জাতীয়প্রধান খবর

ভারতের সাথে অনেক ‘লেনদেন’ আছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারতের সাথে বাংলাদেশের অনেক ‘লেনদেন’ থাকার কথা বলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ। গতকাল রোববার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতের হাই কমিশনার প্রণয় ভার্মার সৌজন্য সাক্ষাতের পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “প্রতিবেশী হিসেবে আমাদের ভারতের সাথে অনেক বেশি লেনদেন আছে। ব্যবসা বাণিজ্য আছে, যাতায়াত আছে বিভিন্ন ক্ষেত্রে।” এসব বিষয়ে কথা হওয়ার পাশাপাশি দুই দেশের নিরাপত্তার বিষয়গুলো নিয়ে কথা হওয়ার কথাও বলেছেন তিনি। ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে চলে যান, তিনি এখনো সেখানে আছেন। ক্ষমতার পালাবদলের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপড়েন তৈরি হয়। ভারত ভিসা সীমিত করে, স্থলবাণিজ্যে আরোপ করে নিষেধাজ্ঞা। সীমান্ত দিয়ে ঠেলে পাঠানোর ঘটনায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “সীমান্ত নিরাপত্তাসহ এ সমস্ত বিষয়ে কথা বলতে এসেছিলেন (ভারতীয় হাইকমিশনার)। আমরা একটা সহযোগিতা চেয়েছি, বেসিস অব মিউচুয়াল ইন্টারেস্ট অ্যান্ড ডিগনিটি অ্যান্ড মিউচুয়াল বেনিফিট। আমরা উভয় দেশই আমাদের সম্পর্ক বজায় রাখব।” ব্যবসা বাণিজ্য, কূটনীতি- সকল ক্ষেত্রে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় থাকবে বলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। “আমরা আশা করি তারা একটা সার্বভৌম সমতার ভিত্তিতে এবং পারস্পরিক সমমর্যাদা এবং ডিগনিটির ভিত্তিতে আমাদের সম্পর্কটা বহাল রাখবে। “এই দিকটা আমাদের চালু রাখতে হবে এবং নিয়মিত যোগাযোগের মধ্য দিয়ে আমরা অনেক সমস্যার সমাধান করতে পারব।” সীমান্ত হত্যার বিষয়ে কথা হয়েছে তুলে ধরে তিনি বলেন, “সীমান্ত হত্যার বিষয়টি যেন আমাদের শুনতে না হয়। এ বিষয়ে বিজিবি- বিএসএফ যেন নিয়মিত বৈঠক করে। এগুলোকে যতটুকু সম্ভব এড়ানো যায়। “তারা বলেছে, এ বিষয়ে তারা আন্তরিক এবং তাদের সকল সংস্থাকে এ ব্যাপারে নির্দেশনা দেবেন।” এক প্রশ্নের জবাবে সালাইউদ্দিন আহমদ বলেন, “ভিসার কার্যক্রম বিগত এক দেড় বছর সময়ের মধ্যে, তাদের কনস্যুেলটগুলো এবং ভিসা অফিসগুলো বিভিন্ন আক্রমণের শিকার হয়েছে যার জন্য তারা এখনো পুরোদমে তাদের ভিসা কার্যক্রম চালু করতে পারেনি। তারা নিশ্চয়তা দিয়েছে তারা পর্যায়ক্রমে ভিসা কার্যক্রম চালু করবে।” পরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, মন্ত্রী দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ককে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই, পেছনের দিকে নয়। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা পারস্পরিক সম্পর্ককে নবায়ন করতে চাই। “আমরা অভিন্ন সংস্কৃতি ও ইতিহাসের অংশীদার। দুই দেশের পারস্পরিক নির্ভরতাকে দুর্বলতা নয়, শক্তি হিসেবে দেখতে চাই। আমাদের সম্পর্কের ভিত্তি হবে অভিন্ন স্বার্থ।” মন্ত্রী ভারতীয় ভিসা সেন্টারগুলো চালু ও ভিসা দেওয়ার হার বৃদ্ধির জন্য হাই কমিশনারকে অনুরোধ করলে হাইকমিশনার বলেন, “আমরা পর্যাপ্ত মেডিকেল ভিসা দিচ্ছি।” এছাড়া বৈঠকে মহাপরিচালক পর্যায়ে বিজিবি ও বিএসএফ এর সম্মেলন, দুই দেশের পুলিশ একাডেমির মধ্যে প্রশিক্ষণ বিনিময়, দক্ষতা বৃদ্ধিকরণের লক্ষ্যে ভারতের আইটিইসি প্রোগ্রামে প্রশিক্ষণার্থী পাঠানো, বন্দি বিনিময়, ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধি ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারসহ পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয় বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

Back to top button
error: Content is protected !!