ ও উন্নয়নমূলক কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি বলেন, এনজিওগুলো দেশের গ্রামীণ অর্থনীতির অভূতপূর্ব পরিবর্তনে ভূমিকা রেখেছে। দেশি-বিদেশি তহবিল রয়েছে, তারা এখন জ্বালানি ব্যবস্থাপনাতেও ভূমিকা রাখতে পারে। গতকাল সোমবার রাজধানী চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘ন্যাশনাল ওয়ার্কশপ অন ভয়েস অফ ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, একটা কথা আমাদের স্বীকার করতেই হবে যে, আজকে আমাদের গ্রাম-বাংলায় যে পরিবর্তনের চেহারা দেখি, তার পেছনে এনজিওদের একটি বিশাল ভূমিকা রয়েছে। সরকার একা কোনো কিছু করতে পারে না, যদি অন্যরা এগিয়ে না আসে। গ্রামাঞ্চলের আর্থ-সামাজিক পরিবর্তনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আজকে গ্রামের বাড়িগুলোর চিত্র পুরোপুরি বদলে গেছে। অতীতে আমাদের নেতা তারেক রহমান চেয়েছিলেন গ্রাম থেকেই অর্থনীতির শক্তি আসবে। সেই লক্ষ্যে খাল খনন থেকে শুরু করে বেকার যুবকদের স্বাবলম্বী করতে মৎস্য চাষ ও হাঁস-মুরগি পালনে অর্থায়ন করা হয়েছিল। তিনি এনজিওগুলোর নিবিড় পর্যবেক্ষণের প্রশংসা করলেও এনজিও পরিচালনা কাঠামো নিয়ে সতর্ক করেন তিনি বলেন, এনজিও পরিচালনা যাতে কোনো একক পরিবারের নিয়ন্ত্রণে না থেকে সাধারণ সদস্যদের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়, সে বিষয়ে লক্ষ্য রাখতে হবে। বিশ্বব্যাপী চলমান ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত ও জ্বালানি সংকটের কথা উল্লেখ করে জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, আমদানিভিত্তিক জ্বালানির ওপর নির্ভর করে বিদ্যুৎ উৎপাদন চালানো এখন অত্যন্ত কঠিন ও ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে। দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র দুই মাসের মধ্যে আমাদের পেট্রোলসহ অন্যান্য জ্বালানি আমদানিতে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার খরচ করতে হয়েছে, যা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করছে। এ সংকট কাটাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, সরকার আগামী মেয়াদে ১০ হাজার মেগাওয়াট সোলার এনার্জি উৎপাদনের পরিকল্পনা করছে। ক্লাস্টার বেসিসে গ্রামের ঘরের চালে সোলার প্যানেল বসানো ও নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে বিদ্যুৎ কেনাবেচার ব্যবসায় এনজিওগুলো অত্যন্ত বড় ভূমিকা রাখতে পারে। সোলার এনার্জি খাতের সুবিধার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে সোলার প্যানেল ও ব্যাটারির ওপর কোনো ডিউটি বা ট্যাক্স নেই। পাশাপাশি রয়েছে ৫ বছরের ট্যাক্স হলিডে। তাছাড়া, বিশ্বব্যাংকসহ আন্তর্জাতিক অর্থায়নকারী সংস্থাগুলো এখন জীবাশ্ম জ্বালানির বদলে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে পর্যাপ্ত ফান্ড দিচ্ছে। তিনি এনজিওগুলোকে কেবল অনুদানের ওপর নির্ভর না করে আন্তর্জাতিক ব্যাংকগুলো থেকে বিনিয়োগ ফান্ড এনে দেশের গ্রামীণ সোলার এনার্জি ও বায়োগ্যাস প্রকল্পে কাজ করার পরামর্শ দেন। সবশেষে, এনজিও প্রতিনিধিদের উত্থাপিত বিভিন্ন যুক্তিসংগত দাবি ও প্রস্তাবনা প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বলেন, কোভিড মহামারির পর থেকে আমাদের উন্নয়ন খাত একটি বড় ধাক্কার মুখোমুখি হয়েছে। বিদেশি দাতা সংস্থাসমূহের অর্থায়ন কমে যাওয়ায় প্রায় ২৫ হাজারের বেশি উন্নয়ন কর্মী চাকরি হারিয়েছেন, যা এক মারাত্মক সংকট তৈরি করেছে। তিনি ভবিষ্যৎ পথচলায় প্রাইভেট সেক্টর ও সরকারের সঙ্গে সমন্বয়ের ওপর জোর দিয়ে বলেন, বেসরকারি খাতের সিএসআর ফান্ড ব্যবহারে এনজিওগুলোর অনীহা দূর করতে হবে। একই সাথে সরকারি অংশীদারিত্ব বৃদ্ধি ও এনজিওদের নিয়ে সমাজে বিদ্যমান সন্দেহ দূর করার আহ্বান জানান তিনি। সভাপতির বক্তব্যে এনডিপির এক্সিকিউটিভ পরিচালক আলাউদ্দীন খান বিদেশি দাতা সংস্থার ওপর পরনির্ভরশীলতা কমিয়ে স্থায়ী ও টেকসই উন্নয়নের জন্য স্থানীয় সম্পদের কার্যকর ব্যবহারের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, প্রকৃত ও দীর্ঘস্থায়ী উন্নয়ন তখনই সম্ভব, যখন আমরা নিজেদের পায়ের নিচে মাটি শক্ত করতে পারব। স্থানীয় অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কাজে লাগাতে তিনি পরিকল্পিতভাবে জাকাত ফান্ডের সুষম ব্যবহার, সিএসআর ফান্ডের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করা এবং রেমিট্যান্সের উৎপাদনমুখী ব্যবহারের ওপর জোর দেন।

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

Back to top button
error: Content is protected !!