কাউসার নিহত ইশরাত জাহান মিমির স্বামী নন, হানিট্রাপের শিকার হয়ে করেন হত্যা
জামালপুরের আলোচিত মিমি হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত কাউসারের জবানবন্দিতে বেরিয়ে এলো রহস্য
নিজস্ব প্রতিবেদক:
জামালপুর শহরের শেখেরভিটায় ইশরাত জাহান মিমি হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত কাউসার আহমেদ খানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-পিবিআই। সোমবার বিকালে শহরের বাগেরহাটা এলাকা থেকে কাউসারকে গ্রেফতার করা হয়। অভিযুক্ত কাউসারের জবানবন্দিতে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য, হত্যাকারী স্বামী না, হত্যার শিকার মিমির হানিট্রাপের শিকার।
মঙ্গলবার দুপুরে জামালপুর পিবিআই কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত জানান, তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় আলোচিত ইশরাত জাহান মিমি হত্যা মামলা আসামী মো: কাউসার আহমেদ খানকে সোমবার বিকালে জামালপুর শহরের বাগেরহাটা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত কাউসারের জবানবন্দি পর্যালোচনা করে জানা যায়, ২০১৪ সালে ইশরাত জাহান মিমির সাথে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার শাওন নামে একজনের বিয়ে হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে এক মেয়ে ও এক ছেলে সন্তান রয়েছে। ২০২১ সালে স্বামীর মারা গেলে ইশরাত জাহান তার সন্তানদের নিয়ে জামালপুর শহরে বসবাস করতে থাকে। প্রায় তিন বছর আগে কাউসার আহমেদ খানের রাফি স্টোর নামক মনোহারি দোকানে কেনা কাটা করার সুবাধে ইশরাতের পরিচয় হয়। ইশরাত জাহান স্বামী কাতারে থাকে জানিয়ে মিথ্যা তথ্য দিয়ে নিয়মিত কাউসার আহমেদের দোকানে গিয়ে নগদ ও বাকীতে কেনা কাটা করতো। দোকানের বকেয়া টাকা পরিশোধ করার জন্য কাউসারকে ইশরাত বাসায় ডেকে নিয়ে যায়। কাউসার বাসায় গেলে ইশরাত জাহান মিমি পরিকল্পিতভাবে কাউসারকে জড়িয়ে ধরে কান্না করে এবং জানায় তার স্বামী কিছুদিন আগে মারা গিয়েছে। ঐদিনই ইশরাত জাহান মিমির অনৈতিক প্রলোভনে কাউসার শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়ে যায়। শারীরিক সম্পর্কের বিষয়টি ইশরাত পরিকল্পিতভাবে গোপনে ভিডিও ধারণ করে রাখে। পরবর্তীতে কাউসারকে ধারাবাহিকভাবে ব্ল্যাকমেইল করে মোটা অংকের অর্থ আদায় করতে থাকে এবং উচ্চাভিলাষী জীবন যাপন শুরু করে। ইশরাত নিজেও ইয়াবা সেবন করতো, একইসাথে কাউসারকে ইয়াবা সেবনে আসক্ত করে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করার অপচেষ্টা করতে থাকে। এভাবে কাউসার তার সঞ্চিত অর্থ শেষ করার পর সে জামালপুর শহরস্থ জায়গা জমি বিক্রিসহ মা ও স্ত্রীর স্বর্ণালংকার বিক্রির ইশরাতের পিছনে ব্যয় করে। এছাড়াও ইশরাত ব্ল্যাকমেইল করার জন্য বিভিন্ন লোকজনদেরকে টার্গেট করতো এবং কাউসারকে সেই সমস্ত লোকজনদের ফাঁদে ফেলে বাসায় নিয়ে আসতে চাপ প্রয়োগ করতো। এসব কাজ করতে অস্বীকৃতি জানালে ইশরাত ও কাউসারের মধ্যে সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ঘটনার দিন ইশরাত কাউসারকে ফোন করে তার ভাড়া বাসায় নিয়ে যায় এবং মোটা অংকের টাকা দাবি করলে তাদের মধ্যে বাকবিতন্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে ইশরাত জাহান কাউসারের স্ত্রীকে ফোন দিয়ে তাদের অবৈধ সম্পর্কের কথা জানিয়ে দেয় এবং কাউসার তার সাথেই আছে বলে কাউসারের সাথে তার স্ত্রীকে কথা বলিয়ে দিতে গেলে কাউসার কথা বলতে না চাওয়ায় তাদের ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে কাউসার ইশরাত জাহান মিমির গলা চেপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
উল্লেখ্য, গত ২৩ আগস্ট সকালে জামালপুর শহরের শেখেরভিটা এলাকায় একটি বাসার ৫ম তলা থেকে ইশরাত জাহান মিমি নামে একজনের মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সে সময় নিহতের মেয়ে হত্যাকারীকে নিজের বাবা পরিচয় দিয়ে মা হত্যার বিবরণ দেয়। পরদিন ২৪ আগস্ট নিহতের মা মুক্তা বেগম জামালপুর সদর থানায় মো: কাউসার আহমেদ খানসহ অজ্ঞাতনামা ২ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে।




