‘মুজিব বর্ষ’ উদযাপনে ব্যয় ৯৮২ কোটি ৯১ লাখ টাকা: সংসদে অর্থমন্ত্রী

‘মুজিব বর্ষ’ উদযাপন উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন, শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি ও বেদি নির্মাণ, সরকারি দপ্তরে ব্রোঞ্জ, তামা ও মার্বেল পাথরের ভাস্কর্য স্থাপন এবং জাতীয় পর্যায়ে সময় গণনার ডিজিটাল বোর্ড নির্মাণসহ বিভিন্ন খাতে সরকারের মোট ব্যয়ের হিসাব জাতীয় সংসদে তুলে ধরেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। গতকাল রোববার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাহবুবুর রহমান (বেলাল)-এর এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ তথ্য জানান। প্রশ্নে সংসদ সদস্য জানতে চান, ‘মুজিব বর্ষ’ উদযাপন উপলক্ষে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন, শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি ও বেদি নির্মাণ, সরকারি দপ্তরগুলোতে ব্রোঞ্জ, তামা ও মার্বেল পাথরের ভাস্কর্য স্থাপন এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে সময় গণনার ডিজিটাল বোর্ড তৈরিতে সরকারের মোট কত টাকা ব্যয় হয়েছে। পাশাপাশি এ বিপুল ব্যয়ের বিষয়ে সরকার কোনো ব্যবস্থা নেবে কি না—তাও জানতে চান তিনি। জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, ‘মুজিব বর্ষ’ উদযাপন উপলক্ষে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন, শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি ও বেদি নির্মাণ, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে ব্রোঞ্জ, তামা ও মার্বেল পাথরের ভাস্কর্য স্থাপন এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে সময় গণনার ডিজিটাল বোর্ড তৈরিসহ বিভিন্ন খাতে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগ মিলিয়ে মোট ৯৮২ কোটি ৯১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। তিনি আরও জানান, এ-সংক্রান্ত ‘মুজিব বর্ষ উদযাপন বাবদ ব্যয়ের বিবরণী’ শীর্ষক একটি বিস্তারিত তালিকা লিখিত উত্তরের সঙ্গে সংযুক্ত করে জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হয়েছে।
ধনী ও করপোরেটদের কর ফাঁকি রোধে প্রযুক্তির ব্যবহার হবে: সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত করের বোঝা না চাপিয়ে বড় বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠান ও ধনীদের কর ফাঁকি বন্ধ করতে সরকার বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এ লক্ষ্যে কর আদায়ে স্বচ্ছতা আনতে খুব শিগগিরই ই-রিটার্ন ব্যবস্থা আরও সম্প্রসারণ এবং প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা হচ্ছে।নওগাঁ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. ফজলে হুদার এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, করদাতাদের তথ্যভাণ্ডার সমৃদ্ধ করতে সরকারের অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে এপিআই সংযোগের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। কোনো খাত থেকে কী পরিমাণ কর আসা উচিত, তা যাচাই করতে ঝুঁকি-ভিত্তিক নিরীক্ষা ও অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। যারা ইচ্ছাকৃতভাবে কর ফাঁকি দিচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও চলমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম ফজলুল হক মিলনের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নানামুখী পদক্ষেপের ফলে ২০২৫ সালের অক্টোবরে মূল্যস্ফীতি ৮.১৭ শতাংশে নেমে এসেছিল। তবে আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাবে ২০২৬ সালের মে মাসে তা আবার বেড়ে ৯.৪২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাজারে অতিরিক্ত চাহিদাজনিত মূল্যস্ফীতি কমাতে নীতি সুদহার (রেপো রেট) ১০ শতাংশের মতো উচ্চস্তরে বহাল রাখা হয়েছে। তিনি আরও জানান, কেবল চাহিদা নয়, পণ্যের জোগান সংকটের কারণেও মূল্যস্ফীতি হচ্ছে। এই সংকট কাটাতে বাংলাদেশ ব্যাংক ৬০ হাজার কোটি টাকার একটি বিশাল প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে ৪১ হাজার কোটি টাকা আসবে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর অতিরিক্ত তারল্য থেকে এবং বাকি ১৯ হাজার কোটি টাকা জোগান দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক। আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আশা প্রকাশ করে বলেন, এই প্যাকেজ বাস্তবায়িত হলে উৎপাদন ও সরবরাহ বাড়বে, যা মূল্যস্ফীতি কমিয়ে আনতে বড় ভূমিকা রাখবে। এছাড়া ডলারের বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখতে বাজারভিত্তিক নমনীয় হার ব্যবস্থা অব্যাহত রাখা হয়েছে বলেও তিনি সংসদকে জানান।
বিনা জামানতে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাবেন নতুন উদ্যোক্তারা: নতুন উদ্যোক্তারা বিনা জামানতে সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ সুদে ১০ লাখ টাকা এবং জামানতের বিপরীতে সর্বোচ্চ ৩৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা পাবেন বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বিকেল ৩টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়। অর্থমন্ত্রী বলেন, তরুণ উদ্যোক্তাদের সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা দিতে বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব অর্থায়নে পরিচালিত কটেজ, মাইক্রো ও ক্ষুদ্র (সিএমএসএমই) খাতের নতুন উদ্যোক্তা পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের তহবিল ১০০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০০ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। তিনি জানান, এ তহবিল থেকে নতুন উদ্যোক্তারা বিনা জামানতে সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ সুদে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত এবং জামানতের বিপরীতে সর্বোচ্চ ৩৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন। স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, তাদের ঋণপ্রাপ্তি সহজ করতে ‘স্টার্ট-আপ ফান্ড’ নামে ৫০০ কোটি টাকার একটি পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করা হয়েছে। এ তহবিল থেকে উদ্যোক্তারা মাত্র ৪ শতাংশ সুদে ঋণ নিতে পারবেন। তিনি আরও জানান, ৩৯টি তফসিলি ব্যাংকের অংশীদারিত্বে ‘বাংলাদেশ স্টার্ট-আপ ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি পিএলসি’ গঠন করা হয়েছে। এ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সম্ভাবনাময় স্টার্টআপগুলো ইক্যুইটি বিনিয়োগ সুবিধা পাবে। বেকারদের কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, শিক্ষিত ও অর্ধশিক্ষিত বেকারদের স্বল্প সুদে ঋণ দিতে কর্মসংস্থান ব্যাংকের মাধ্যমে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার একটি নতুন তহবিল গঠনের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। তিনি বলেন, সরকারের এসব কর্মসূচি দেশের অন্যান্য জেলার মতো কুড়িগ্রামেও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।




