
২০২৪ সালের গণ-আন্দোলনে আওয়ামী সরকারের পতন হলে দেশজুড়ে ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য থেকে শুরু করে আওয়ামী রাঘব বোয়াল জনরোষে ভয়ে আত্মগোপনে চলে যায়। কিন্তু দীর্ঘ সময় পলাতক থাকায় ইউনিয়ন পরিষদ থেকে শুরু করে সিটি কর্পোরেশনে জনসাধারণের নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে প্রশাসক নিয়োগ দিতে বাধ্য হয় অন্তবর্তী কালীন সরকার। কিন্তু ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী খুলনার কয়েকটি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের পলাতক ইউপি চেয়ারম্যানরা আবার পদ ফিরে পেতে তৎপর হয়ে উঠেছেন। ইতোমধ্যে চারজন চেয়ারম্যান জেলা প্রশাসকের কাছে পদ ফেরতের আবেদন করেছেন। এসব চেয়ারম্যানকে ফেরত আনতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কতিপয় স্থানীয় নেতা অর্থের বিনিময়ে নেপথ্যে কলকাঠি নাড়ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। খুলনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার শেখ রায়হানা ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে খুলনা জেলার দাকোপ উপজেলার ৪নং কৈলাশগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের নিয়মিত ইউপি চেয়ারম্যান অনুপস্থিত থাকায় জেলা প্রশাসনের নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশাসক বাতিল করে কৈলাশগঞ্জ ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি, আওয়ামী সিলেকশন প্যানেল চেয়ারম্যান-১ প্রবীর কুমার মন্ডল ৪নং কৈলাশগঞ্জ ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এর দায়িত্ব প্রদান করেন। এর মাধ্যমে জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এবং জুলাই যোদ্ধাদের রক্তের উপরে দাঁড়িয়ে ফ্যাসিস্ট প্রতিষ্ঠায় মরিয়া হয়ে ওঠা ও ফ্যাসিবাদী শক্তি মাথা চাড়া দিয়ে ওঠার প্রবনতা দেখা দিয়েছে বলে ধারণা করছে মুক্তিকামী জনসাধারণ। জানা যায়, খুলনার স্থানীয় সরকার শাখার সহকারী কমিশনার রুবায়েত আহমেদ খুলনা জেলার দাকোপ উপজেলার কৈলাশগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিহির মন্ডল অনুপস্থিত থাকায় ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে মর্মে জনসাধারণের দাবীর মুখে পরিষদের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার নিমিত্ত স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের ইউপি-১ শাখার ১৯ আগস্ট ২০২৪ তারিখের এসিল্যান্ড কে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ প্রদান করেন। তিনি নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করছিলেন, জনসাধারণ তাদের কাঙ্খিত নাগরিক সুবিধা গ্রহণ করছিলেন। কিন্তু ২০২৫ সালের ২৮ জানুয়ারী ইউনিয়ন সিলেকশন প্যানেল চেয়ারম্যান-১ প্রবীর কুমার মন্ডলকে আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতাসহ সাময়িকভাবে দায়িত্ব প্রদান করা হলে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে ১ দিনের ব্যবধানে ২৯ জানুয়ারী উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা কে কৈলাশগঞ্জ ইউনিয়নের প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে জেলা সহকারী কমিশনার রুবায়েত আহমেদ স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ৪ মার্চ বিতর্কিত প্যানেল চেয়ারম্যান-১ প্রবীর কুমার মন্ডল ৪নং কৈলাশগঞ্জ ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এর দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে জনসাধারণের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার পাশাপাশি স্থানীয় রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা। এদিকে, ৪নং কৈলাশগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদে সদ্য ঘোষিত ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বাতিল পূর্বক প্রশাসক নিয়োগের জন্য খুলনা জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করার জন্য ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী গণস্বাক্ষর নিচ্ছেন। স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর সারা দেশের মতো খুলনায় আওয়ামী লীগের জনপ্রতিনিধিরাও পালিয়ে যায়। কেউ কেউ গা ঢাকা দেয়। স্থবির হয়ে পড়ে সেবা কার্যক্রম। তখন বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের স্বাভাবিক কার্যক্রমের পরিচালনা ও জনসাধারণের নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছিলো জেলা প্রশাসন। কিন্তু অদৃশ্য কারণে চলমান থাকা কার্যক্রম ব্যাহত করে আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এর দায়িত্ব দেওয়াতে জনসাধারণের মাঝে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে, আবারও ফ্যাসিবাদ কার্যক্রম প্রতিষ্ঠা পেতে যাচ্ছে। ৬ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোল্লা মুজিবর রহমান বলেন, প্রবীর কুমার মন্ডলকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করায় আমরা হতাশ হয়েছি। আওয়ামী লীগের দোসর কিভাবে আবার ফিরে আসে। তিনি তো একজন দুর্নীতিবাজ। সরকারি পুকুর পাড়ের রাস্তার কাজের টাকা নামমাত্র কাজ করে নিয়ে গেছে। এ বিষয়ে আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আবেদন করেছি। ৪নং কৈলাশগঞ্জ ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান প্রবীর কুমার মন্ডল বলেন, আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ দেওয়া হচ্ছে না সত্য নয়। আগে আমি খুলনা-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ননী গোপাল মন্ডল যেদল করতো সেদল করতাম। এছাড়া আমাদের এখানে আওয়ামীগ ও বিএনপির মধ্যে কোন দ্বন্দ ছিলো না। আমরা নদী গোপালের আদর্শের লোক ছিলাম। এখন আমার বর্তমান সংসদ সদস্য আমির এজান খানকে ভালো লাগিছে। এখন এজাজ সাহেবের দল করতেছি। গতকাল বুধবার স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, বিধি মোতাবেক প্রবীর কুমার মন্ডলকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করা হয়েছে। ওনি ১ নাম্বার প্যানেল চেয়ারম্যান ছিলেন। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হতে আবেদন করেছেন। পুলিশ ও ইউএনও অফিস থেকে রিপোর্ট নিয়ে তারপর তাকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করা হয়েছে।




