সারাদেশ

মেলান্দহে কমিউনিটি ক্লিনিকে ঔষধ নিতে আসা নারীর শ্লীলতাহানির অভিযোগ সিএইচসিপির বিরুদ্ধে

মুত্তাছিম বিল্লাহ, নিজস্ব প্রতিবেদক:

জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার রুকনাই কমিউনিটি ক্লিনিকের এক কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি)-এর বিরুদ্ধে ওষুধ নিতে আসা এক গৃহবধূকে শ্লীলতাহানি ও অশালীন আচরণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনার সৃষ্টি হলে কৌশলে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন অভিযুক্ত রাশেদুজ্জামান। ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় লোকজন ক্লিনিক প্রাঙ্গণে জড়ো হয়ে অভিযুক্তের বিচারের দাবি জানান।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার দুরমুঠ ইউনিয়নের রুকনাই কমিউনিটি ক্লিনিকে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত রাশেদুজ্জামান রিপন। সে ওই এলাকার মুক্তিযোদ্ধা ও ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য আব্দুর রশিদের ছেলে। তিনি ওই কমিউনিটি ক্লিনিকে সিএইচসিপি হিসেবে কর্মরত। ভুক্তভোগী গৃহবধূ জানান, ১১ মাস বয়সী সন্তান ও ননদকে সঙ্গে নিয়ে তিনি সকালে ক্লিনিকে ওষুধ নিতে যান। সেখানে ওষুধ চাওয়ার পর অভিযুক্ত বিভিন্ন অজুহাতে তার শরীর স্পর্শ করেন এবং অশোভন আচরণ করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি দ্রুত ক্লিনিক ত্যাগ করে বাড়িতে ফিরে আসেন। পরে পরিবারের সদস্যদের কাছে ঘটনাটি জানালে এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন ক্লিনিকে গিয়ে জড়ো হন। এ সময় অভিযুক্তকে ঘটনাস্থলে পাওয়া গেলেও একপর্যায়ে বিচারের আশ্বাস দিয়ে তিনি সেখান কৌশলে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী। ভুক্তভোগীর শাশুড়ি বলেন, আমরা স্বাস্থ্যসেবা নিতে যাই। সেখানে যদি এমন ঘটনার শিকার হতে হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে? আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দা বানেছা খাতুন, রওশন আরা, আব্দুল কুদ্দুস, জংশের আলীসহ আরও কয়েকজন অভিযোগ করেন, সিএইচসিপি রাশেদুজ্জামান রিপন দীর্ঘদিন ধরে সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে আসছেন। তাদের দাবি, তিনি অনেক সময় প্রয়োজনীয় ওষুধ থাকা সত্ত্বেও রোগীদের না দিয়ে নিজের পরিচিত ও পছন্দের লোকজনকে অগ্রাধিকার দেন। সাধারণ রোগীদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন তার এমন আচরণের কারণে অনেকেই কমিউনিটি ক্লিনিকে এসে কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তারা এ বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত রাশেদুজ্জামান রিপনের বাড়ীতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। এরপর থেকে তার নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।

দুরমুট ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার ফরিদ উদ্দিন বলেন, ঘটনা শোনার পর সেখানে গিয়েছিলা। মেয়েটি তার গায়ে হাত ফেয়ার অভিযোগ করেন। বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হলে উভয়পক্ষকে বুঝিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করি।

এ বিষয়ে মেলান্দহ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আহসান হাবীবের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি আপনাদের মাধ্যমেই অবগত হলাম। তদন্ত সাপেক্ষে সে যদি দোষী হয় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সাথে পরামর্শক্রমে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জামালপুরের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আজিজুল হক বলেন, এ বিষয়ে অভিযোগ পায়নি, অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

Back to top button
error: Content is protected !!