বিনোদন

বক্স অফিসে ঝড় তুলছে ‘মাইকেল’

বিনোদন জগতের সংগীতাঙ্গনের কিংবদন্তির গায়ক মাইকেল জ্যাকসনের বায়োপিক ‘মাইকেল’ সিনেমা মুক্তি পেয়েছে। এ সিনেমাটি সমালোচকদের পাত্তা না দিয়ে মুক্তির প্রথম দিন থেকেই বক্স অফিসে ঝড় তুলেছে। গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির প্রথম দিনেই প্রায় ৩৯ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার আয় করেছে। সপ্তাহান্তে সেই অঙ্ক দাঁড়ায় ৯৫ থেকে ১০০ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে, যা সংগীতভিত্তিক জীবনীচিত্রের ইতিহাসে নতুন রেকর্ড গড়ার পথে। এর আগে ‘বোহেমিয়ান র্যাপসোডি’ বা ‘স্ট্রেইট আউটা কম্পটন’ যে মানদণ্ড তৈরি করেছিল, তা সহজেই ছাপিয়ে গেছে ‘মাইকেল’ সিনেমাটি। শুধু যুক্তরাষ্ট্রই নয়, আন্তর্জাতিক বাজারেও মাইকেল জ্যাকসনের বায়োপিক ‘মাইকেল’ সিনেমাটি দাপট দেখাচ্ছে। ৮০টির বেশি দেশে মুক্তি পেয়ে প্রথম সপ্তাহেই বিশ^ব্যাপী আয় করে ২০০ মিলিয়ন ডলার ছুঁয়ে ফেলেছে। মহামারির পর প্রযোজনা সংস্থা লায়নসগেটের কোনো সিনেমার এটিই সবচেয়ে বড় ওপেনিং, যা স্টুডিওটির জন্য এক বিশাল স্বস্তির বার্তা। ‘মাইকেল’ সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন অ্যান্টনি ফুকোয়া, যিনি এর আগে ‘দ্য ইকুয়ালাইজার’ সিনেমার মতো অ্যাকশন চলচ্চিত্রে সফলতা পেয়েছেন। প্রযোজনায় ছিলেন ‘বোহেমিয়ান র্যাপসোডি’র গ্রাহাম কিং। আগেরটির মতো এবারও তিনি আরেকটি সফল সংগীত বায়োপিক উপহার দিয়েছেন। এ সিনেমায় মাইকেল জ্যাকসনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন তারই ভাতিজা জাফর জ্যাকসন। তার পারফরম্যান্স ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে, বিশেষ করে মাইকেলের নাচ, ভঙ্গি ও কণ্ঠস্বর নিখুঁত পারদর্শিতার পরিচয় দিয়েছেন তিনি। এতদিন সমালোচকদের প্রতিক্রিয়া পুরোপুরি ইতিবাচক ছিল না। অনেকেই মনে করেন, সিনেমাটি মাইকেল জ্যাকসনের জীবনের বিতর্কিত অধ্যায়গুলো এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ‘৯০-এর দশকের অভিযোগগুলো নিয়ে সিনেমায় খুব বেশি গভীরে যাওয়া হয়নি। কিন্তু দর্শকদের প্রতিক্রিয়া একেবারেই ভিন্ন। প্রেক্ষাগৃহে দর্শকের নাচ-গানের সঙ্গে গলা মেলানো- সব মিলিয়ে যেন এক ধরনের উদযাপনের আবহ তৈরি হয়েছে। অনেকের ধারণা, এটি শুধু একটি সিনেমা নয়, বরং ‘একটি অভিজ্ঞতা’- একটি নস্টালজিক টাইম মেশিন, যা দর্শককে ফিরিয়ে নিয়ে যায় ‘বিলি জিন’ কিংবা ‘থ্রিলার’-এর যুগে।

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

Back to top button
error: Content is protected !!