জাতীয়প্রধান খবর

জাতীয়তাবাদের দর্শনই আমাদের অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয়: তথ্যমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, রাষ্ট্রনায়ক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান প্রবর্তিত বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শনই দেশের সকল ভাষা, ধর্ম, সংস্কৃতি ও নৃগোষ্ঠীকে ধারণ করে গড়ে ওঠা একমাত্র অন্তর্ভুক্তিমূলক ও গ্রহণযোগ্য জাতীয় পরিচয়। তিনি বলেন, আধুনিক জাতীয়তাবাদের ধারণায় কোনো নির্দিষ্ট গোত্র, ভাষা, বর্ণ কিংবা ধর্ম আর জাতীয় পরিচয়ের একক নির্ধারক নয়। বরং একটি ভূখণ্ডের বহুমাত্রিকতা, অভিন্ন স্বার্থ ও যৌথ ভবিষ্যৎ নির্মাণের আকাক্সক্ষাকে ধারণ করেই এই আধুনিক জাতীয় পরিচয় গড়ে উঠেছে। গতকাল বুধবার সকালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ইউনিভার্সিটি টিচার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব) জবি শাখা এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ভারতীয় উপমহাদেশে ধর্মের ভিত্তিতে পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলেও শুধু ধর্ম দিয়ে বহুমাত্রিক রাষ্ট্রকে ঐক্যবদ্ধ রাখা যায়নি, যার ঐতিহাসিক পরিণতি ৫২-এর ভাষা আন্দোলন ও ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ। মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ জিয়াউর রহমানের সাহসিকতা, স্বাধীনতার ঘোষণা ও নেতৃত্ব ইতিহাসের প্রমাণিত সত্য। তবে স্বাধীনতার পরও কেবল ভাষাভিত্তিক পরিচয় দেশের সব জনগোষ্ঠীর কাছে সমভাবে গ্রহণযোগ্য না হওয়ায় পরিচয়গত সংকট থেকেই যায়। এই বাস্তবতায় শহীদ জিয়া নাগরিকভিত্তিক ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’-এর দর্শন উপস্থাপন করেন। জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শনে কোনো চাকমা, মারমা, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী কিংবা ভিন্ন ধর্মবিশ্বাসী মানুষের পরিচয়গত সংকট নেই। কোনো একটি সংস্কৃতিকে প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে অন্য সংস্কৃতিকে অস্বীকার করারও সুযোগ নেই। ‘প্রথমেও বাংলাদেশ, শেষেও বাংলাদেশ’Ñ এই দর্শনই দেশের সব নাগরিককে সমান মর্যাদায় একটি অভিন্ন জাতীয় পরিচয়ের বন্ধনে আবদ্ধ করেছে এবং ভৌগোলিক অখণ্ডতা বজায় রাখার মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে। বৈদেশিক সম্পর্কের বিষয়ে মন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, সকলেই আমাদের বন্ধু, তবে আমরা বন্ধুত্বের চর্চা করব বাংলাদেশের স্বার্থের ভিত্তিতে। দেশের স্বার্থের বাইরে বাংলাদেশের আর কোনো বিকল্প ঠিকানা নেই। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই দর্শন থেকে বিচ্যুত যেকোনো চিন্তা জাতীয় ঐক্যকে দুর্বল করতে পারে। সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমান ছিলেন আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের সিপাহী-জনতার বিপ্লবের পর দায়িত্ব নিয়ে তিনি ভঙ্গুর রাষ্ট্রকাঠামোকে সঠিক দিকনির্দেশনা দিয়ে সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত করেছিলেন। সেমিনারে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রইছ উদদীন। ইউট্যাব জবি শাখার সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউট্যাব কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মো. শামছুল আলম, জবি ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন এবং জবি শিক্ষক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মঞ্জুর মুর্শেদ ভূঁইয়া। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইউট্যাব জবি শাখার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. নাছির আহমাদ এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন জবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. ইমরানুল হক।

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

Back to top button
error: Content is protected !!