সারাদেশ

মাদারগঞ্জে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে প্রবাসীকে হাত-পা বেঁধে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ

খাদেমুল ইসলাম, নিজস্ব প্রতিবেদক:
জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় আশেক মিয়া (৩৫) নামে এক প্রবাসীকে অপহরণ করে হাত-পা বেঁধে নির্যাতন ও শ্বাসরোধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের এক নেতাসহ তার পরিবারের বিরুদ্ধে। গত সোমবার (৬ জুলাই) রাতে উপজেলার আদারভিটা ইউনিয়নের গুণেরবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
শুক্রবার (১০ জুলাই) অবস্থার অবনতি হলে আশেক মিয়াকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।এ ঘটনায় আশেক মিয়ার বাবা মাখন মিয়া বাদী হয়ে মাদারগঞ্জ মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগে আদারভিটা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ভাষানী, তার দাদা শাহজাহান খান, বাবা রফিকুল ইসলাম অক্কু, মা জোলেখা আক্তার ও আশেক মিয়ার স্ত্রী মাহমুদা আক্তারের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। ভুক্তভোগী ও অভিযুক্তরা একই এলাকার বাসিন্দা।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার (৬ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে পূর্ববিরোধের জেরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ছাত্রলীগ নেতা ভাষানী ও তার পরিবারের সদস্যরা দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে আশেক মিয়ার পরিবারের ওপর হামলা চালান। এ সময় স্টিলের বাক্সের তালা ভেঙে ১৮ লাখ টাকা ও দুই ভরি স্বর্ণালংকার লুট করা হয়। পরে অভিযুক্তরা আপস-মীমাংসার কথা বলে সালিশ বৈঠকের প্রস্তাব দিলেও তা অমান্য করে পুনরায় ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, সোমবার রাত ৮টার দিকে মির্জা আজম কলেজ প্রাঙ্গণ থেকে আশেক মিয়াকে তুলে নিয়ে রফিকুল ইসলাম অক্কুর বাড়িতে নেওয়া হয়। সেখানে একটি কক্ষে তার হাত-পা বেঁধে নির্যাতন চালানো হয় এবং শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা করা হয়। খবর পেয়ে স্বজনরা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ও স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে মাদারগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। শুক্রবার (১০ জুলাই) দুপুরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
আশেক মিয়ার বড় বোন মাহফুজা বলেন, আমার ভাই বিদেশ থেকে দেশে এসে তার স্ত্রীর কাছে বিদেশ থেকে পাঠানো টাকার হিসাব চাইলে তিনি তা দিতে রাজি হননি। এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে ভাই রাগের মাথায় তাকে একটি থাপ্পড় দেন। এর জেরে তার মেয়ের জামাই ছাত্রলীগ নেতা ভাসানী ও পরিবারের সদস্যরা আমার ভাইকে তুলে নিয়ে গিয়ে হাত-পা বেঁধে ঘরের দরজা বন্ধ করে হত্যার উদ্দেশ্যে অমানবিক নির্যাতন চালায়। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। এখন আমার ভাই মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। আমরা নিরীহ মানুষ। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।
ছোট ভাই জাহিদুল ইসলাম বলেন,
আমার ভাইয়ের স্ত্রীর বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। ফোনে পরিচয়ের মাধ্যমে তাদের বিয়ে হয়। কিন্তু বিয়ের সময় তিনি তার আগের সংসারের মেয়ের বিষয়টি গোপন রাখেন এবং তাকে ভাগ্নি পরিচয়ে আমাদের পরিবারের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। পরে ওই মেয়ের বিয়ে আমাদের এলাকার মাদকাসক্ত যুবক ও ছাত্রলীগ নেতা ভাসানীর সঙ্গে দেন। আমার ভাই বিদেশ থেকে যে টাকা পাঠাতেন, তার অধিকাংশই স্ত্রী তার মেয়ে ও মেয়ের জামাইকে দিতেন। দেশে ফিরে ভাই টাকার হিসাব চাইলে এ নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়। পরে ভাসানী ও তার সহযোগীরা আমার ভাইকে তুলে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন করে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।
মাদারগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. জাকারিয়া ইসলাম বলেন, গত ৬ জুলাই রাতে আশেক মিয়াকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শুক্রবার দুপুরে তার অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্নেহাশীষ রায় বলেন, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযুক্তদের বাড়িতে গিয়ে তাদের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

Back to top button
error: Content is protected !!