ডেনমার্কের সঙ্গে লালদিয়াচর চুক্তি বহাল থাকছে: নৌপরিবহনমন্ত্রী

চট্টগ্রাম বন্দরের লালদিয়াচর কন্টেইনার টার্মিনাল নির্মাণ ও পরিচালনায় ডেনমার্কভিত্তিক এপিএম টার্মিনালসের সঙ্গে করা কনসেশন চুক্তি বাতিল বা পুনঃ চুক্তির কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই বলে সাফ জানিয়েছেন নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. শাহাদাত হোসেনের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) আইন ও সংশ্লিষ্ট নীতিমালা নিখুঁতভাবে অনুসরণ করে বাংলাদেশ ও ডেনমার্ক সরকারের সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) কাঠামোর আওতায় সম্পূর্ণ স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় এই চুক্তিটি সম্পাদন করা হয়েছে। সংসদকে নৌমন্ত্রী জানান, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই অবকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে ২০২১ সালের ৩০ জুন বাংলাদেশ ও ডেনমার্ক সরকারের মধ্যে প্রথম একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৩ সালের ২১ মে ডেনমার্কভিত্তিক মার্স্ক গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এপিএম টার্মিনালস কর্ণফুলী নদীর ডান তীরে লালদিয়াচর এলাকায় একটি কন্টেইনার টার্মিনাল নির্মাণের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেয়। পরবর্তীতে, ২০২৩ সালের ২৯ নভেম্বর অর্থনৈতিক বিষয়ক সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি প্রকল্পটিকে নীতিগত অনুমোদন দেয় এবং ২০২৪ সালের ৩ জানুয়ারি বাংলাদেশ-ডেনমার্ক প্রথম পিপিপি জয়েন্ট প্ল্যাটর্ফম সভায় ডেনমার্ক সরকার এপিএম টার্মিনালসের মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে চূড়ান্ত সম্মতি জানায়। এরপর ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইএফসি) ট্রানজ্যাকশন অ্যাডভাইজার হিসেবে প্রয়োজনীয় ডিউ ডিলিজেন্স ও সব আইনি পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করার পর ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও এপিএমটি বিভি- এর মধ্যে ঐতিহাসিক কনসেশন চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। মন্ত্রী এই প্রকল্পের সময়সীমা উল্লেখ করে জানান, চুক্তিটির মোট মেয়াদ ৩৩ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে, যার মধ্যে প্রথম তিন বছর নির্মাণকাল এবং পরবর্তী ৩০ বছর পরিচালনাকাল হিসেবে গণ্য হবে। তবে চুক্তির শর্তানুযায়ী পরবর্তীতে আরও ১৫ বছর এই মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগ রাখা হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরের খালি জায়গায় নির্মিতব্য এই অত্যাধুনিক টার্মিনালে ডেনমার্কভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি ৫৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করবে। বিপুল পরিমাণের এই আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের ফলে চট্টগ্রাম বন্দরের কন্টেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে, দেশের অর্থনীতিতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং বৈশি^ক উন্নত প্রযুক্তি স্থানান্তরের এক বিশাল সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।




