অবসরের ঘোষণা দিলেন হিদার নাইট

ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক তিনি, আবার প্রমীলা ক্রিকেটে দেশটির হয়ে সবচেয়ে বেশি ম্যাচও খেলেছেন। সেই হিদার নাইট তার বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের ইতি টানার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। লর্ডসে ভারতের বিপক্ষে চলমান টেস্টই তার ক্যারিয়ারের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ। মাত্র ক’দিন আগে ইংল্যান্ড পুরুষ দলের টেস্ট অধিনায়ক বেন স্টোকস অবসরের ঘোষণা দেন। তিনিও ম্যাচ চলাকালে জানান, এটিই শেষ ম্যাচ। ইংল্যান্ড নারী দলের সাবেক অধিনায়ক নাইটও যেন সেই পদাঙ্ক অনুসরণ করলেন। ২০১০ সালে ইংল্যান্ডের হয়ে অভিষেক হয় নাইটের। অবসরের আগে ইংল্যান্ডের হয়ে ৩২০টি ম্যাচে মাঠে নামা হয়েছে তার, তিন ফরম্যাট মিলিয়ে। ক্রিকেটের তীর্থস্থান লর্ডসেই তিনি খেলছেন নিজের শেষ ম্যাচ। ৩৫ বছর বয়সী এই তারকার অভিষেক হয়েছিল মুম্বাইয়ে। নিজের প্রথম ম্যাচের মতো শেষ ম্যাচও খেলছেন ভারতের বিপক্ষে। নিজের বিদায়ী ম্যাচে এক ইনিংস ব্যাট করে ফেলেছেন নাইট। ২৫ বলে ৬ রান করে সাজঘরে ফেরেন। ইংল্যান্ড অবশ্য এখনও দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করেনি। বিদায়ের ঘোষণায় এই তারকা জানান, ‘ইংল্যান্ডের ক্রিকেটার হিসেবে যে পথচলাটা আমার ছিল, তার জন্য আমি ভীষণ কৃতজ্ঞ এবং নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করি। বিদায় বলা সহজ নয়, কারণ গত ১৬ বছর ধরে ড্রেসিংরুম আর সেখানে থাকা মানুষগুলোই আমার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল। সেই স্মৃতি, অভিজ্ঞতা আর মানুষগুলোই আমাকে আজকের আমি হয়ে উঠতে সাহায্য করেছে।’ তবে অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়ে আক্ষেপ নেই জানিয়ে বলেন, ‘তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে আমি পুরোপুরি স্বস্তিতে আছি এবং সামনে যা আসছে, তা নিয়ে আমি দারুণ রোমাঞ্চিত। আমার সতীর্থ, কোচ এবং সাপোর্ট স্টাফদের সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাতে চাই। বিশেষ করে মেডিকেল স্টাফদের আলাদা করে ধন্যবাদ দিতেই হবে। সত্যি বলতে, কীভাবে আমার শরীর ৩০০টিরও বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ সামলে এসেছে, সেটা আমি নিজেও জানি না। আমাকে বারবার খেলায় ফেরাতে তাদের অসাধারণ পরিশ্রম আর যত্ন ছিল, আর সেই ঋণ আমি কখনোই শোধ করতে পারব না।’ লর্ডস টেস্ট চলাকালে হুট করেই কেন অবসরের ঘোষণা, তা-ও খোলাসা করেছেন। তিনি বলেন, ‘ডেভনের (দক্ষিণ-পশ্চিম ইংল্যান্ডের একটি কম আলোচিত রাজ্য ) ছোট্ট একটি মেয়ে হিসেবে ছেলেদের সঙ্গে ক্রিকেট খেলার সময় কখনো ভাবিনি, একদিন এমন অভিজ্ঞতার অংশ হতে পারব। লর্ডসে এই ঐতিহাসিক টেস্ট ম্যাচ দিয়ে ক্রিকেটকে বিদায় জানানোই আমার কাছে সবচেয়ে উপযুক্ত মনে হচ্ছে। ১৬ বছরের এই পথচলা ছিল অবিশ্বাস্য, আর আমি নিজেকে সত্যিই ভীষণ সৌভাগ্যবান মনে করি।’




