Home মতামত ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগে বাস্তচ্যুত হচ্ছে মানুষ

ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগে বাস্তচ্যুত হচ্ছে মানুষ

by বাংলা টুডে ডেস্ক
৭০ views

মহানন্দ অধিকারী মিন্টু:
জলবায়ু পরিবর্তনে উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। গত তিন দশকে সামুদ্রিক ঘুর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও নদী ভাঙন সুন্দরবন উপকূলীয় জনপদগুলো লন্ডভন্ড করে দিয়েছে। গ্রীণ হাউস প্রতিক্রিয়ায় বিশ্বব্যাপী তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে এক দিকে যেমন সমুদ্র পৃষ্টের তলদেশ উঁচু হয়ে যাচ্ছে অন্যদিকে নদ-নদীর নাব্যতা হারিয়ে গতিপথে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। ফলে জলবায়ু পরিবর্তন জনিত কারণে সমুদ্রের পানি উপকূলীয় এলাকায় উপচে পড়ছে। ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগে লক্ষ লক্ষ মানুষ সহায় সম্বল হারিয়ে সর্বশান্ত হচ্ছে। হচ্ছে বাস্তচ্যুত।
১৯৮৮ সালের ২৯ নভেম্বর সুন্দরবন উপকূলে প্রলয়ংকরী সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড়, ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিলে চট্রগ্রাম কক্সবাজার অঞ্চলে স্মরণকালের ভয়াবহ সামুদ্রিক ঝড়, ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর বাগেরহাট, বরগুনা, পটুয়াখালী উপকূলে সিডরের তান্ডব এবং ২০০৯ সালের ২৫ মে খুলনা, সাতক্ষীরা উপকূলে আইলার ভয়াবহ জলোচ্ছ্বাসে গোটা উপকূলীয় এলাকার প্রাকৃতিক দৃশ্যপট পাল্টে দিয়েছে। এ ছাড়া আইলা, আম্ফান, নার্গিস ইয়াসের মতো ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস এই এলাকার মানুষের ব্যাপক ক্ষতি হয়।

এর সাথে নতুন মাত্রায় নদী ভাঙন যোগ হয়ে লন্ডভন্ড করে দিচ্ছে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। পাইকগাছা, কয়রা, দাকোপ, আশাশুনি ও শ্যামনগর উপজেলায় প্রতিনিয়ত বেড়িবাঁধ নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। উপর্যুপরি নদী ভাঙন কেড়ে নিচ্ছে শত শত একর কৃষি জমি, বসতভিটা, চিংড়িঘের ও রাস্তাঘাট। চলতি বর্ষা মৌসুমে কয়রা-পাইকগাছায় অনেক এলাকায় ভয়াবহ নদ-নদীর ভাঙন দেখা দিয়েছে। দিন যতই পার হচ্ছে উপকূলীয় এলাকার মানুষ জলবায়ুর বিরূপ প্রভাবে ততই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনেকে বাস্তভিটা জমি জায়গা হারিয়ে এলাকা ছেড়ে অন্যত্র পাড়ি জমিয়েছে।

দাতাসংস্থা ও জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন বিশেষজ্ঞরা বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলগুলো পরিদর্শন করে টেঁকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও দুর্যোগের ঝুঁকিহ্রাস কমাতে সরকারকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়েছেন। জলবায়ু ফান্ডের অর্থায়ণে সরকার উপকূলীয় এলাকার উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। বিভিন্ন সংস্থা সরকারের মাধ্যমে বাঁধ সংস্কার, কাঁচা রাস্তা নির্মাণ, ঝড় সহনশীল ঘর তৈরী, পয়নিষ্কাশন কার্যক্রম বাস্তবায়ন, গভীর অগভীর নলকূপ স্থাপন, রেইন ওয়াটার হার্ভেষ্টিং প্রকল্প বাস্তবায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। বে-সরকারি অনেক সংস্থা দেশের উপকূলীয় বেশ কয়েকটি জেলার মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে অবকাঠামোগত প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্পগুলোর কাজ শেষ হলে সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চলের লাখ লাখ মানুষ ঝড় জলোচ্ছ্বাস জনিত প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবল থেকে কিছুটা হলেও রেহাই পাবে।

সম্প্রতি সরকারের পাশাপাশি দাতা সংস্থার অর্থায়ণে সুন্দরবন সংলগ্ন নদ-নদীর কিনার ড্যাম্পিং করে বেড়িবাঁধে ব্লক বসানোর কারণে নদী ভাঙন কিছুটা কমেছে। উপকূলীয় এলাকার বেড়িবাঁধ রক্ষায় দাতা সংস্থাদের বাস্তবায়নাধীন চলমান প্রকল্প চালু থাকলে জলবায়ু পরিবর্তন জনিত কারণে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসের ক্ষয়ক্ষতি থেকে এ অঞ্চলের জনসাধারনের জানমাল অনেকটা রক্ষা করা সম্ভব হবে। ইতোমধ্যে কয়রা-পাইকগাছার সংসদ সদস্য মো. আক্তারুজ্জামান বাবুর প্রচেষ্টায় কয়রার টেঁকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ প্রকল্প পাশ হয়েছে। টেন্ডর প্রক্রিয়া শেষে বাঁধের কাজ শুরু করা হবে। তবে এটি তাড়াতাড়ি বাস্তবায়ন চায় এলাকাবাসি।

পাইকগাছা নাগরিক অধিকার বাস্তবায়ন কমিটির প্রতিষ্ঠিতা সভাপতি এ্যাড. প্রশান্ত কুমার মন্ডল বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে উপকূলীয় এলাকায় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। সরকার ও উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় ব্যাপক ক্ষতির দিকটি বিবেচনায় এনে টেঁকসই প্রকল্প হাতে নিয়ে তা বাস্তবায়নে সচেষ্ট রয়েছে। তবে ব্যাপকভাবে অর্থ বরাদ্ধ দিয়ে উপকূলীয় অঞ্চলের বেড়িবাঁধ সংস্কার এবং লবণপানি উত্তোলন বন্ধ করা হলে এ জনপদের মানুষেরা কিছুটা হলেও দুর্যোগের ক্ষতি থেকে রেহাই পাবে বলে তিনি মনে করেন।

(মহানন্দ অধিকারী মিন্টু, সাংবাদিক ও লেখক)

আরো পড়ুন

সম্পাদক: শুভ্র মেহেদী

মোবাইল: ০১৯৮৫৮২৭৮৩০
ই-মেইল: jamalpur.banglatoday.2022@gmail.com

মিডিয়া ক্যাম্পাস, পৌরসুপার মার্কেট (২য় তলা), রানীগঞ্জ বাজার, তমালতলা, জামালপুর।

Developed by Media Text Communications