Home মতামত রাজতন্ত্র-স্বৈরতন্ত্রের ইতিবৃত্ত থেকে বর্তমান

রাজতন্ত্র-স্বৈরতন্ত্রের ইতিবৃত্ত থেকে বর্তমান

by বাংলা টুডে ডেস্ক
৫৭ views

মোমিন মেহেদী:
রাজতন্ত্র কখনোই দেশ-মানুষের কল্যাণে নিবেদিত থাকে না। দু একজন ব্যতিক্রমী রাণী বা রাজা ব্যতিত অধিকাংশ রাজতন্ত্রই স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছে বলে ইতিহাস স্বাক্ষ্য দেয়। সেই ইতিহাসের দৃষ্টিতে রাণী দ্বিতীয় এলিজাবেথ অন্য অনেক রাজতন্ত্রর ধারকের চেয়ে ভিন্ন হলেও আগামীতে কেমন হবে চার্লস তা নিয়ে অত্যন্ত বিচলতি অন্যান্য রাষ্ট্রগুলো।

যে কারণে প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহলে- বিভিন্ন দেশের সাথে কতটা স্থায়ী হবে ব্রিটেন রাজপরিবারের আগামী সম্পর্ক? এ সম্পর্ক ভবিষ্যতে কেমন থাকবে বা আদৌ থাকবে কিনা তা নিয়েও উঠেছে বিভিন্ন ধরণের কথা। কারণ রাজতন্ত্রের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার সম্পর্ক মোটেও সহজ-সরল নয় বরং বেশ জটিল। রাণী দ্বিতীয় এলিজাবেথের মৃত্যু দেশটিতে রিপাবলিক বা প্রজাতন্ত্র ঘোষণার বিতর্ককে আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে।

অস্ট্রেলিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী ম্যালকম টার্নবুল একজন কট্টর রিপাবলিকান হলেও টিভিতে প্রয়াত রাণীর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তার চোখে জল এসে গিয়েছিল। তবে টার্নবুল স্পষ্ট করেই বলেছেন, অস্ট্রেলিয়াকে প্রজাতন্ত্রে পরিণত করার ওপর গণভোট শিগগিরই হবে না। কিন্তু একদিন এটা হতেই হবে, এটা অবধারিত। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি অ্যালবানিজ বলেছেন, এখন রাণীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের সময়, কিন্তু কোনো এক সময় এ গণভোট হবে।

এ বছরের শুরুর দিকে রাণী হিসেবে এলিজাবেথের ৭০ বছরপূর্তির এক সপ্তাহ আগে অস্ট্রেলিয়ায় একজন প্রজাতন্ত্র বিষয়ক মন্ত্রী নিয়োগ করা হয়। যার দায়িত্ব অস্ট্রেলিয়াকে একটি প্রজাতন্ত্রে পরিণত করা এবং একজন অস্ট্রেলিয়ানকে রাষ্ট্রপ্রধান করা সংক্রান্ত বিষয়গুলো দেখা। মনে করা হয়, ২০২৪ বা ২০২৫ সালে অ্যালবানিজ সরকার দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য নির্বাচিত হলে এ নিয়ে একটি গণভোট হতে পারে। অস্ট্রেলিয়াকে প্রজাতন্ত্র করা হবে কিনা এ প্রশ্নে এর আগে ১৯৯৯ সালে একটি গণভোট হয়েছিল। কিন্তু তাতে বেশির ভাগ অস্ট্রেলিয়ানই রাণীকে রাষ্ট্রপ্রধান রাখার পক্ষে মত দিয়েছিলেন।

অবশ্য ব্যতিক্রমও যে ঘটছে না, তা নয়; যেমন- অস্ট্রেলিয়ার সিডনি শহরের লিটিয়ানা রাকারাকাতিয়া টার্নার বলছিলেন, ‘আমি বড় হয়েছি ‘গড সেভ দ্য কুইন’ গেয়ে, কিন্তু আজই প্রথম গাইছি ‘গড সেভ দ্য কিং’। রাণীর জন্য মন খারাপ লাগলেও চার্লসের জন্য আমি গর্বিত।’ তার মতো আরও অনেক রাজভক্ত অস্ট্রেলিয়ান জড়ো হয়েছিলেন তৃতীয় চার্লসকে রাজা ঘোষণার স্থানীয় অনুষ্ঠানে। প্রচলিত নিয়মানুসারে যদিও রাজা তৃতীয় চার্লস এখন অস্ট্রেলিয়ারও রাজা এবং রাষ্ট্রপ্রধান।

তার মায়ের মৃত্যুর মধ্যে দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ব্রিটিশ রাজতন্ত্রের সম্পর্কের এক নতুন মাত্রার সূচনা হলো। এখন একটা গুরুতর পার্থক্য ঘটে গেছে। রাণী দ্বিতীয় এলিজাবেথই ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে রাজতন্ত্রের সম্পর্কের সবচেয়ে বড় যোগসূত্র। অনেকে বলেছেন, রাণী ছিলেন তাদের পরিবারের সদস্যের মত। সেই রাণীই এখন পরলোকে। রাজা তৃতীয় চার্লসের জন্য অনেক অস্ট্রেলিয়ানেরই শুভেচ্ছার অভাব নেই, কিন্তু তাদের সেন্টিমেন্ট ঠিক একই রকম নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিবিসির সংবাদদাতা শায়মা খলিল।

অস্ট্রেলিয়ানরা রাণীকে যেমন ভালোবাসতেন, তেমনি তাদের স্বাধীন জাতীয় চেতনাও খুব জোরালো। টার্নবুল বলেন, রাণীকে আমরা ভালোবাসি কিন্তু আমরা একটা স্বাধীন দেশ এবং আমাদের রাষ্ট্রপ্রধান আমাদেরই একজনের হওয়া উচিত। টার্নবুল একা নন। পৃথিবীর অনেক দেশ, যারা এক সময় ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের অংশ ছিল, তাদের জনগণের একটা ক্রমবর্ধমান অংশের মধ্যেই কাজ করছে এমন ভাবনা।

এসব দেশের অনেক লোকই ব্রিটেনের রাজতন্ত্রকে আর তাদের রাষ্ট্রের শীর্ষে দেখতে চাইছে না। কিছুকাল আগেই বারবাডোজ ব্রিটিশ রাজতন্ত্র ও ঔপনিবেশিক শাসনের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক ছিন্ন করেছে। তারা রাণী এলিজাবেথকে তাদের রাষ্ট্রপ্রধানের পদ থেকে সরিয়ে দিয়ে পৃথিবীর নবতম প্রজাতন্ত্রে পরিণত হয়েছে। এছাড়া বহুকাল ধরেই প্রজাতন্ত্রে পরিণত হবার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করে আসছে কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের মতো আরও কিছু দেশের অনেকে। একথা সত্য যে, রাণী দ্বিতীয় এলিজাবেথ শুধু ব্রিটেনের রাণীই ছিলেন না, তিনি ছিলেন আরও ১৪টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান। যে দেশগুলোর সবই এক সময় ছিল ব্রিটেনের উপনিবেশ। কিন্তু নতুন রাজা তৃতীয় চার্লসের রাজত্বকালের বাস্তবতা হয়তো হবে অন্য রকম।

বারবাডোজ প্রজাতন্ত্রে পরিণত হবার পর সংবাদমাধ্যমে অবশ্য এখন মনে হচ্ছে যে, এটা এক ডমিনো এফেক্ট সৃষ্টি করতে পারে। অর্থাৎ অল্প কিছুকালের মধ্যেই হয়তো আরও অনেক দেশই ব্রিটেনের রাজাকে তাদের রাষ্ট্রপ্রধানের পদ থেকে সরিয়ে দিতে পারে। বিশেষ করে ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে। এমনকি খোদ ব্রিটেনেও এমন লোকের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে, যারা রাজতন্ত্রের বিলোপ চান। যুক্তরাজ্যকে একটি প্রজাতন্ত্রে পরিণত করতে চান।

গত বছর অর্থাৎ ২০২১ সালের নভেম্বর মাসে এক অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে বারবাডোজ পৃথিবীর নবতম প্রজাতন্ত্রে পরিণত হয় এবং রাষ্ট্রপ্রধানের পদ থেকে রাণী দ্বিতীয় এলিজাবেথকে সরিয়ে দেয়। অনুষ্ঠানে রাজকীয় পতাকাকে শেষ বারের মত সালাম দিয়ে তা নামিয়ে বারবাডোজের পতাকা ওড়ান হয়। সম্মানিত অতিথি হিসেবে তৎকালীন প্রিন্স অব ওয়েলস যুবরাজ চার্লসও এতে যোগ দিয়েছিলেন। আর শুভেচ্ছাবার্তা পাঠিয়েছিলেন রাণী।

ইতিহাস পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, বারবাডোজ ছিল ইংল্যান্ডের প্রথম দাস কলোনি। ইংলিশ অভিবাসীরা প্রথম ১৬২৭ সালে দ্বীপটি দখল করে এবং ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণে এটিকে একটি আখ আবাদ ও চিনি উৎপাদনের কেন্দ্রে পরিণত করে। এখানে কাজ করার জন্য আফ্রিকা থেকে দাস হিসেবে লোক নিয়ে আসা হয়। পরে ১৮৩৪ সালে দেশটিতে দাসপ্রথা বিলোপ করা হয়। ১৯৬৬ সালে দেশটি পূর্ণ স্বাধীনতা অর্জন করে। তবে সাংবিধানিক রাণী হিসেবে বহাল থাকেন রাণী দ্বিতীয় এলিজাবেথ।

পরে ১৯৯৮ সালে একটি সাংবিধানিক কমিশন দেশটিকে প্রজাতন্ত্রে পরিণত করার সুপারিশ করে। তবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে অনেক দেশই ঔপনিবেশিক শাসন ও রাজতন্ত্রের সঙ্গে সম্পর্ক পুরোপুরি ছিন্ন করে প্রজাতন্ত্রে পরিণত হয় এবং রাষ্ট্রপ্রধান বা প্রেসিডেন্ট হিসেবে একজন নির্বাচিত ব্যক্তিকে গ্রহণ করে। উপমহাদেশে ভারত ১৯৪৭ সালে স্বাধীন হলেও প্রজাতন্ত্রে পরিণত হয় ১৯৫০ সালে, পাকিস্তান হয় ১৯৫৬ সালে।

ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে ১৯৭০-এর দশকে গায়ানা, ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাকো ও ডমিনিকা তাদের রাষ্ট্রপ্রধানের পদ থেকে ব্রিটেনের রাণীকে সরিয়ে দেয়। এছাড়া ফিজি প্রজাতন্ত্রে পরিণত হয় ১৯৮৭ সালে, আর মরিশাস ১৯৯২ সালে। তবে ব্রিটিশ শাসনের অধীনে ছিল এমন অনেক দেশই প্রজাতন্ত্রে পরিণত হবার পরও কমনওয়েলথ জোট গঠনের মাধ্যমে ব্রিটেনের সঙ্গে সম্পর্ক রেখেছে। এখন অবশ্য অনেক দেশেই শুরু হয়েছে স্বাধীনতার জন্য, নিজস্ব স্বকীয়তার জন্য ছটফটানি। রাণীর মৃত্যুর পর রাজা তৃতীয় চার্লস এখন ক্যারিবিয়ান দেশ জ্যামাইকারও রাজা ও রাষ্ট্রপ্রধান।

কিন্তু জ্যামাইকাও এ বছরের শুরুতে ওই দেশে প্রিন্স উইলিয়ামের সফরের সময় তার ভাষণে স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয় যে তারা ঔপনিবেশিক অতীতের সাথে সম্পর্ক ছেদ করতে চায় এবং বারবাডোজের মতই একটি প্রজাতন্ত্রে পরিণত হতে চায়। তবে একথা সত্য যে, প্রিন্স উইলিয়াম এখন প্রিন্স অব ওয়েলস অর্থাৎ তৃতীয় চার্লসের পর ব্রিটেনের পরবর্তী রাজা হবেন তিনিই। তাকেই জামাইকার প্রধানমন্ত্রী এ্যান্ড্রু হোলনেস বলেছেন, আমরা অতীতকে পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাচ্ছি। জ্যামাইকার ৫০ শতাংশ মানুষ এখন প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে এবং রাণী এলিজাবেথের মৃত্যু হয়তো এ প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে পারে।

জামাইকায় শাসনতান্ত্রিক সংস্কারের জন্য কাজ করছে এমন একটি প্রতিষ্ঠান দি অ্যাডভোকেসি নেটওয়ার্কের সমন্বয়কারী অধ্যাপক রোজালিয়া হ্যামিলটন গণমাধ্যমকে বলতে শুরু করেছে- ‘এ নিয়ে কথাবার্তা আবার শুরু হয়েছে। আমরা যতই কথা বলবো, ততই আরও বেশি জ্যামাইকান জেগে উঠবে। তারা ইতিহাস থেকে জানতে পারছে, যে ইতিহাস আমাদের স্কুলে পড়ানো হতো না, যা আমাদের কাছ থেকে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। আপনি রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে এমন একজন রাজাকে চান যে ক্ষমা প্রার্থনা করতে, দুঃখ প্রকাশ করতে, ক্ষতিপূরণসূচক ন্যায়বিচারের প্রক্রিয়া শুরু করতে বা দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত নন?’

রাজা চার্লস জ্যামাইকার কাছে আনুষ্ঠানিক ক্ষমা প্রার্থনা করেননি। তবে তিনি বারবাডোজে গত বছর এক ভাষণের সময় দাসপ্রথার মর্মান্তিক নৃশংসতার কথা স্বীকার করেছেন। প্রিন্স উইলিয়াম মার্চ মাসে জ্যামাইকায় এ জন্য গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন। বারবার সামনে চলে আসছে রাজতন্ত্রের পতনঘন্টা বেজে ওঠার কথা। শুধু বারবাডোজ প্রজাতন্ত্র হয়েছে বলেই জ্যামাইকাকে তা করতে হবে ঠিক নয়, তার উচিত হবে নিজেরা গবেষণা করে কিভাবে সামনে এগিয়ে যাওয়া যায় সে ব্যাপারে জেনে বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়া। আশা করছি শিগগিরই দেশটিকে প্রজাতন্ত্র করার প্রক্রিয়া শুরু হবে।

বিশ্বে এখন ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে এটা দেখার বিষয় হবে যে বারবাডোজের প্রজাতন্ত্রে পরিণত হবার দৃষ্টান্তটি আরো ক্যারিবিয়ান দেশকে এ পথ নিতে উদ্বুদ্ধ করে কিনা। অস্ট্রেলিয়ার প্রতিবেশী নিউজিল্যান্ডেও এমন ভাবনাচিন্তা বাড়ছে। রাণীর মৃত্যুর পর আবার জোরদার হয়েছে সেই আলোচনা। তবে সম্প্রতি নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আরডার্ন বলেছেন, তার জীবদ্দশাতেই নিউজিল্যান্ড একটি প্রজাতন্ত্রে পরিণত হবে। তবে তার দেশ এখনই এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে না। গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক প্রতিবাদনের জানতে পেরেছি, যুক্তরাজ্যে সবশেষ জনমত জরিপে দেখা যায়, ৬১ শতাংশ লোকই এখনো রাজতন্ত্র বহাল রাখার সমর্থক, অন্যদিকে ২৪ শতাংশ চান একজন নির্বাচিত রাষ্ট্রপ্রধান।

তবে ব্রিটেনের ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়স্কদের মধ্যে এ ব্যাপারে মত পরিবর্তন হচ্ছে বলে দেখা গেছে গত কয়েক বছরে। এই বয়সের নাগরিকদের ওপর চালানো এক জরিপে ২০১৯ সালে দেখা যায়, ৪৬ শতাংশ ব্রিটেনে একজন রাজা বা রাণী থাকার পক্ষে, অন্যদিকে ৩১ শতাংশ চান নির্বাচিত রাষ্ট্রপ্রধান।
আলোচনার সুবিধার্থে বলে রাখা প্রয়োজন মনে করছি যে, রাজতন্ত্র হল এক ধরনের সরকার ব্যবস্থা যেখানে সম্পূর্ণ সার্বভৌমত্ব একজন ব্যক্তির কাছে ন্যস্ত করা হয়, যিনি মৃত্যু বা ত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত তাঁর পদে অধিষ্ঠিত থাকেন। রাজা বা বাদশারা সাধারণত বংশগত উত্তরাধিকারের মাধ্যমে রাজার আসনে অধিষ্ঠিত হয়। বেশিরভাগ রাজতন্ত্র শুধুমাত্র পুরুষ উত্তরাধিকারের অনুমতি দেয়, যেমন পিতা থেকে পুত্র, বড় ভাই থেকে ছোট ভাই ইত্যাদি।

যদিও কিছু ভিন্ন রাজতন্ত্র রয়েছে, যেখানে রাজা নির্বাচিত হওয়ার পরে পদে অধিষ্ঠিত হন। মোটা দাগে বলতে গেলে বলা যায়, রাজতন্ত্র (Monarchy) হলো একক ব্যক্তির শাসনের উপর ভিত্তি করে একটি রাজনৈতিক ব্যবস্থা, যেখানে সর্বোচ্চ কর্তৃত্ব রাজার হাতে ন্যস্ত থাকে। রাজতন্ত্রের শাসক রাষ্ট্রের প্রধান হিসাবে কাজ করেন এবং যিনি বংশগতির মাধ্যমে তার রাজত্ব অর্জন করেন। রাজতন্ত্র হল এমন একটি রাজনৈতিক ব্যবস্থা যেখানে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ কর্তৃত্ব রাজার হাতে ন্যস্ত থাকে। রাজতন্ত্র হল একক শাসকের সার্বভৌমত্বের উপর ভিত্তি করে একটি রাজনৈতিক ব্যবস্থা।

রাজতন্ত্র হল এক ধরনের সরকার ব্যবস্থা যেখানে সম্পূর্ণ সার্বভৌমত্ব একজন ব্যক্তির কাছে ন্যস্ত করা হয়, যিনি মৃত্যু বা ত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত এই পদে অধিষ্ঠিত থাকেন। রাজতন্ত্র হল এক ধরনের সরকার যেখানে একটি পরিবার দেশ বা এলাকা শাসন করে। তারা রাষ্ট্রের প্রধান। রাজতন্ত্র প্রধানত দুই প্রকার। যেমন- নিরঙ্কুশ রাজতন্ত্র (Absolute Monarchy) এ ধরনের রাষ্ট্রে রাজা বা রানী রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী। একাধারে তিনি রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান।

উদাহরণস্বরুপ: সৌদি আরব ,ওমান ,ব্রুনাই কাতার ইত্যাদি। এই ধরনের সরকারে, রাজা বা রানীর ক্ষমতা নিরঙ্কুশ। তাদের কথাই আইন, আর তাদের লোকদের কোন কথা নেই। সৌদি আরবে নিরঙ্কুশ রাজতন্ত্রের উৎকৃষ্ট উদাহরণ। সরকার সৌদি আরবের মৌলিক আইন অনুসরণ করলেও এর কোনো সংবিধান নেই। সরকারের নির্বাহী ক্ষমতা বংশগত, এবং বিচার বিভাগীয় ও আইন প্রশাখা রাজকীয় ডিক্রি বা ফরমান দ্বারা নিযুক্ত হয়। সম্রাট কর্তৃক নিযুক্ত যে কেউ কেবল রাজা কর্তৃক বরখাস্ত হতে পারে।

একটু অদ্ভুত লাগলেও এটাই সত্য যে, নিয়মতান্ত্রিক বা সাংবিধানিক রাজতন্ত্র (Constitutional Monarchy)। এ ধরনের রাষ্ট্রব্যবস্থায় রাষ্ট্রের রাজা বা রানী উত্তরাধিকার সূত্রে বা নিয়মতান্ত্রিকভাবে রাষ্ট্রপ্রধান হন। এতে রাজা বা রানীর শাসনতান্ত্রিক তেমন কোনো ক্ষমতা থাকেনা। কানাডা, যুক্তরাজ্য ,ডেনমার্ক, বেলজিয়াম , লুক্সেমবার্গ, স্পেন, মরক্কো, বাহারাইন, জর্ডান, কুয়েত ,ভুটান, কম্বোডিয়া , থাইল্যান্ড ,মালয়েশিয়া, জাপান।

সাংবিধানিক রাজতন্ত্র দেশের একটি লিখিত বা অন্তর্নিহিত সংবিধান এবং সংসদের মতো কেন্দ্রীয় সরকারী সংস্থা রয়েছে। যদিও প্রদান নেতা রাজা এবং তাদের রাজত্ব উত্তরাধিকারের মধ্য দিয়ে চলে। তবে, তারা যা খুশি তা করতে পারে না। পরিবর্তে, তাদের অবশ্যই আইনের একটি নির্দিষ্ট সংবিধানের মধ্যে শাসন করতে হয়। অনেক সময় নিয়মতান্ত্রিক রাজতন্ত্রে, রাজা কেবলমাত্র নামে প্রধান হন, যেখানে সংসদ এবং প্রধানমন্ত্রী দ্বারা দেশ পরিচালিত হয়। গ্রেট ব্রিটেনে সাংবিধানিক রাজতন্ত্রের একটি উদাহরণ। রাণীর মৃত্যুর পর চার্লসই একজন আনুষ্ঠানিক ব্যক্তিত্ব। সরকার সংসদ দ্বারা শাসিত হয়।

সংসদ এবং প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত নেওয়ার এবং আইন প্রণয়নের ক্ষমতা রয়েছে। বর্তমানে, অনেক দেশে রাজতন্ত্র সরকার ব্যবস্থা চালু রয়েছে। বিশ্বজুড়ে রাজতন্ত্রের দেশগুলোর একটি তালিকা নিম্মে দেওয়া হল। সংবিধান বা সংসদীয় সরকার দ্বারা পরিচালিত রাজতান্ত্রিক দেশগুলো হচ্ছে। যেমন-বাহরাইন, বেলজিয়াম, ভুটান, ব্রুনাই, কম্বোডিয়া, ডেনমার্ক, জাপান, জর্ডান, কুয়েত, লেসোথো, লিচেনস্টাইন, লুক্সেমবার্গ, মালয়েশিয়া, মোনাকো, মরক্কো, নরওয়ে, স্পেন, সুইডেন, থাইল্যান্ড, নেদারল্যান্ড, আরব আমিরাত, যুক্তরাজ্য ইত্যাদি।

এর মধ্যে আবার কিছু নিরঙ্কুশ রাজতান্ত্রিক দেশও আছে। যে নিরঙ্কুশ রাজতন্ত্রের অধীনে চলমান দেশগুলোর তালিকায় আছে- ওমান, কাতার, সৌদি আরব, ভ্যাটিকান সিটি, ব্রুনাই। এত কিছু, এত নিয়ম-শৃঙ্খল সব ভেঙ্গে বিশ^ময় গড়ে উঠছে ছাত্র-যুব-জনতার রাজনৈতিক উত্তরণস্বপ্ন। যে স্বপ্নের হাত ধরে রাজতন্ত্রের বাইরে বেরিয়ে আসতে চায় অসংখ্য মানুষ।

তাদের যেমন রাজতন্ত্র থেকে বেরিয়ে আসার স্বপ্ন প্রগাঢ় হচ্ছে, তেমনি নিরন্তর রাজপথে স্বপ্ন নিয়ে পথ চলছে বাংলাদেশসহ শতাধিক দেশের মানুষ স্বৈরতন্ত্রের কারাগার থেকে বেরুবার অপার আশাবাদী। সে আশার পালে হাওয়া লাগুক নিরপেক্ষ সরকারের তত্বাবধায়নে নিরপেক্ষ নির্বাচন হোক দেশে দেশে। বিশেষ করে বাংলাদেশে, এটা এখন কেবল আমার নয়; আমার মত শত শত সচেতন নাগরিকের…

(মোমিন মেহেদী : চেয়ারম্যান, নতুনধারা বাংলাদেশ এনডিবি)

আরো পড়ুন

সম্পাদক: শুভ্র মেহেদী

মোবাইল: ০১৯৮৫৮২৭৮৩০
ই-মেইল: jamalpur.banglatoday.2022@gmail.com

মিডিয়া ক্যাম্পাস, পৌরসুপার মার্কেট (২য় তলা), রানীগঞ্জ বাজার, তমালতলা, জামালপুর।

Developed by Media Text Communications