আন্তর্জাতিক

ইসরায়েলের হাইফার পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনায় হামলার দাবি ইরানের

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা আরও তীব্র আকার নিয়েছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তাদের একটি পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনায় ‘যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি’ হামলার জবাবে ইসরায়েলের হাইফা শহরের একটি পেট্রোকেমিক্যাল ও রাসায়নিক কারখানায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। আল জাজিরা জানিয়েছে, এই হামলার পর অঞ্চলজুড়ে নতুন করে নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আইআরজিসির ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। বাহিনীটি এক বিবৃতিতে বলেছে, ইসরায়েল বেসামরিক স্থাপনা ও তেল শিল্পকে লক্ষ্যবস্তু করে একটি বিপজ্জনক পরিস্থিতির সূচনা করেছে। ইরানের দাবি, সোমবার (৮ জুন) ইসরায়েল তাদের মাহশাহরের কারুন পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সে হামলা চালানোর পর তারা পাল্টা জবাব দিয়েছে। এই শিল্পপ্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক উৎপাদন করে। এর মধ্যে টলুইন ডাইআইসোসায়ানেটও রয়েছে, যা এই অঞ্চলে ইরানের অন্যতম বিশেষায়িত পণ্য। আইআরজিসি সতর্ক করে বলেছে, বেসামরিক ও জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা অব্যাহত থাকলে এর প্রভাব শুধু দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। তাদের ভাষায়, “জায়নবাদী শত্রু একটি বিপজ্জনক খেলা শুরু করেছে। এর পরিধি পুরো অঞ্চলের জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে ঘিরে ফেলতে পারে এবং এর পরিণতি বিশ^ অর্থনীতিতেও পড়বে।”
বাহিনীটির দাবি, এমন পরিস্থিতির দায় যুক্তরাষ্ট্রকেও বহন করতে হবে। তবে ইরানের এই হামলার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি ইসরায়েল। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। রোববার (৭ জুন) লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ইসরায়েলের হামলার পর ইরান ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। সে সময় আইআরজিসি জানিয়েছিল, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনা আর মেনে নেওয়া হবে না এবং প্রয়োজনীয় জবাব দেওয়া হবে। বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি ও পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করার ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে নতুন ঝুঁকির দিকে ঠেলে দিতে পারে। কারণ, এই অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামো বৈশি^ক তেল ও গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ফলে সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার এবং বিশ^ অর্থনীতিতে এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। আল জাজিরা বলছে, উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলা পরিস্থিতিকে আরও অস্থির করে তুলছে এবং অঞ্চলজুড়ে নতুন সংঘাতের শঙ্কা বাড়াচ্ছে।

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

Back to top button
error: Content is protected !!