আন্তর্জাতিক

তীব্র গরমে দিল্লিতে বিদ্যালয়ে ‘ওয়াটার বেল’ চালুর নির্দেশ

তীব্র গরমের কারণে ভারতের রাজধানীর বিদ্যালয়গুলোতে নির্দিষ্ট বিরতিতে ঘণ্টা বাজিয়ে শিক্ষার্থীদের পানি পান করার কথা মনে করিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সরকারি কর্তৃপক্ষ। নতুন এক নগর নির্দেশনায় এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ ভারতে গ্রীষ্মের তাপমাত্রা অনেক সময়ই ভয়াবহ পর্যায়ে উঠে যায়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০১২ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে হিট স্ট্রোকে প্রায় ১১ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে সে দেশে। নয়াদিল্লি থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়। ২০২৪ সালের মে মাসে নয়াদিল্লিতে তাপদাহে তাপমাত্রা ৪৯.২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়, যা ২০২২ সালের রেকর্ড সর্বোচ্চ তাপমাত্রার সমান। ১৯০১ সাল থেকে আবহাওয়া বিষয়ক তথ্য সংগ্রহ শুরু হওয়ার পর ২০২২ সাল ছিল ভারতের সবচেয়ে উষ্ণ বছর। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বজুড়ে চরম আবহাওয়ার যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তারই ধারাবাহিকতায় এ তাপমাত্রা বৃদ্ধির ঘটনা ঘটে। গতকাল বুধবার সকালে নয়াদিল্লি ও মহানগর এলাকার আশপাশের প্রায় ৩ কোটি মানুষের কাছে তাপমাত্রা ছিল ২৯.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা তুলনামূলকভাবে সহনীয়। তবে, আবহাওয়াবিদরা জানান, গতকাল বুধবারই তাপমাত্রা ৪১ থেকে ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে। সপ্তাহের শেষ দিকে তা বেড়ে ৪২ থেকে ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস হতে পারে। ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর দিল্লির জন্য ‘ইয়েলো অ্যালার্ট’ জারি করেছে। এতে সপ্তাহের শেষ দিকে তাপদাহের আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে। গত মঙ্গলবার দিল্লির শিক্ষা অধিদপ্তর স্কুলগুলোর জন্য একাধিক নির্দেশনা জারি করে। এতে শিক্ষার্থীদের সুরক্ষায় বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বাইরে শারীরিক পরিশ্রম এড়িয়ে চলতে হবে। শিক্ষার্থীদের পানি পানের গুরুত্ব বোঝাতে সচেতনতামূলক সেশন আয়োজন করতে হবে। এতে আরো বলা হয়, খোলা জায়গায় সমাবেশ সীমিত করতে হবে বা ছায়াযুক্ত কিংবা ঘরের ভেতরে স্বল্প সময়ের জন্য আয়োজন করতে হবে। খোলা আকাশের নিচে কোনো ক্লাস নেওয়া যাবে না। এছাড়া কিছু ব্যতিক্রমধর্মী নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘ওয়াটার বেল’ চালু করা, যাতে নির্দিষ্ট বিরতিতে ঘণ্টা বাজিয়ে শিক্ষার্থীদের পানি পান করানো হয়। নির্দেশনায় আরো বলা হয়েছে, প্রতি ৪৫ থেকে ৬০ মিনিট পরপর ঘণ্টা বাজিয়ে শিক্ষার্থীদের পানি পান করতে মনে করিয়ে দিতে হবে, যাতে শিশুদের পানিশূন্যতা রোধ করা যায়। এতে আরো বলা হয়েছে, স্কুল চলাকালে প্রতিজন শিক্ষার্থীকে আরেকজনের সঙ্গে জুটি করে রাখতে হবে, যাতে তারা একে অপরের শারীরিক সুস্থতার দিকে নজর রাখতে পারে।

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

Back to top button
error: Content is protected !!