বিশাল কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীই আমাদের সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা: রাষ্ট্রপতি

বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশই তরুণ। এই বিশাল কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে দেশের ‘সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি বলেছেন, অর্থনীতির ভাষায় একে বলা হয় ‘জনমিতিক লভ্যাংশ’। জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর ও চীনের মতো দেশগুলো এই সুযোগ কাজে লাগিয়েই অর্থনৈতিক উন্নয়নের শিখরে পৌঁছেছে। গতকাল রোববার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। রাষ্ট্রপতি বলেন, জনমিতিক লভ্যাংশের এই সুযোগ সীমিত সময়ের জন্য। তাই তরুণদের আগামী দিনের দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করতে হবে। অন্যথায় এই সম্ভাবনাই একসময় বেকারত্ব, দারিদ্র্য, সামাজিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। এজন্য মানসম্মত শিক্ষা, আধুনিক প্রযুক্তিগত ও কারিগরি দক্ষতা, তরুণ সমাজের প্রত্যাশার কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, তারা এমন একটি বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ চায়, যেখানে মেধা ও যোগ্যতার যথাযথ মূল্যায়ন হবে এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। এই স্বপ্ন বাস্তবায়নে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ ও মানবসম্পদ উন্নয়নে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। ১৯৭৬ সালে জাতীয় জনসংখ্যা পরিষদ গঠন ও জনসংখ্যা নীতি প্রণয়নের মাধ্যমে তিনি পরিবার পরিকল্পনা সেবাকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়েছিলেন। পরবর্তীকালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচিকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেন এবং নারীদের শিক্ষায় অংশগ্রহণ বৃদ্ধিতে কাজ করেন, যা বাল্যবিবাহ রোধ ও পরিবার পরিকল্পনার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বর্তমান যুগের পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তরুণদের বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত এবং বৃত্তিমূলক শিক্ষায় সমৃদ্ধ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিল্পখাতের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তুলতে হবে, যাতে বাংলাদেশের তরুণরা বৈশ্বিক শ্রমবাজারের চাহিদার উপযোগী হয়ে উঠতে পারে। রাষ্ট্রপতি জাতীয় অগ্রাধিকার ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন। প্রজনন হার নিয়ন্ত্রণ: গত দেড় দশকে মোট প্রজনন হার ২ দশমিক ৩-এ স্থির থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে তা বাড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদে জনসংখ্যা স্থিতিশীল রাখতে এ হার ২-এর কাছাকাছি নিয়ে আসা একটি জরুরি জাতীয় চ্যালেঞ্জ। দীর্ঘমেয়াদে জনসংখ্যা স্থিতিশীল রাখতে এ হার ২-এর কাছাকাছি নিয়ে আসা একটি জরুরি জাতীয় চ্যালেঞ্জ। স্বাস্থ্যসেবা: ‘বিনা চিকিৎসায় কোনো মৃত্যু নয়’Ñ এই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে আধুনিক ও জনমুখী স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার কাজ চলমান রয়েছে। সমন্বিত উদ্যোগ: জনসংখ্যাকে উৎপাদনশীল সম্পদে রূপান্তর করতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি খাত, উন্নয়ন সহযোগী এবং গণমাধ্যমের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিতসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




