জাতীয়প্রধান খবর

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে টরন্টোতে সমর্থন চাইল বাংলাদেশ

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের প্রেসিডেন্ট পদে বাংলাদেশের প্রার্থিতার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন চেয়েছে কানাডার টরন্টোতে অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল। কানাডার টরন্টোতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে কনস্যুলার কোরের সম্মানে আয়োজিত এক রিসেপশনে এ বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। টরন্টোর বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার অ্যাট্রিয়া ওয়ানের কনফারেন্স হলে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের কনস্যুলার কোরের সদস্য, আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক সংগঠনের প্রতিনিধি, অন্টারিও প্রাদেশিক পার্লামেন্ট ও সিটি কাউন্সিলের সদস্যসহ স্থানীয় রাজনীতিবিদ এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অন্টারিওর মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক সহকারী মন্ত্রী বিজয় থানিগাসালাম। এছাড়াও অন্টারিওর প্রাদেশিক সংসদ সদস্য আরিস বাবিকিয়ান এতে অংশ নেন। স্বাগত বক্তব্যে কনসাল জেনারেল শাহ আলম খোকন মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে শহীদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও নির্যাতিত নারীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ভূমিকা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে এবারের স্বাধীনতা দিবস বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। একই সঙ্গে তিনি জানান, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের প্রেসিডেন্ট পদে বাংলাদেশ প্রার্থী হয়েছে এবং এ নির্বাচন আগামী জুনে অনুষ্ঠিত হবে। এ পদে বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। কনসাল জেনারেল বলেন, এই প্রার্থিতা বহুত্ববাদ ও বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থায় কার্যকর ভূমিকা রাখার বাংলাদেশের অঙ্গীকারের প্রতিফলন। তিনি এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন কামনা করেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর পক্ষে বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ কণ্ঠস্বর। পাশাপাশি দেশটি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে শীর্ষ সেনা প্রেরণকারী দেশগুলোর অন্যতম এবং ১৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কানাডায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. জসীম উদ্দিন। তিনি বাংলাদেশ ও কানাডার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা তুলে ধরে বলেন, দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বিভিন্ন ক্ষেত্রে আরও সম্প্রসারিত হয়েছে। তিনি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক গণতান্ত্রিক পরিবর্তনে কানাডার সমর্থনের প্রশংসা করেন এবং বলেন, এটি গণতন্ত্র, বহুত্ববাদ ও মানবাধিকারের প্রতি দুই দেশের অভিন্ন মূল্যবোধের প্রতিফলন। হাইকমিশনার আরও বলেন, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান ভূমিকা ও মর্যাদার বহিঃপ্রকাশ হচ্ছে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থিতা। ড. খলিলুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ বৈশ্বিক দক্ষিণের স্বার্থ রক্ষা, জলবায়ু সহনশীলতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বহুত্ববাদ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। প্রধান অতিথি বিজয় থানিগাসালাম কানাডায় বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির স্থিতিশীলতা ও পারস্পরিক বন্ধনের প্রশংসা করেন। অনুষ্ঠানের শেষে অতিথিদের জন্য বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী খাবার পরিবেশন করা হয়। এর আগে গত ২৬ মার্চ বৃহত্তর টরন্টো এলাকায় বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে পৃথক একটি রিসেপশনের আয়োজন করে কনস্যুলেট জেনারেল।

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

Back to top button
error: Content is protected !!