আন্তর্জাতিক

ইসরায়েল ও ইরানকে যুদ্ধ থামানোর আহ্বান ট্রাম্পের

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার মধ্যে ইসরায়েল ও ইরানকে একে অপরের ওপর হামলা অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার (৮ জুন) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত বার্তায় তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “ইসরায়েল ও ইরানকে অবিলম্বে গুলি চালানো বন্ধ করতে হবে।”
টাইমস অব ইসরায়েল ও বিবিসি জানায়, ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন সময়ে এলো, যখন দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সামরিক অভিযান নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা বাড়িয়েছে। ইরানের রাজধানী তেহরানে একাধিক বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। দেশটির মেহর নিউজ এজেন্সি দাবি করেছে, তেহরানের আকাশে উড্ডয়নরত একটি ‘যুক্তরাষ্ট্র-জায়নবাদী শত্রুপক্ষের বৈরী ড্রোন’ ভূপাতিত করা হয়েছে। অন্যদিকে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তাদের বিমান বাহিনী ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে। সেনাবাহিনীর দাবি, রাতভর পরিচালিত এই অভিযানে ডজনখানেক যুদ্ধবিমান ইরানের কৌশলগত প্রতিরক্ষা স্থাপনাগুলোতে আঘাত হেনেছে। সংঘাতের এই পরিস্থিতি চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকেও জটিল করে তুলতে পারে বলে মনে করছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, ইসরায়েল ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান অস্থির কূটনৈতিক প্রক্রিয়াকে আরও কঠিন করে তুলবে। তার ভাষায়, “এই ঘটনা ওয়াশিংটনের প্রতি তেহরানের সন্দেহ ও অবিশ^াস আরও বাড়িয়ে দেবে।”
ইসমাইল বাঘাই আরও অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি দায়ী। তার দাবি, ওয়াশিংটনের সঙ্গে সমন্বয় ছাড়া ইসরায়েল স্বাধীনভাবে কোনো গুরুত্বপূর্ণ সামরিক পদক্ষেপ নেয় না। বিবিসি জানায়, এর আগে ট্রাম্প ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকেও সংযম দেখানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন। প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়ার কথাও উঠে এসেছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে। আল জাজিরা ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক তৎপরতাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। এর জেরে ইরান উত্তর ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। পরে ইসরায়েলও ইরানের বিভিন্ন স্থানে পাল্টা হামলা চালায়। বিশ্লেষকদের মতে, এই পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত থাকলে মধ্যপ্রাচ্যে আরও বড় ধরনের আঞ্চলিক সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির আহ্বান কূটনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলেও মাঠের বাস্তবতায় দুই পক্ষ কতটা সংযম দেখাবে, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল, বিবিসি, আল জাজিরা।

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

Back to top button
error: Content is protected !!