জামালপুরে বিচারক দম্পতির বাসায় চুরির ঘটনায় অলঙ্কারসহ ৫ জন গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক:
জামালপুরে বিচারক দম্পতির বাসায় জানালার গ্রিল কেটে চুরির ঘটনায় চোর চক্রের ৩ সদস্য ও চোরাই অলংকার কেনার অভিযোগে ২ জনসহ মোট ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ সময় চুরি হওয়া স্বর্ণ ও রূপার অলংকার উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় আরও ৫ জন গ্রেফতার হয়ে আগে থেকেই কারাগারে রয়েছে।
রবিবার দুপুরে জামালপুর কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিং করে পিবিআই জানায়, চলতি বছরের ৩০ জুন সন্ধ্যায় জামালপুর শহরের আমলাপাড়ায় স্থানীয় আনোয়ার হোসেনের ভবনে বিচারক দম্পতি আহমাদুল কবির শাকিল ও নুসরাত জেরিন জেনির ভাড়া বাসায় চুরির ঘটনা ঘটে। ভবনের তিনতলার ওই ফ্ল্যাটের জানালার গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে চোরচক্রের সদস্যরা নগদ এক লাখ টাকাসহ প্রায় ১৯ লাখ ১৭ হাজার টাকার স্বর্ণালংকার চুরি করে নিয়ে যায়। ঘটনার পরের দিন আদালতের ভারপ্রাপ্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তা এ.কে.এম ছরোয়ার জাহান সিদ্দিকী বাদী হয়ে জামালপুর সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে পিবিআই মামলার তদন্তের দায়িত্ব পায়। তথ্য প্রযুক্তির সহায়তা ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত ২৫ আগস্ট চুরির সঙ্গে সরাসরি জড়িত জামালপুর পৌর শহরের বাগেরহাটা এলাকার হাবু মিয়ার দুই ছেলে রাহুল(২৪) ও বিশালকে(২১) গ্রেফতার করে পিবিআই। পরে তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর গত ২ সেপ্টেম্বর গ্রেফতার করা হয় চোরচক্রের আরেক সদস্য ডাকপাড়া এলাকার দুখু মিয়াকে(২৪)। চোরচক্রকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের পর তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ৩ সেপ্টেম্বর জামালপুর পৌর শহরের বানিয়াবাজার এলাকা থেকে চোরাই স্বর্ণালঙ্কার ক্রেতা মাসুদ রানা(৪২) ও মাদারগঞ্জ উপজেলার মিলন বাজার থেকে মোশারফ হোসেনকে (৩৮) গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চুরির পর রূপান্তর করা ২৩.১৯ গ্রম স্বর্ণ ও স্বর্ণালংকার এবং প্রায় ২৬ ভরি রূপার অলংকার জব্দ করে পুলিশ।
এদিকে চুরির ঘটনায় সদর থানায় মামলা দায়েরের পর তদন্তের সূত্র ধরে প্রথমে একই ভবনের অন্য একটি ফ্ল্যাটের গৃহকর্মী নিলুফাকে আটক করে পুলিশ। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিচারক দম্পতির বাসার গৃহকর্মী হাওয়া বেগমকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের তথ্যের ভিত্তিতে জামালপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সম্পাদক শহরের গোলাপবাগ এলাকার বাসিন্দা সুমন মিয়া(৩৯), সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক কলেজ রোড এলাকার বাসিন্দা নাজমুল ইবনে হোসেন ওরফে বিপ্লব(৩৯), শহরের আমলাপাড়া এলাকার চাঁন মিয়া ওরফে কালাচাঁনকে গ্রেফতার করা হয় এবং বর্তমানে তারা কারাগারেই রয়েছেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক রূপম কুমার সরকার বলেন, গ্রেফতারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং তিনজন ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দিয়েছে। এর আগে পুলিশ যে ৫ জন আসামীকে গ্রেফতার করেছিল তাদের জবানবন্দির সাথে কললিস্ট চেক করে কোন মিল পাওয়া যায়নি। আগে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে থাকা ৫ জন চুরির ঘটনার সাথে জড়িত নয়।




