আন্তর্জাতিক

সরকার শিক্ষার্থীদের দেশের শত্রু হিসেবে গণ্য করছে: সোনিয়া গান্ধী

চলমান বিক্ষোভ এবং তা মোকাবিলায় সরকারের ভূমিকা নিয়ে কেন্দ্রের তীব্র সমালোচনা করেছেন কংগ্রেস সংসদীয় দলের চেয়ারপার্সন সোনিয়া গান্ধী। গতকাল শুক্রবার তিনি বলেন, মোদি সরকার বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের ‘দেশের শত্রু’ হিসেবে গণ্য করছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু-তে প্রকাশিত এক নিবন্ধে সোনিয়া গান্ধী বলেন, ছাত্রছাত্রীরা জবাবদিহিতা ও শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কারের দাবি জানিয়েছে। তিনি বলেন, ‘কিন্তু মোদি সরকার তাদের সাহসিকতার জবাবে কাপুরুষতা ও উদ্দেশ্যহীন নিষ্ঠুরতা দেখিয়েছে। তাদের ভবিষ্যতের উত্তরাধিকারী হিসেবে নয়, বরং জাতির শত্রু হিসেবে গণ্য করেছে।’ সোনিয়া গান্ধী দাবি করেন, ‘কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অধীনে কর্মরত’ পুলিশ সদস্যদের দ্বারা ছাত্র বিক্ষোভকারীদের ওপর চালানো ‘নিষ্ঠুরতা’ এই সরকারের জন্য মোটেই নজিরবিহীন নয়। তিনি বলেন, ‘২০২০ সালে সিএএ-এনআরসি বিরোধী বিক্ষোভের সময় সশস্ত্র পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী যেভাবে বিশ^বিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতে তাণ্ডব চালিয়েছিল, তা আমাদের সবারই স্পষ্টভাবে মনে আছে। ভারতের নারী কুস্তিগীরদের বিরুদ্ধে সংঘটিত ঘটনাগুলোও আমাদের স্মৃতি থেকে কখনোই মুছে যাবে না।’ কংগ্রেসের এ নেত্রী বলেন, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শিক্ষা ব্যবস্থার সার্বিক অবনতির প্রতিবাদে ভারতজুড়ে শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে গতি পেয়েছে। গত ২০ জুলাইকে তিনি একটি কলঙ্কজনক দিন হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, সেদিন দিল্লি পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী (সিএপিএফ) লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের সহিংসভাবে দমন করার চেষ্টা করেছিল। গান্ধী বলেন, ‘অসংখ্য শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারী আহত হয়েছেন। এমনকি ঘরে ফিরতে থাকা শিক্ষার্থীরাও রেহাই পাননি। কারণ, পুলিশ নির্বিচারে লাঠিচার্জ করেছে।’ তিনি বলেন, ‘জাতি এমন কিছু তরুণের অত্যন্ত হতাশাজনক দৃশ্য দেখেছে, যাদের শরীর পেলেটের গুলিতে ক্ষতবিক্ষত হয়েছে। এসবের ব্যবহার নিঃসন্দেহে স্বয়ং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের অনুমোদনেই হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘সেদিনের ভিডিওগুলো আমাদের স্মৃতিতে গেঁথে আছে এবং আমাদের সম্মিলিত বিবেককে নাড়া দিয়েছে। এখন উচ্চস্বরে ও স্পষ্টভাবে বলার সময় এসেছে। থামুন, এরা আমাদেরই ছেলেমেয়ে, আমাদেরই তরুণ-তরুণী।’ তিনি সরকারের বিরুদ্ধে ভারতের শিক্ষাব্যবস্থাকে ‘অবমূল্যায়নের’ অভিযোগ এনে বলেন, দেশের ছাত্রছাত্রীরা মোদি সরকারের ভণ্ডামি ফাঁস করে দিয়েছে। শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করা একটি নৈতিক, রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক কর্তব্য।

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

Back to top button
error: Content is protected !!