Home সমস্যা ও সম্ভাবনা জমি ভাড়া নিয়ে চলাচল করছে আট গ্রামের বাসিন্দা

জমি ভাড়া নিয়ে চলাচল করছে আট গ্রামের বাসিন্দা

বন্যায় ভেঙ্গে গেছে সেতু ও সড়ক

by বাংলা টুডে ডেস্ক
Published: Last Updated on ৬১ views

শুভ্র মেহেদী, জামালপুর
জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় এক দশক আগে কাঁটাখালী নদীর উপর নির্মিত দুটি সেতু ও সংযোগ সড়ক বন্যায় ভেঙে যায়। তারপর থেকেই নদীর তীর ঘেষা ফসলি জমি ভাড়া নিয়ে চলাচল করছে আট গ্রামের বাসিন্দারা। জমি ভাড়া নিয়ে পায়েহাটা পথ তৈরী করলেও, সেখানেও পোহাতে হচ্ছে চরম ভোগান্তি। যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় এসব গ্রামের সামাজিক আচার অনুষ্ঠানসহ পণ্য পরিবহনে দুর্ভোগ পোহাতে হয় পদে পদে। তাই দীর্ঘদিনের ভোগান্তি লাঘবে সেতু ও সংযোগ সড়ক নির্মানের দাবি বিচ্ছিন্ন এই জনপদের।

স্থানীয়দের যাতায়াত সুবিধার জন্য জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার ঘোষেরপাড়া ইউনিয়নের খায়েরপাড়া গ্রামে কাঁটাখালী নদীর উপর দুটি সেতু ও সংযোগ সড়ক নির্মান করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। কিন্তু ২০১১ সালে বন্যার তোড়ে পানিতে ভেঙ্গে যায় সংযোগ সড়কসহ দুটি সেতুই।

এরপর থেকেই বিচ্ছিন্ন জনপদে পরিনত হয় খায়েরপাড়া, আমিত্তি, চারালকান্দি, নাগেরপাড়া, শকুনা, চরশকুনা, গুনারীতলা ও দিলালিপাড়া গ্রামের বাসিনন্দারা। ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা সদরের সাথে সরাসরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পরে এই গ্রামগুলো। সড়ক ও সেতুর অভাবে স্বাভাবিকভাবে চলাচলের ক্ষেত্রে এক দশক ধরে দুর্ভোগের শিকার হয়ে আসছে এখানকার অন্তত ২০ হাজার মানুষ। যাতায়াতের বিকল্প কোন পথ না থাকায় নদীর তীর ঘেষে অন্যের জমি উপর দিয়ে চলাচল করছে এসব গ্রামের বাসিন্দারা। কিন্তু জমির মালিকরা তাদের জমির উপর দিয়ে পথ চলতে বাধা দেন, করেন গালমন্দও।

তবে বেকায়দায় পরতে হয় যখন এসব জমিতে কোন ফসল আবাদ করা হয়। আবাদী জমিতে বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেয়া হয় পায়ে হাটা পথ, তখন দুর্দশার অন্ত থাকে না এই পথে চলাচলকারীদের। তাই বাধ্য হয়ে জমি ভাড়া নিয়ে চলতে হয় ভূক্তভোগীদের। ফসলি জমি ভাড়া নিয়ে পায়েহাটা পথ তৈরী করলেও জমির মালিকরা বিভিন্ন অজুহাতে রাস্তা বন্ধ করে দেয়াসহ বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করায় নিত্যনৈমিক পোহাতে হচ্ছে চরম ভোগান্তি।


স্থানীয় বাসিন্দা রমজান আলী জানান, ব্রিজ আর রাস্তার অভাবে এতোটা বছর ধইর‌্যা কষ্ট করতাছি, কবে যে এই কষ্ট শেষ হবো বুঝবার পাইতাছিনা। চলনের জায়না নাই দেইখ্যা, জমি চুক্তি নিয়া আঙ্গরে চলন লাগতাছে। হেই জমিতেও মালিকে রাস্তার মধ্যে কাটা দিয়া থয়, গাইল পাড়ে, মাটি কাইটা ফ্যালায়। জমির উপর দিয়ে হাইটা যাওনের জন্যে টেহ্যা দিয়াও ঠিকমতো চলবার পাইনা, ইন্দা সময় যায় ব্রিজও হয়না, রাস্তাও হয়না।

এদিকে এসব গ্রামের উৎপাদিত ফসল, অতি প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও রোগী পরিবহনে বাড়তি ভাড়াসহ পড়তে হয় দুর্ভোগে। বিশেষ করে গর্ভবতী নারী এবং বয়স্কদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার আগেই তাদের অবস্থা করুন হয়ে পড়ে। যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাবে এসব গ্রামের সাথে আত্মীয়তাও করতে চায়না অনেকে, নির্জন জায়গা দিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যায়াতাতে নিরাপত্তাহীনতায় থাকে মেয়ে শিক্ষার্থীরা।

স্থানীয় মানিক মিয়া আক্ষেপ করে বলেন, সারা জেলা জুইড়া উন্নয়ন হইতাছে, অথচ আমাদের কোন উন্নয়ন নাই। আমরা এমন অবহেলায় আছি যে, আমাদের গ্রামের ছেলে-মেয়েদের বিয়াসাদির কথা উঠলেই রাস্তাঘাট নাই দেইখ্যা বিয়া ভাইঙ্গা যায়, কেউ আত্মীয়তা করবার চয়ানা। অসুখ-বিসুখ হইলে একটা ডাক্তার পর্যন্ত আসবা চায়না রাস্তা নাই দেইখ্যা। বন্দের মধ্যে দিয়া ছেলেমেয়েরা স্কুল-কলেজে যাওয়া-আসা করে। মেয়েরা প্রায় সময়ই বখাটে পোলাপানের কাছে উত্তক্ত্যের শিকার হয়।

ঘোষেরপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো: ওবায়েদুর রহমান বন্যায় সেতু ভেঙ্গে যাওয়ায় দুর্ভোগের কথা স্বীকার করে বলেন, এই আসনের সংসদ সদস্য মির্জা আজম এই স্থানে আবারো সেতু নির্মানের চেষ্টা করছেন, আশা করি খুব দ্রুত সময়ে সেতু নির্মানের মধ্যে দিয়ে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হবে।


স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) জামালপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: সায়েদুজ্জামান সাদেক জানান, বিজ্রটি পুন:নির্মানের জন্য ইতিমধ্যে সয়েল ট্রেস্ট করে লিগ্যাল সেকশনে পাঠানো হয়েছে ডিজাইনের জন্য। নতুন একটি প্রজেক্টের মাধ্যমে ব্রিজের কাজ শুরু করা হবে।

দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুতই সড়কসহ সেতু নির্মান করে যাতায়াতের পথ সুগম হবে এমনটাই প্রত্যাশা ভুক্তভোগীদের।

আরো পড়ুন

সম্পাদক: শুভ্র মেহেদী

মোবাইল: ০১৯৮৫৮২৭৮৩০
ই-মেইল: jamalpur.banglatoday.2022@gmail.com

মিডিয়া ক্যাম্পাস, পৌরসুপার মার্কেট (২য় তলা), রানীগঞ্জ বাজার, তমালতলা, জামালপুর।

Developed by Media Text Communications