কক্সবাজারে বন্যায় পানির স্রোতে ভেসে গেছে দুই শিশু

কক্সবাজারের চকরিয়া ও পেকুয়ায় বানের পানির স্রোতে দুই শিশু ভেসে গেছে। গগত শনিবার এ ঘটনা ঘটে। পরে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তারা হলো- চকরিয়া উপজেলার কৈয়ারবিল ইউনিয়নের জলদাসপাড়ার সুজিত দাস (১২) এবং পেকুয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের বলিরপাড়া এলাকার ১৯ মাস বয়সী শিশু মুশফিকুর রহিম। সুজিত চকরিয়ার জলদাসপাড়ার তুফান দাসের ছেলে। সে ভেসে যাওয়ার পর থেকে নিখোঁজ। আর মুশফিকুর প্রবাসী নাছির উদ্দিনের ছেলে। তার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে বন্যা, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসে মৃত মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৬ জনে। চকরিয়ার জলদাসপাড়ার স্থানীয় কয়েকজনের ভাষ্য, তাদের পাড়ার বুকচিরে একটি গ্রামীণ সড়ক গেছে। সড়কটির এক পাশে মাছের ঘের, আরেক পাশে লোকালয়। লোকালয় থেকে বন্যার পানি সড়কের ওপর দিয়ে মাছের ঘের হয়ে মাতামুহুরী নদীতে পড়ছে। সুজিতসহ তিন জন সড়ক দিয়ে বাড়ি ফিরছিল। হঠাৎ স্রোতে ভেসে গিয়ে মাছের ঘেরে পড়ে যায় সুজিত। এর পর থেকে সে নিখোঁজ। চকরিয়া সিভিল ডিফেন্স ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা সেলিম উদ্দিন বলেন, বন্যার পানির স্রোত বেশি থাকায় এবং ডুবুরি দলের কেউ না থাকায় উদ্ধারকাজ চালানো যায়নি। চট্টগ্রামের ডুবুরি দলকে খবর দেওয়া হয়েছে। উদ্ধার অভিযান চালানো হবে। এছাড়া স্রোতে ভেসে যাওয়া মুশফিকুরের লাশ গত শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে খুঁজে পান তার চাচা। ছেলেকে বসতঘরে রেখে বাইরে কাজ করছিলেন মা। তাদের বসতঘরে হাঁটুসমান ও উঠানে কোমরপানি। লোকালয় থেকে নেমে যাওয়া পানির স্রোতে শিশুটি কখন পড়ে যায়, তার মা টের পাননি। দোকান থেকে ফেরার পথে শিশুটির চাচা লেদু মিয়া ভাতিজার লাশ ভেসে থাকতে দেখেন। হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন। পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রফিকুল ইসলাম শিশুটির মৃত্যুর খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।




