সারাদেশ
জাবিপ্রবিতে গুচ্ছের বি ইউনিটে উপস্থিতি ৮৫.৬২ শতাংশ, অব্যবস্থাপনার অভিযোগ

ইয়াসির আরাফাত, জাবিপ্রবি প্রতিনিধি:
জামালপুর জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবিপ্রবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে গুচ্ছভুক্ত (জিএসটি) ২০টি সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক প্রথম বর্ষের ‘বি’ ইউনিটের (মানবিক বিভাগ) ভর্তি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। কেন্দ্রটিতে পরীক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার ছিল ৮৫.৬২ শতাংশ।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল ) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবনে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে, জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রে বি-ইউনিটে মোট ২ হাজার ২০৫ জন ভর্তিচ্ছুক শিক্ষার্থীর এর মাঝে পরীক্ষায় অংশ নেয় ১ হাজার ৮৮৮ জন।
সকাল ৮টা থেকেই জামালপুর, শেরপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা কেন্দ্রে জড়ো হতে থাকেন। যাতায়াত ও ভৌগোলিক সুবিধাজনক অবস্থানের কারণে এই অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের পছন্দের তালিকায় ছিল জাবিপ্রবি কেন্দ্র।
গত বছরের তুলনায় এবারের পরীক্ষা ব্যবস্থাপনায় দৃশ্যত নানাবিধ বৈচিত্র্য পরিলক্ষিত হলেও ভলেন্টিয়ার বা স্বেচ্ছাসেবক শনাক্তকরণের ক্ষেত্রে চরম অব্যবস্থাপনা পরিলক্ষিত হয়েছে। গত বছর পরিচয়পত্র বা আইডি কার্ডের মাধ্যমে স্বেচ্ছাসেবকদের আলাদাভাবে চেনার সুযোগ থাকলেও এবার সেই ব্যবস্থা না থাকায় সাধারণ শিক্ষার্থী ও স্বেচ্ছাসেবকদের মধ্যে পার্থক্য করতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয়েছে পরীক্ষার্থীদের। এমনকি অনেক স্বেচ্ছাসেবকের গলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত পরিচয়পত্রটিও অনুপস্থিত থাকতে দেখা গেছে। এদিকে গতবার কেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ডিভাইস শনাক্তে মেটাল ডিটেক্টর ব্যবহার করা হলেও এবার তার কোনো দেখা মেলেনি৷ তদুপরি পরীক্ষা কেন্দ্রে ব্যাগ নিয়ে প্রবেশের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে৷
তীব্র দাবদাহে অভিভাবকদের জন্য ছাউনির ব্যবস্থা করা হলেও গত বছরে তুলনায় এ বছর সুযোগ-সুবিধার ঘাটতি ছিলো৷ গত বছর বসার জায়গায় বৈদ্যুতিক পাখার ব্যবস্থা থাকলেও এবার তার অনুপস্থিতি অভিভাবকদের দুর্ভোগ বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন অভিভাবক বলেন,“পরীক্ষার আয়োজন বেশ ভালো হয়েছে৷ গরমের জন্য ছাউনির ব্যবস্থা করেছে এটিও ভালো লেগেছে৷ দূর-দূরান্ত থেকে আগত নারী অভিভাবকদের জন্য কোনো মানসম্মত শৌচাগার কিংবা সুপেয় পানির সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা নেই। পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে ক্যাম্পাসের ক্যান্টিন বন্ধ না থাকলে খাবার ও পানি ক্রয়ে সুবিধা হত আমাদের৷”

পরীক্ষার হল পরিদর্শন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রোকনুজ্জামান, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আ ব ম সাইফুল ইসলাম সিদ্দিকী, ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাদীকুর রহমানসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে জাবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রোকনুজ্জামান সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার পজিটিভনেসটা আমাদের জাতির সামনে তুলে ধরা দরকার। গার্ডিয়ানদের কষ্টগুলো লাঘবের জন্য দেশব্যাপী ২০টা বিশ্ববিদ্যালয় একই সঙ্গে অংশগ্রহণ করছে। আর্থিক সাশ্রয় যেমন হয়েছে, সময়ের সাশ্রয় হয়েছে। মানুষের অসুবিধা লাঘব হয়েছে। অতএব আমি এটা ক্লিয়ারলি বলতে চাই, আমাদের জিএসটির প্রতি আরও বেশি মনোযোগী হওয়া দরকার। এবং যদি আরও কোন বিশ্ববিদ্যালয় ছোট তারা যদি আমাদের সঙ্গে সহযোগী হিসেবে জিএসটিতে আসতে চায়, তাহলে আমরা মনে হয় এখানে স্বাগত জানানো উচিত হবে৷” সুন্দরভাবে পরীক্ষা আয়োজনে সহযোগিতার জন্য তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সাংবাদিক ও ভলেন্টিয়ারদের ধন্যবাদ জানান।




