নিত্যপণ্যের পাইকারি ও খুচরা দামে ব্যবধানের কারণ অনুসন্ধানে কমিটি হবে: চট্টগ্রামে বাণিজ্যমন্ত্রী

পাইকারি ও খুচরা বাজারে ভোগ্যপণ্যের দামের অযৌক্তিক ব্যবধানের কারণ অনুসন্ধানে ‘ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং’ কমিটি গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। গতকাল রোববার দুপুরে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ পাইকারি বাজারে দ্রব্যমূল্যের পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ‘মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত: ভোগ্যপণ্য সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি সংক্রান্ত পর্যালোচনা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘পাইকারি ও খুচরা বাজারে অনেক ক্ষেত্রে পণ্যের অগ্রহণযোগ্য দামের ব্যবধান দেখা যায়। এই ব্যবধানের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, প্রশাসনের সদস্য এবং প্রয়োজন হলে অন্যান্য পেশাজীবীকে নিয়ে একটি ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করা হবে। কমিটি বিষয়টি গভীরভাবে পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদান করবে।’ এর আগে তিনি খাতুনগঞ্জের বিভিন্ন পাইকারি দোকানে ঘুরে দ্রব্যমূল্য পরিস্থিতি দেখেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ এখনও আমদানিনির্ভর দেশ। আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম বৃদ্ধি, ডলারের মূল্য বৃদ্ধি বা পরিবহন ব্যয় বেড়ে গেলে এর প্রভাব দেশের বাজারে পড়া স্বাভাবিক। তবে অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা বা নিয়ন্ত্রণজনিত কোনও কারণে যেন পণ্যের দাম অযৌক্তিকভাবে না বাড়ে সে বিষয়ে সরকার সতর্ক রয়েছে।’ বিদেশি ফল আমদানির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘কিছু ফল রয়েছে যা সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে থাকা প্রয়োজন, যেমন আপেল, আঙুর ও কমলা। এসব ফলের দাম মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে সরকার প্রয়োজনে নীতিগত পদক্ষেপ বিবেচনা করবে। তবে অত্যধিক দামি বিলাসী ফলের ক্ষেত্রে শুল্ক কমানোর প্রয়োজনীয়তা নেই।’ মন্ত্রী আরও বলেন, ‘মুক্তবাজার অর্থনীতিতে ব্যবসা-বাণিজ্যের মূল চালিকাশক্তি ব্যবসায়ীরাই। সরকারের কাজ হলো ব্যবসা ও বিনিয়োগের জন্য অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং বাজার যেন বাধাহীন ও স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হতে পারে তা নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে বাজার তদারকির সময় ব্যবসায়ীদের যেন অযথা হয়রানির শিকার হতে না হয় সে বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকতে হবে।’ রমজান মাস উপলক্ষে ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এই মাস ত্যাগ ও সংযমের মাস। তাই ব্যবসায়ীরা যদি মানুষের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে ন্যায্যমূল্যে পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করেন, তবে তা সমাজে একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন হবে।’ তিনি জানান, চলতি রমজান মাসে ভোজ্যতেলের বাজার তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে, যা গত কয়েক দশকের তুলনায় ইতিবাচক উদাহরণ। এজন্য পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ। তবে কোথাও কোথাও ভোজ্যতেলের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও সীমিত বিক্রির অজুহাতে অতিরিক্ত দাম নেওয়ার প্রবণতা দেখা গেছে। এ বিষয়ে ব্যবসায়ীদের মতামত শোনার জন্যই খাতুনগঞ্জে এসেছি।’ খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. আব্দুস সালালের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান, চট্রগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।




