জাতীয়প্রধান খবর

‘রাতারাতি’ বড় পরিবর্তন সম্ভব নয়, আইএমএফও একমত: অর্থমন্ত্রী

দেশের অর্থনীতিতে ‘রাতারাতি’ বড় পরিবর্তন সম্ভব নয় এবং বিষয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলও (আইএমএফ) এমকত বলে দাবি করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। গতকাল সোমবার সচিবালয়ে আইএমএফ প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকের পর ব্রিফিংয়ে এসে মন্ত্রী এ অগ্রগতির কথা শোনান। মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতেও বৈঠকের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। মন্ত্রী বলেন, “আইএমএফের সঙ্গে নতুন কর্মসূচি কোন ভিত্তিতে পরিচালিত হবে, তা পরিষ্কার করা হয়েছে এবং প্রস্তাবিত ভিত্তিসমূহের ওপর তারা সম্পূর্ণ একমত পোষণ করেছেন। “সংস্কার কর্মসূচির ধারাবাহিকতা বজায় রেখে দেশের অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে ধাপে ধাপে পরিবর্তনগুলো আনা হবে। রাতারাতি কোনো বড় পরিবর্তন সম্ভব নয় এবং আইএমএফ এ বিষয়ে সহমত প্রকাশ করেছে।” নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা শুরু করতে ঢাকায় আসা ১২ সদস্যের আইএমএফ প্রতিনিধিদল এদিন অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। আগের দিনও অর্থমন্ত্রী ও বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বসেন তারা। সোমবারের বৈঠক প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারের আর্থিক সংস্কার ও রাজনৈতিক দায়িত্বশীলতার প্রতি আইএমএফ প্রতিনিধিদল সম্মান জানিয়েছে। “আইএমএফের সঙ্গে বাংলাদেশের আগামী দিনের নতুন কর্মসূচির ভিত্তি ও সিকোয়েন্সিং নিয়ে এবং নীতিমালার সার্বিক দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে।” মন্ত্রীর ভাষ্য, “বর্তমান সরকারের চার মাসে আর্থিক খাতের সংস্কার, শেয়ার বাজার ও ক্যাপিটাল মার্কেটের উন্নয়ন এবং রাজস্ব আদায়ে দৃশ্যমান অগ্রগতিতে আইএমএফ প্রতিনিধি দল সন্তোষ প্রকাশ করেছে। “দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মাত্র চার মাসে ট্যাক্স আদায়কে একটি বড় অর্জন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই ইতিবাচক ধারা বজায় রেখে ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত আরও বাড়াতে সরকারের প্রস্তাবনাসমূহ নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।” আইএমএফের নতুন কর্মসূচি কী হবে, কত ঋণ পেতে পারে বাংলাদেশ এবং তার আওতায় কী কী শর্ত মানতে হবে, তা কোনো পক্ষ এখনও খোলাসা করেনি। তবে প্রতিনিধি দলের প্রথম আলোকে চেনাতেও সরকারি চাকুরেদের বেতন বৃদ্ধির অর্থ জোগান কোত্থেকে আসবে এবং ভর্তুকির অর্থ নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয় আইএমএফের তরফে। সরকার চলতি অর্থবছরের বাজেটে সরকারি চাকুরেদের বেতন বৃদ্ধির কথা বলে কিন্তু কত টাকা বা শতাংশ করে বাড়বে, কীভাবে বাস্তবায়ন হবে, কবে নাগাদ নতুন বেতন মিলবে বা কত বরাদ্দইবা রাখা হবে তার স্পষ্ট করেনি সরকার। আলোচনায় ভর্তুকি প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, “এখনই সুনির্দিষ্ট ডিটেইলস বা শর্ত নিয়ে আলোচনা হয়নি। মূলত নতুন কর্মসূচির মূল ভিত্তি তৈরি নিয়ে কথা হয়েছে। “পরবর্তী সময়ে বিস্তারিত আলোচনার টেবিলে সকল বিষয়গুলো আসবে।” এই আলোচনা একটি চলমান প্রক্রিয়া বলে অর্থমন্ত্রী তুলে ধরে বলেন, “আগামী সেপ্টেম্বর বা অক্টোবরে ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের বার্ষিক সভায় এ বিষয়ে পরবর্তী আলোচনা হবে। “বর্তমান সরকারের সংস্কারমুখী পারফরম্যান্সে আইএমএফ সন্তুষ্ট এবং এই ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েই আগামী দিনের নতুন প্রোগ্রাম চূড়ান্ত করা হবে।” আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে আর্থিক সংকট সামাল দিতে কয়েক দফা আলোচনা শেষে ২০২৩ সালের প্রথম দিকে আইএমএফের সঙ্গে ৪৭০ কোটি (৪.৭০ বিলিয়ন) ডলারের ঋণ চুক্তি করে বাংলাদেশ। এর মধ্যে পাঁচ কিস্তিতে ৩৬৪ কোটি ডলার হাতে পেয়েছে বাংলাদেশ। শর্ত পূর্ণ না হওয়ায় ষষ্ঠ কিস্তির অবশিষ্ট অর্থ আইএমএফ ছাড় করেনি। সরকারও এখন আর ওই কর্মসূচিতে থাকতে আগ্রহী নয়। তার বদলে নতুন কর্মসূচির আওতায় ঋণ চেয়ে গত জুন মাসে আবেদন করে বাংলাদেশ। এর আওতায় তিন বছরে ৪০০ থেকে ৪৫০ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ পাওয়ার আশা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

Back to top button
error: Content is protected !!