প্রধান খবররাজনীতিসারাদেশ

আট দফা যেকোনো সময় ১ দফায় পরিণত হতে পারে: জামায়াত আমির

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ১১ দলের লংমার্চে জনগণের অংশগ্রহণ দেখে অনেকের মাথা গরম হয়ে গেছে। গত দুই দিন ধরে রাজধানীতে এর লক্ষ্মণ দেখা গেছে। সরকারকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, হতাশ হয়ে মাথা গরম করবেন না। জনদাবি মেনে নিন। মনে রাখবেন, ৮ দফা থেকে ৯ দফাও হতে পারে। আবার জাতির প্রয়োজনে যেকোনো সময় তা ১ দফায় পরিণত হতে পারে। আর এক দফা যখন হবে, তখন পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ হবে। তাই সরকারকে বলবো, তার আগেই সাম্প্রতিক অতীত থেকে শিক্ষা নিন। গতকাল শনিবার সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে ১১ দলের ঢাকা-রংপুর লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী, ভোর থেকেই ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে সমাবেশে যোগ দেন নেতাকর্মীরা। এ সময় তারা নানা স্লোগান দেন। জামায়াতের আমির বলেন, জনতার দাবি মেনে নিতে ব্যর্থ হলে পরিষ্কার বলে দিচ্ছি, কোনো চোখ রাঙানিতে কাজ হবে না। কোনো কিছুই পরোয়া করা হবে না। কারণ আমরা কোনো দলীয় কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামিনি। এগুলো ১৮ কোটি মানুষের দাবি। জনগণ ১১ দলের সঙ্গে আছেন। তাই দাবি আদায় করেই ঘরে ফিরবো। সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহ-সভাপতি রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল হক চান প্রমুখ। আরও বক্তব্য রাখেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহাকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা-১২ আসনের এমপি সাইফুল আলম খান মিলন এবং এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। সমাবেশ শেষে সকাল ৮টায় লংমার্চের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন জামায়াতের আমির। ঢাকা থেকে লংমার্চ শুরু হয়ে উত্তর দিক দিয়ে টঙ্গী গাজীপুর ও টাঙ্গাইল হয়ে রংপুর পর্যন্ত পাঁচটি পথসভা হয়। এরমধ্যে, গতকাল শনিবার সকালে সাড়ে ৯টার দিকে গাজীপুর মহানগরীর ভোগড়া-বাইপাসের টাঙ্গাইল রোডে লংমার্চের পথসভার বক্তব্যে শফিকুর রহমান বলেন, আপনারা গণভোটে হ্যাঁ বলেছিলেন ৭০ ভাগ মানুষ। সরকার আপনাদের গণভোটকে অগ্রাহ্য করে অপমানিত করেছে। সেই প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য আমরা রাস্তায় নেমেছি। জনগণের রায়ের বাস্তবায়ন এই বাংলার মাটিতে হবে, এই বিএনপিই করতে বাধ্য হবে। পানি খাবে, কিন্তু ঘোলা করে খাবে। সরকারকে আমরা বলে দিচ্ছি, আজকে ৮ দফা দাবিতে নেমেছি জনগণের জন্য। জনগণের প্রয়োজনে ৮ দফা যেকোনো সময় ১ দফায় পরিণত হতে পারে। জামায়াত আমির বলেন, সকাল ৭টায় শহীদ আবু সাঈদের স্মৃতি বিজড়িত রংপুরের উদ্দেশে আমাদের লংমার্চ শুরু হয়েছে। আমাদের এই লংমার্চ জনগণের ঘরে ঘরে গ্যাস পৌঁছে দেওয়ার দাবিতে, ইন্ডাস্ট্রির চাকা ঘোরানোর দাবিতে, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের দাবিতে, পানির অভাবে হাহাকার করা মানুষের দুঃখ দূর করার দাবিতে, রাস্তা-ঘাট, হাট-বাজার, টেম্পু স্ট্যান্ডে সর্বত্র চাঁদাবাজি বন্ধ করার দাবিতে। আমাদের এই লংমার্চ দুর্নীতিতে ছেয়ে যাওয়া দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করার দাবিতে। আমাদের লংমার্চ আধিপাত্যিবাদের বিরুদ্ধে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যে অবনতি হয়েছে, তা থেকে উত্তোরণের দাবিতে আমাদের এই লংমার্চ। উপস্থিত জনগণের উদ্দেশে তিনি বলেন, এগুলো আপনাদের দাবি কি না। আপনাদের দাবিতে আমরা রাস্তায় নেমেছি। কোনো দলীয় দাবি নিয়ে নামিনি। ১৮ কোটি মানুষের দাবি নিয়ে নেমেছি। পরে গতকাল শনিবার দুপুরের দিকে ঢাকা-রংপুর লংমার্চের টাঙ্গাইলের নগর জলফৈ বাইপাসের পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শফিকুর রহমান বলেন, আমাদের ৬ দফা এখন ৮ দফায় পরিণত হয়েছে। জনগণের প্রয়োজনে দফা বাড়তে পারে। আবার জনগণের প্রয়োজনে সব দফা বিলুপ্ত ঘোষণা করে এক দফা ঘোষণা করার প্রয়োজন হতে পারে। আপনারা প্রস্তুত আছেন? আজকের লংমার্চ আপনাদের দিকে। আগামীর লংমার্চ এখান থেকে ঢাকার দিকে। প্রস্তুত থাকবেন ইনশাল্লাহ। তিনি আরও বলেন, কেন আপনারা জুলাই সদন বাস্তবায়ন করলেন না। আপনারা কথা দিয়েছিলেন কোনো জায়গায় অনির্বাচিত কাউকে দেশ শাসন করতে দেওয়া হবে না। জায়গায় জায়গায় আপনারা প্রশাসক বসিয়েছেন। আপনারা জাতির সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। তিনি বলেন, এই জাতি আপনাদের কাছে এই কার্ড সেই কার্ড এগুলো চায়নি। এই কার্ডগুলোর কথা আপনারা জাতিকে দেবেন বলেছিলেন। জাতি যা চেয়েছিল, আপনারা দিতে পারছেন না, ব্যর্থ হচ্ছেন। আমরা নেমেছি এসব অধিকার আদায়ের জন্য। এ সময় বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, আমাদের সামনে কঠিন সংগ্রাম, সরকার জনগণের সঙ্গে বিশ্বাস ঘাতকতা করছে। আমরা টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানীর উত্তরসূরি; আমাদের দিল্লির আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম অব্যাহত রাখতে হবে। কর্নেল ড. অলি আহমেদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী আপনি যেভাবে আওয়ামী লীগের দ্বারা সরকার প্রশাসন চালাচ্ছেন, এভাবে দেশ চালাতে পারবেন না। আমাদের একদফা আন্দোলনের দিকে ঠেলে দেবেন না। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক বলেন, আজকের এই লংমার্চ প্রমাণ করছে বাংলাদেশের মানুষ তাদের অধিকার আদায় করতে জানে। সোজা আঙুলে ঘি না উঠলে আঙুল বাঁকা করতে জানে জনগণ। টাঙ্গাইল জেলা জামায়াতের আমীর আহসান হাবীব মাসুদের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পারোয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আজাদ, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মুস্তাফিজুর রহমান ইরান, ঢাকা মহানগর জামায়াতের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, নেজামে ইসলাম পার্টির নায়েবে আমির আল্লামা মুফতি মোখলেসুর রহমান কাসেমী, কর্নেল ড. অলি আহমদের ছেলে ওমর ফারুক, এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিলাল হোসাইন মিয়াজি, এনসিপির সরোয়ার তুষার প্রমুখ।

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

Back to top button
error: Content is protected !!