জাতীয়প্রধান খবর

ঢাকা থেকে পর্যবেক্ষণ করা হবে দেশের সব কেন্দ্রের এইচএসসি পরীক্ষা

চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা আজ বৃহস্পতিবার শুরু হচ্ছে। এ পরীক্ষার ২ হাজার ৬৯৭ কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মনিটরিং সেল থেকে তা মনিটরিং করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। গতকাল বুধবার দুপুর আড়াইটার দিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান। ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা হবে জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সব কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সিসিটিভি ক্যামেরা মনিটরিং সেল স্থাপন করা হয়েছে। মনিটরিং সেলে বসে দেশের যে কোনো প্রান্তের যে কোনো কেন্দ্রের পরীক্ষা মনিটরিং করা যাবে। তিনি বলেন, কেন্দ্রে দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশ কর্মকর্তার কাছে বডি-ওর্ন ক্যামেরা থাকবে। ফলে পরীক্ষা কেন্দ্রে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা কম থাকবে। মোট ৭৭টি বিষয়ে ২১ দিনে পরীক্ষা সম্পন্ন হবে। যেদিন পরীক্ষা হবে না, সেদিন প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এদিকে, এবার দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে এইচএসসি পরীক্ষা হবে একই প্রশ্নপত্রে। এ প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার পর খাতা মূল্যায়নে গুরুত্ব দেওয়া হবে। যারা খাতা মূল্যায়ন করবেন, তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। তারপরও যা-তা করে খাতা দেখে নম্বর দিলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, আমরা প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে যেমন সচেতন আছি, তেমনি খাতা দেখার ক্ষেত্রেও কঠোর অবস্থানে আছি। অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার পর উত্তরপত্র মূল্যায়নে ট্রেনিং দেওয়া হবে। আবার একজন শিক্ষক আগে যেমন অনেক উত্তরপত্র মূল্যায়ন করতেন বা খাতা দেখতেন; সেটা কম দেওয়ার ব্যবস্থা রেখেছি। মন্ত্রী বলেন, আগে খাতা পুনর্মূল্যায়নে শুধু নম্বর গোনা হতো; এখন তা হবে না। প্রকৃতপক্ষেই পুনর্মূল্যায়ন হবে। একজন খাতা দেখে গেলেন, নম্বর দিয়ে গেলেন; আর কেউ দেখলো না, এটা হবে না। পুনর্মূল্যায়ন হবে এবং যা-তা করে খাতা দেখে নম্বর দিলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল যুগে এখন প্রশ্নপত্র হ্যাকিং হচ্ছে। এবার তো ব্রিটিশ কাউন্সিলের প্রশ্নপত্রও ফাঁস হয়েছে। কিন্তু আমাদেরটা হয়নি। আমরা প্রশ্নফাঁসের ক্ষেত্রে আমাদের যে দুর্বলতা তা কমানোর চেষ্টা করেছি। তিনি আরও বলেন, আমরা সবকিছু পরীক্ষা করেছি, সবকিছু কতটা নিয়ন্ত্রণ করা যায়। আমরা আইন কড়াকড়ি করছি। তিন সেট প্রশ্ন করেছি। প্রশ্নপত্র ফাঁসসহ কিছু হলে সেক্ষেত্রে ব্যবস্থা আছে। সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে জানানো হয়, এ বছর ৯টি সাধারণ এবং মাদরাসা ও কারিগরি মিলিয়ে ১১টি বোর্ডে মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন। এর মধ্যে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৭১৪ জন, মাদরাসা বোর্ডে ৯২ লাখ ৯০৫ জন এবং কারিগরি বোর্ডে ১ লাখ ৭ হাজার ৯৬৪ জন। মোট ছাত্র ৬ লাখ ২১ হাজার ৯৬৯ জন এবং মোট ছাত্রী ৬ লাখ ৪৮ হাজার ৬১৪ জন। মোট কেন্দ্রের সংখ্যা ২ হাজার ৬৯৭টি এবং পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী মোট প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৯ হাজার ৪৩৯টি। ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

Back to top button
error: Content is protected !!