নিয়োগ পরীক্ষার খাতা ছিনতাই, বিএনপি নেতাসহ ৩৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরে একটি কলেজের নিয়োগ পরীক্ষার উত্তরপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় উপজেলা বিএনপির সভাপতিসহ ৩৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। গতকাল শনিবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন হরিপুর থানার ওসি মো. আব্দুল হাকিম আজাদ। এর আগে গত শুক্রবার রাতে হরিপুর থানায় মেদনিসাগর টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হারুণ অর রশিদ বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, গত শুক্রবার বিকেলে হরিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে মেদনিসাগর টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী (আয়া ও পরিচ্ছন্নতা কর্মী) পদের নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষা শেষে ইউএনওর কক্ষে বসে উত্তরপত্র যাচাইয়ের সময় উপজেলা বিএনপির সভাপতি জামাল উদ্দীনের নেতৃত্বে কয়েকজন নেতাকর্মী সেখানে প্রবেশ করে হট্টগোল শুরু করেন এবং একপর্যায়ে মব সৃষ্টি করে পরীক্ষকদের কাছ থেকে খাতা ও কাগজপত্র ছিনিয়ে নিয়ে যান। মামলার এজাহারে ৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ২০-৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে। প্রধান আসামিরা হলেন- হরিপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি জামাল উদ্দিন, বিএনপি নেতা মোখলেসুর রহমান, এরফান আলী, মো. ফারুক, মাসুদ রানা ও মো. উজ্জ্বল। এ বিষয়ে হরিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রায়হানুল ইসলাম জানান, সব কার্যক্রম নিয়ম অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছিল। হঠাৎ করে কয়েকজন এসে তার কক্ষে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে এবং একপর্যায়ে মব সৃষ্টি করে নিরীক্ষকদের কাছ থেকে পরীক্ষার কাগজপত্র ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এমন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা বিএনপির সভাপতি জামাল উদ্দীন বলেন, নিয়োগ পরীক্ষায় টাকার লেনদেনের একটা বিষয় নিয়ে ইউএনও সাহেবকে অবগত করতে গিয়েছিলাম। এসময় ইউএনও আমাদের কথা আমলে না নিলে আমাদের ছেলেরা কাগজপত্র নিয়ে চলে আসি। পরবর্তীতে আবারও সেগুলো পৌঁছে দেওয়া হয়। মেদনিসাগর টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজের অধ্যক্ষ হারুন অর রশিদ বলেন, আয়া ও পরিচ্ছন্নতা কর্মী পদে আটজন লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। পরীক্ষা শেষে আমরা ইউএনও স্যারের রুমে বসেছিলাম। সেখান থেকে আমাদের সব কাগজপত্র ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এ বিষয়ে হরিপুর থানায় মামলা করা হয়েছে। হরিপুর থানার ওসি মো. আব্দুল হাকিম আজাদ বলেন, মেদনিসাগর টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হারুণ অর রশিদ রাতে ওই ঘটনায় হরিপুর থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলার তদন্ত অব্যাহত আছে। যারা প্রকৃতপক্ষে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।




