আন্তর্জাতিক

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন

মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি স্থাপনের আশা ম্লান হয়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে ডলার ও তেলের দাম বেড়েছে, যার সরাসরি প্রভাবে স্বর্ণের দামে বড় ধরনের পতন ঘটেছে। গতকাল মঙ্গলবার দিনের শুরুতে তিন সপ্তাহের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে স্বর্ণের দাম অনেকটাই নিচে নেমে এসেছে। খবর রয়টার্সের। এই দরপতনের পেছনে মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি আলোচনায় অচলাবস্থাকে প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের দেওয়া শর্তগুলোকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করায় সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অস্থিরতা বাড়িয়েছে। এছাড়া হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় তেলের দাম বৃদ্ধি মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে, যার ফলে সুদের হার কমার সম্ভাবনাও কমে যাচ্ছে। একই সময়ে মার্কিন ডলারের মান শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ শক্তিশালী হওয়া ও ট্রেজারি বন্ডের মুনাফা এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোয় অন্যান্য মুদ্রার ক্রেতাদের জন্য স্বর্ণ কেনা আরও ব্যয়বহুল ও কম আকর্ষণীয় হয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে গতকাল মঙ্গলবার স্পট গোল্ডের দাম শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স চার হাজার ৬৯৮ দশমিক ২২ ডলারে নেমেছে। স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও হ্রাস পেয়েছে; যার মধ্যে রুপার দাম ২ দশমিক ৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৮৪ দশমিক ৫ ডলারে নেমেছে এবং প্ল্যাটিনাম ৩ দশমিক ১ শতাংশ ও প্যালাডিয়ামের দাম ১ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, স্বর্ণের দাম বর্তমানে একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে আটকে আছে, যেখানে চার হাজার ৫০০ ডলারের স্তরটি দাম ধরে রাখার জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে। বিনিয়োগকারীরা এখন গভীর আগ্রহে বুধবারের ট্রাম্প-শি জিনপিং বৈঠকের দিকে তাকিয়ে আছেন, কারণ সেখানে মধ্যপ্রাচ্য সংকট নিয়ে বড় কোনো সিদ্ধান্ত আসতে পারে। এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের এপ্রিল মাসের মুদ্রাস্ফীতির তথ্য আসার পর দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার নিয়ে কী পদক্ষেপ নেয়, তার ওপরেই স্বর্ণের দামের পরবর্তী ওঠা-নামা নির্ভর করবে।

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

Back to top button
error: Content is protected !!