যশোর শিক্ষা বোর্ডের ৭ কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় চার্জ গঠন

যশোর শিক্ষাবোর্ডের ৩৮টি চেক জালিয়াতি করে ছয় কোটি সাড়ে ৭৪ লাখ টাকা আত্মসাতের মামলায় ১১ জন আসামিকে আমলে নিয়ে আনুষ্ঠানিক বিচার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার চার্জ গঠনের মাধ্যমে এ বিচার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক এস এম নূরুল ইসলাম। দুদকের আইনজীবী সিরাজুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আসামিরা হলেন, শিক্ষাবোর্ডের বরখাস্ত হওয়া হিসাব সহকারী আব্দুস সালাম, ঠিকাদার ভেনাস প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিংয়ের প্রোপাইটার শরিফুল ইসলাম, উপশহর জামরুলতলা রোড এলাকার বাসিন্দা আশরাফুল আলম, পোস্ট অফিসপাড়ার গাজী নূর ইসলাম, বড়বাজার জামে মসজিদ লেনের প্রত্যাশা প্রিন্টিং প্রেসের প্রোপাইটার রুপালি খাতুন, উপশহর ই-ব্লকের সহিদুল ইসলাম, রকিব মোস্তফা, শিক্ষা বোর্ডের সহকারী মূল্যায়ন অফিসার আবুল কালাম আজাদ, নিম্নমান সহকারী জুলফিকার আলী, চেক ডেসপাসকারী মিজানুর রহমান ও কবির হোসেন। আসামিদের মধ্যে ঠিকাদার ভেনাস প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিংয়ের প্রোপ্রাইটার শরিফুল ইসলাম পলাতক রয়েছেন। অন্যরা বিভিন্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনে রয়েছেন। মামলার নথিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, যশোর শিক্ষা বোর্ডের প্রায় ২৫টি হিসাব সোনালী ব্যাংক লিমিটেডের যশোর বিআইএসই শাখায় পরিচালিত হয়। তার মধ্যে একটি হিসাবের সিগনেটরি বোর্ডের সচিব ও চেয়ারম্যান। ২০১৭-১৮ অর্থবছর থেকে ২০২১-২০২২ অর্থবছর পর্যন্ত ওই হিসাব থেকে ৩৮টি চেক জালিয়াতি করে বিভিন্ন ব্যাংকে জমা দিয়ে ক্লিয়ারিংয়ের মাধ্যমে ২৩ লাখ ৫৪ হাজার ৭০৬ টাকার স্থলে সর্বমোট ছয় কোটি ৯৭ লাখ ৮৫ হাজার ৩৯৭ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। ৩৮টি চেকের মধ্যে টিএ/ডিএ বিল বাবদ আসামি আব্দুস সালামের নামে ইস্যুকৃত চেক তিনটি, সাধারণ বিল বাবদ সহকারী সচিব আশরাফুল ইসলামের নামে ইস্যুকৃত চেক একটি, মিম প্রিন্টিং প্রেসের নামে ইস্যুকৃত চেক তিনটি, মেসার্স খাজা প্রিন্টিং প্রেসের নামে ইস্যুকৃত চেক দুটি, নিহার প্রিন্টিং প্রেসের নামে ইস্যুকৃত চেক একটি, সবুজ প্রিন্টিং প্রেসের নামে ইস্যুকৃত চেক একটি, শরিফ প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিংয়ের নামে ইস্যুকৃত চেক একটি, সানিয়া ইলেক্ট্রনিক্সের নামে ইস্যুকৃত চেক একটি, নুর এন্টারপ্রাইজের নামে ইস্যুকৃত চেক আটটি, প্রত্যাশা প্রিন্টিং প্রেসের নামে ইস্যুকৃত চেক তিনটি, শাহী লাল স্টোরের নামে ইস্যুকৃত চেক একটি, দেশ প্রিন্টার্সের নামে ইস্যুকৃত চেক একটি, সেকশন অফিসার আবুল কালাম আজাদের নামে ইস্যুকৃত চেক একটি, অর্পানেটের নামে ইস্যুকৃত চেক একটি, আয়কর কর্তন বাবদ ইস্যুকৃত চেক চারটি এবং ভ্যাট কাটা বাবদ ইস্যুকৃত চেক ছয়টি রয়েছে। এর মধ্যে ১৬টি চেক আসামি আব্দুস সালাম নিজে রিসিভ করেন। অবশিষ্ট ২২টি চেক শেখ শরিফুল ইসলাম ডেসপাস রাইডার জুলফিকার আলী, মিজানুর রহমান ও কবির হোসেনের সহায়তায় নিজে গ্রহণ করেন। এরপর ওইসব চেকে টাকার পরিমাণ ঘষামাজার মাধ্যমে অবমোচন করে পরিমাণ বাড়িয়ে লিখে প্রিন্ট করে উত্তোলন করে। যার মাধ্যমে আসামিরা পারস্পরিক সহায়তায় ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে মূল টাকার অতিরিক্ত ছয় কোটি ৭৪ লাখ ৪৩ হাজার তিন টাকা আত্মসাৎ করেন। এজন্য দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করে দুদক। চার্জশিটে আরো উল্লেখ করা হয়, তদন্তকালে চেক সিগনেটরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মোহাম্মদ আব্দুল আলীম, অধ্যাপক ড. মোল্লা আমীর হোসেন কর্মরত ছিলেন। ওই সময়কালে ড. মোল্লা আমীর হোসেনসহ তিনজন সচিব কর্মরত ছিলেন। ড. মোল্লা আমীর হোসেন ও সচিব প্রফেসর এ এম এইচ আলী আর রেজা ও প্রফেসর মো. তবিবর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়। দুদকের দেওয়া চার্জশিটের ওপর গতকাল বৃহস্পতিবার শুনানি শেষে চার্জ গঠন করেন স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক এসএম নূরুল ইসলাম। দুদকের আইনজীবী সিরাজুল ইসলাম জানান, ১১ আসামির মধ্যে দশজনের উপস্থিতিতে বিচারক চার্জ গঠন করেছেন। একইসাথে পলাতক আসামি ঠিকাদার ভেনাস প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিংয়ের প্রোপাইটার শরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এর মাধ্যমে এ মামলাটির আনুষ্ঠানিক বিচার প্রক্রিয়া শুরু হলো। আদালত পর্যায়ক্রমে সাক্ষ্যগ্রহণের মাধ্যমে বিচার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেবেন বলে জানান পিপি সিরাজুল।




