Home প্রধান খবর আধুনিক তৈজসপত্রের ভীড়ে হারিয়ে যাচ্ছে ইসলামপুরের কাঁসা শিল্প

আধুনিক তৈজসপত্রের ভীড়ে হারিয়ে যাচ্ছে ইসলামপুরের কাঁসা শিল্প

by বাংলা টুডে ডেস্ক
৩৮৭ views


শুভ্র মেহেদী, জামালপুর:
আবহমান বাংলার হাজার বছরের ঐতিহ্য বহন করে পরিচিতি লাভ করেছিল জামালপুর জেলার ইসলামপুর উপজেলার কাঁসা শিল্প। এখানকার কাঁসা শিল্পের সুখ্যাতি দেশের গন্ডি পেরিয়ে ছড়িয়ে পড়েছিল বিশ্বজুড়ে। এখনকার কাঁসা শিল্পীদের নিপুন হাতে তৈরী নান্দনিক কারুকার্যের জন্য লন্ডনের বার্মিংহামে হস্তশিল্প প্রদর্শনীতে ইসলামপুরের কাঁসা শিল্প স্বর্ণ পদকও লাভ করে ছিল। কিন্ত বর্তমানে আধুনিক তৈজসপত্রের আগ্রাসন, কাঁচামাল সংকট, মজুরি স্বল্পতায় কারিগরদের পেশা বদলসহ নানা সমস্যায় বিলুপ্তির পথে ইসলামপুরের কাঁসা শিল্প।


একটা সময় ছিলো যখন কাঁসার বাসন-কোসন ছাড়া বাঙ্গালীর ঘর-গৃহস্থলির কথা চিন্তাই করা যেত না। মোঘল আমল থেকেই পুরো ভারতবর্ষ জুড়েই ছিল কাঁসার তৈজসপত্রের কদর, আর সে সময় থেকেই জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার দরিয়াবাদ গ্রামের অসংখ্য পরিবারের জীবন-জীবিকা জড়িয়ে আছে কাঁসা শিল্পের সাথে। সেই সময় ইসলামপুরের কাঁসা শিল্পীদের নিপুন হাতে তৈরী নান্দনিক কারুকার্য মন্ডিত কাঁসার তৈজসপত্রের সুখ্যাতি দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল।

 

১৯৪২ সালে তৎকালীন বৃটিশ সরকার লন্ডনের বার্মিংহাম শহরে সারা বিশ্বের হস্তশিল্প প্রদর্শনীর আয়োজন করলে, সেই প্রদর্শনীতে ইসলামপুরের প্রয়াত কাঁসা শিল্পী জগৎচন্দ্র কর্মকার কাঁসা শিল্প প্রদর্শন করে স্বর্ণ পদক লাভ করে ছিল। সে সময় এখনকার কাঁসা পণ্যের চাহিদাও বেড়ে গিয়েছিল। কিন্তু কালের বিবর্তনে ঐহিত্যবাহী এই শিল্পটি হারিয়ে যেতে বসেছে। বিশেষ করে মেলামাইন, প্লাস্টিক, সিরামিক আর কাঁচের তৈজসপত্রের ভিড়ে, কাঁসার তৈজসপত্রের প্রচলনে ভাটা পড়ে। কিন্তু সুন্দর্য প্রিয় মানুষ আর হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে কাঁসার তৈজসপত্রের কদর এখনো রয়েছে।

 

কিন্তু কাঁচামাল সংকট, মূল্যবৃদ্ধি আর পুঁজির তুলনায় আয় কম হওয়ায় কাঁসা শিল্পী পরিবারের অনেকেই এখন পেশা ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। ইসলামপুরের দরিয়াবাদ গ্রামে ২৪ থেকে ২৫টি কাঁসার কারখানার মধ্যে বর্তমানে কোন রকমে টিকে রয়েছে ৬ থেকে ৭টি কারখানা। ঠিক মতো মজুরি না পাওয়ায় কারিগররাও ঝুঁকছেন অন্য পেশায়। যেসব কারিগরারা নানা প্রতিকুলতার মধ্যেও পূর্বপুরুষের পেশা ধরে রেখেছেন, কাঁসার পণ্য তৈরীতে আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার শুরু হওয়ায় তাদের কপালে এখন চিন্তার ভাজ কর্ম হারানোর শঙ্কায়।


কারখানা মালিক আব্দুল গফুর ও অঙ্কন কর্মকার জানান, একটা সময় আমরা কাজের অর্ডার নিয়ে শেষ করতে পারতাম না, তখন কারখানাও ছিলো অনেক। এখন প্লাস্টিকসহ নানা রকমের কমদামি জিনিস বাজারে আসায় আমাদের সেই পুরনো দিন আর নেই। প্লাস্টিকের মতো কমদামি একটা জিনিস যেটা ভেঙ্গে গেলেই ফেলে দেয়, সেই জিনিস বিদেশে রপ্তানি হয়, অথচ কাঁসা এতো দামি একটা পণ্য এবং এর একটা ঐতিহ্য রয়েছে, কিন্তু এই পণ্য বিদেশে রপ্তানি করার উদ্যোগ নেই।

সরকার যদি আমাদের এব্যাপারে সহযোগিতা করতো তা হলে এই শিল্পটি আবারো ঘুরে দাঁড়াতে পারতো, নয়তো যে কটি কারখানা টিকে আছে, সেগুলোও বন্ধ হয়ে যাবে।


ইসলামপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো: রুহুল আমীন বলেন, ইসলামপুরের ঐহিত্যবাহী কাঁসা শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সরকার নানা রকম উদ্যোগ নিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় কাঁসা শিল্পের সাথে জড়িতদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং প্রতিজনকে ১৮ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা করা হয়েছে।

ঐতিহ্যবাহী কাঁসা শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সরকারি সহযোগিতার প্রয়োজন বলে মনে করেন কাঁসা শিল্পের মালিক ও শ্রমিকেরা।

আরো পড়ুন

সম্পাদক: শুভ্র মেহেদী

মোবাইল: ০১৯৮৫৮২৭৮৩০
ই-মেইল: jamalpur.banglatoday.2022@gmail.com

মিডিয়া ক্যাম্পাস, পৌরসুপার মার্কেট (২য় তলা), রানীগঞ্জ বাজার, তমালতলা, জামালপুর।

Developed by Media Text Communications