আন্তর্জাতিক

ইরানে স্বাস্থ্য খাতে ‘একাধিক হামলা’ নিয়ে সতর্ক করল ডব্লিউএইচও

ইরানে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে স্বাস্থ্যসেবা খাতে ‘একাধিক হামলা’ হয়েছে বলে সতর্ক করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। প্যারিস থেকে এএফপি জানায়, সংস্থাটির মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানোম গেব্রেয়েসুস শুক্রবার এক বার্তায় জানান, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত তীব্রতর হওয়ার প্রেক্ষাপটে রাজধানী তেহরানে স্বাস্থ্য খাতে বারবার হামলার ঘটনা ঘটছে। তিনি বলেন, তেহরানের পাস্তুর ইনস্টিটিউট একটি বিমান হামলায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সেবা প্রদান কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। ডব্লিউএইচও ইতোমধ্যে এমন ২০টি স্বাস্থ্য স্থাপনায় হামলার বিষয় নিশ্চিত করেছে। ১৯২০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি ইরানের অন্যতম প্রাচীন জনস্বাস্থ্য ও গবেষণা কেন্দ্র, যা জরুরি পরিস্থিতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। প্যারিসের পাস্তুর ইনস্টিটিউট পৃথক এক বিবৃতিতে হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত গবেষক, শিক্ষার্থী ও বেসামরিক কর্মীদের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়েছে।

হাসপাতাল ও ওষুধ কারখানায় হামলা
ইরান সরকার জানিয়েছে, মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলায় দেশটির অন্যতম বড় ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান তোফিঘ দারু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যেখানে অ্যানেসথেটিক ও ক্যান্সারের ওষুধ উৎপাদন করা হয়। এ ছাড়া দেলারাম সিনা মানসিক হাসপাতালেও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। যুদ্ধের শুরুর দিকে তেহরানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের গান্ধী হাসপাতালের জানালা ভেঙে যায়, এবং ডব্লিউএইচও’র তেহরান কার্যালয়ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের আশঙ্কা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে ‘স্টোন এইজে’ ফিরিয়ে দেওয়ার হুমকি দিলেও আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা নিষিদ্ধ। জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী স্বাস্থ্যসেবা স্থাপনাগুলো যুদ্ধকালীন বিশেষ সুরক্ষিত স্থান হিসেবে বিবেচিত। ইরানের রেড ক্রিসেন্টের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৩০৭টি স্বাস্থ্য, চিকিৎসা ও জরুরি সেবা স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উল্লেখ্য, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের ওপর হামলা শুরু করে, অভিযোগ ছিল—তেহরান দ্রুত পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে এগোচ্ছে, যা ইরান বরাবরই অস্বীকার করে আসছে।

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

Back to top button
error: Content is protected !!