
খাদেমুল ইসলাম, নিজস্ব প্রতিবেদক:
জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বিএনপির নেতা সোহেল রানাকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।
সোমবার রাতে মাদারগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মঞ্জুর কাদের বাবুল খান ও সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান রতন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
সোহেল রানা উপজেলার গুনারীতলা ইউনিয়ন বিএনপির প্রচার সম্পাদক ছিলেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সোহেল রানাকে একাধিকবার সতর্ক করা হলেও তিনি দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিলেন। এতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। এ কারণে তাকে বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ বিষয়ে সোহেল রানার বক্তব্য জানা যায়নি।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মঞ্জুর কাদের বাবুল খান বলেন, সংগঠনের শৃঙ্খলা ও আদর্শ পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে দল কঠোর অবস্থানে রয়েছে। কোনো নেতা-কর্মী দলের নীতিবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত রোববার সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঢাকাগামী রাজিব পরিবহনের একটি বাস গুনারীতলা ইউনিয়নের জোড়খালী এনপুর বাজার এলাকায় পৌঁছালে পূর্বের বিরোধের জেরে কাউন্টার মাস্টার শফিকুল ইসলাম ও রহমতুল্লাহ বাসচালক মমিনুলকে মারধর করেন। পরে ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
এ সময় উপজেলা ছাত্রদলের কর্মী বিজয় আহমেদ বাসটি ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করলে গুনারীতলা ইউনিয়ন বিএনপির প্রচার সম্পাদক সোহেল রানার সঙ্গে তার বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে বিজয়কে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
এ ঘটনার পর প্রায় সাড়ে ২৫ ঘণ্টা ঢাকাগামীসহ দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ ছিল। সোমবার রাতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন চৌধুরী, মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা স্নেহাশীষ রায়, উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মঞ্জুর কাদের বাবুল খান, সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান রতন, সিনিয়র সহসভাপতি আব্দুল মান্নান, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক হাফিজুর রহমান সাকু, উপজেলা শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার জাহিদ মাখন, সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম খাদেমসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং পরিবহন শ্রমিকদের প্রতিনিধিদের নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলে বাস শ্রমিকরা তাদের কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন।




