আন্তর্জাতিক

চীনের দিকে ধেয়ে আসছে টাইফুন নউল, সরিয়ে নেওয়া হলো ২০ হাজারের বেশি মানুষ

প্রবল বৃষ্টি ও ঝোড়ো বাতাসের আশঙ্কায় চীনের দক্ষিনাঞ্চল থেকে ২০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং রেল চলাচল স্থগিত করা হয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, টাইফুন নউল উপকূলের দিকে এগিয়ে আসছে। চীনের জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র জানিয়েছে, গতকাল শনিবার সন্ধ্যা থেকে রোববার সকালের মধ্যে হংকং থেকে গুয়াংডং প্রদেশ পর্যন্ত উপকূলীয় এলাকায় টাইফুনটি আঘাত হানতে পারে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র। গতকাল শনিবারও আবহাওয়া কেন্দ্র চার স্তরের সতর্কতা ব্যবস্থার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্তর ‘কমলা সতর্কতা’ বহাল রেখেছে। এর আগে সংস্থাটি জানিয়েছিল, গুয়াংডং ও পার্শ্ববর্তী ফুজিয়ান প্রদেশের কিছু এলাকায় প্রবল ঝোড়ো বাতাস ও ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, শুক্রবার রাত পর্যন্ত গুয়াংডং প্রদেশে ২০ হাজারের বেশি মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সাগরে থাকা মাছ ধরার নৌযানগুলো ঝড় থেকে নিরাপদ থাকতে বন্দরে ফিরে এসেছে বলে জানিয়েছে সিসিটিভি। সিসিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গতকাল শনিবার সকালে গুয়াংডংয়ে কয়েকটি ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকবে এবং গত রোববার প্রদেশটির সব ট্রেন পরিষেবা স্থগিত থাকবে। স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, গুয়াংডং প্রদেশের চাওঝৌ শহরের স্কুলগুলোকে ক্যাম্পাসে সব ধরনের শিক্ষা ও অন্যান্য কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চলতি মাসেই চীনের দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলে চরম আবহাওয়া ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছে। গুয়াংশি অঞ্চলে টাইফুন মায়সাকের কারণে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় ৩৯ জন নিহত হয়েছেন। মায়সাকের প্রভাবে মধ্যাঞ্চলীয় হুবেই প্রদেশে বজ্রঝড় ও প্রবল বাতাসে আরও ১১ জন নিহত এবং ৩৩১ জন আহত হয়। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলে আসছেন, জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহারের কারণে পৃথিবীর উষ্ণতা বাড়তে থাকায় বিশ্বজুড়ে চরম আবহাওয়ার ঘটনা আরও ঘন ঘন এবং তীব্র হতে পারে। চীন বিশ্বের সবচেয়ে বেশি গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণকারী দেশ হলেও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে এটি বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ শক্তি। ২০৬০ সালের মধ্যে নিজেদের অর্থনীতিকে কার্বন-নিরপেক্ষ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে বেইজিং।

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

Back to top button
error: Content is protected !!