সৌরবিদ্যুতের প্রতি ইউনিটে মিলবে ১০ টাকা: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী

সোলার প্যানেলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে নিজেদের ব্যবহার মেটানোর পর অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করলে প্রতি ইউনিটের জন্য ১০ টাকা ৫০ পয়সা করে সরকার অর্থ দেবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, স্থানীয় সরকারের প্রতিষ্ঠানগুলোকে সোলার বিদ্যুতের আওতায় আনার পাশাপাশি নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের ব্যবস্থা করা হবে। এতে প্রতিষ্ঠানগুলোর বিদ্যুৎ বিল কমার পাশাপাশি ভবিষ্যতে আয়ও তৈরি হবে। গতকাল শনিবার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এলজিআরডি অডিটোরিয়ামে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী। মীর শাহে আলম বলেন, দেশের প্রস্তুত ৩ হাজার ৪১৬টি ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ভবনে ৫ দশমিক ৫ কিলোওয়াট করে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এজন্য প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদের জন্য ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা করে মোট ১১৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ৫ দশমিক ৫ কিলোওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে সর্বোচ্চ প্রায় ৩ লাখ ২৫ থেকে ২৬ হাজার টাকা খরচ হতে পারে। সরকার থেকে দেওয়া ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকার সঙ্গে প্রয়োজন অনুযায়ী আরও অর্থ যোগ করে ইউনিয়ন পরিষদগুলোকে নিজেদের চাহিদার চেয়ে বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নিতে হবে। অতিরিক্ত বিদ্যুৎ নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে দেওয়া হবে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্সে দিনের বেলায় উৎপাদিত বিদ্যুতের পুরোটা ব্যবহার না হলে অব্যবহৃত বিদ্যুৎ গ্রিডে চলে যাবে। মাস শেষে বা নির্দিষ্ট সময় পর নেট মিটারিংয়ের হিসাব অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান সরকার থেকে অর্থ পাবে। মীর শাহে আলম বলেন, উপজেলা পরিষদ, ইউনিয়ন পরিষদ, হাটবাজার, উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স, স্টাফ কোয়ার্টার ও স্থানীয় সরকারের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে পর্যায়ক্রমে সোলার প্যানেল স্থাপন করা হবে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে এ কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। হাটবাজার উন্নয়ন তহবিলের ২৫ শতাংশ অর্থ সোলার প্যানেল স্থাপনে ব্যবহারের ওপরও গুরুত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার প্রকৌশলীদের ইউএনওদের সঙ্গে সমন্বয় করে সংশ্লিষ্ট হাটবাজারগুলোতে সোলার প্যানেল স্থাপনের উদ্যোগ নিতে হবে। স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের যেসব এলাকায় পল্লী বিদ্যুৎ, নেসকো বা অন্যান্য বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থা রয়েছে, তারা নেট মিটারিং স্থাপন ও প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দেবে। সোলার প্যানেল স্থাপনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ চুক্তিও করতে হবে। মীর শাহে আলম বলেন, সোলার প্যানেল স্থাপনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির সঙ্গে চুক্তিতে দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। কোনো সমস্যা হলে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত কোম্পানিগুলোকে বিনা খরচে রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে। তিনি বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেরাই সোলার বিদ্যুৎ ব্যবহার শুরু করলে সাধারণ মানুষও এতে উৎসাহিত হবে। ইউনিয়ন পরিষদ ও হাটবাজারে সোলার প্যানেল স্থাপন করে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার দৃশ্যমান করা গেলে পর্যায়ক্রমে পরিবারগুলোও নিজ নিজ বাড়িতে এ ব্যবস্থা গ্রহণে আগ্রহী হবে। আলোচনা সভায় পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান, স্থানীয় সরকার বিভাগ সচিব মো. শহীদুল হাসান, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. বেলাল হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




