জাতীয়প্রধান খবরসারাদেশ

সিলেট নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে ৪৭০০ কোটি টাকার প্রকল্প: বাণিজ্যমন্ত্রী

সিলেট নগরের জলাবদ্ধতা স্থায়ীভাবে নিরসনে প্রায় ৪ হাজার ৭০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। প্রকল্পটির অন্যতম অংশ হলো সুরমা নদীর দুই তীরে ১৭ কিলোমিটার করে বাঁধ নির্মাণ ও সড়ক তৈরি। তিনি বলেন, এসব অবকাঠামো শুধু বন্যা ও জলাবদ্ধতা মোকাবিলায় ভূমিকা রাখবে না, নগরবাসীর হাঁটার সুযোগও তৈরি করবে। সিলেট নগরে হাঁটার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা নেই। নদীর দুই তীরের উন্নয়ন হলে তা নগরবাসী ও পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় স্থান হয়ে উঠতে পারে। গতকাল বুধবার সকালে সিলেট নগরের কানিশাইলে সুরমা নদীর তীর প্রতিরক্ষা কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, সুরমা নদীর মীরের চক এলাকায় ৩০০ মিটার, মেন্দিবাগে ৪০০ মিটার, কানিশাইলে ৫৫০ মিটার, টুকের বাজারে ৫০০ মিটার এবং মীরেরগাঁওয়ে ৫০০ মিটার তীর প্রতিরক্ষা কাজ করা হবে। এ ছাড়া কুশিয়ারা নদীর পুনঃখনন, বাসিয়া নদীর ২৩ কিলোমিটার পুনঃখনন, গোয়াইন নদীর নয়াগাঁও এলাকায় ৫০৫ মিটার এবং সারি-গোয়াইন নদীর মেরিন একাডেমি এলাকায় ৮০০ মিটার তীর প্রতিরক্ষা কাজের পরিকল্পনা রয়েছে। এর পাশাপাশি ড্রেজিংয়ের কাজও করা হবে। এসব উন্নয়নকাজে অনিয়ম ও দুর্নীতি ঠেকাতে স্থানীয় বাসিন্দাদের নজরদারি করার আহ্বান জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, কোনো এলাকায় উন্নয়নকাজ হলে স্থানীয়দের নিজেদের স্বার্থেই কাজের মান ও অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে। তিনি বলেন, সরকারি উন্নয়নকাজে বিভিন্ন ধরনের অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ও দুর্নীতির অভিযোগ শোনা যায়। এসব ঠেকাতে স্থানীয় পর্যায়ে কমিটি গঠন করে উন্নয়নকাজ তদারকি করা যেতে পারে। ওই কমিটিতে মসজিদের ইমাম, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, প্রকৌশলী ও এলাকার বিশিষ্ট নাগরিকদের রাখা যেতে পারে। মন্ত্রী বলেন, আপনারা সময় সময় দেখবেন কেমন কাজ হচ্ছে। আমার হক আদায় করার প্রতি যদি আমি যত্নবান না হই, কেউ আমার হক আদায় করে দেবে না। এই কথাটি মনে রাখবেন। তিনি বলেন, সুরমা নদী ও চেঙ্গেরখালের ভাঙন প্রতিরোধে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া তাদের নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম অঙ্গীকার ছিল। দায়িত্ব নেওয়ার পর পানি সম্পদমন্ত্রী শহিদউদ্দিন চৌধুরী এনি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে ভাঙনকবলিত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করা হয়। এরপর জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন ঠেকানোর পাশাপাশি স্থায়ী প্রকল্প নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, সেই পরিকল্পনার প্রথম ধাপের কাজ শুরু হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য কাজও শুরু করা হবে। এসব কাজের একটি অংশের উদ্বোধন গতকাল বুধবার করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্য প্রকল্পগুলোর কাজও শুরু হবে। তিনি বলেন, উন্নয়নকাজ কোনো একক ব্যক্তির কাজ নয়, এটি একটি দলগত উদ্যোগ। সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের সমন্বয়ের মাধ্যমে এসব কাজ বাস্তবায়ন করতে হবে। সিটি করপোরেশনের প্রশাসককে বাস্তবায়ন পর্যায়ে নেতৃত্ব দিতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে। অনুষ্ঠানে সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সানাউল কাদের খানসহ দলের নেতৃবৃন্দ ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

Back to top button
error: Content is protected !!