রাজনীতিসারাদেশ

শেরপুরে সংঘর্ষে জামায়াত নেতার মৃত্যুতে মামলা, আসামি ৭ শতাধিক

শেরপুরে বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষে জামায়াত নেতার মৃত্যুর ঘটনায় দুই দিন পর মামলা করা হয়েছে। মামলায় বিএনপির সংসদ সদস্য প্রার্থীসহ সাত শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়। গত শুক্রবার রাতে নিহত রেজাউল করিমের স্ত্রী মোছা. মার্জিয়া বাদী হয়ে ঝিনাইগাতী থানায় এ হত্যা মামলা করেন বলেন জানিয়েছেন ঝিনাইগাতী থানার এসআই আবুল হাশেম। গতকাল শনিবার সকালে তিনি বলেন, রেজাউল করিম হত্যা মামলায় শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মো. মাহমুদুল হক রুবেলসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের ২৩৪ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা ৪০০-৫০০ জনকে মামলায় আসামি করা হয়েছে। নিহত রেজাউল করিম (৪০) জামায়াত ইসলামী শ্রীবরদী উপজেলার সেক্রেটারি ও ফতেহপুর ফাজিল মাদ্রাসার আরবি বিষয়ের প্রভাষক ছিলেন। গত বুধবার ঝিনাইগাতী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেরপুর-৩ প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে সংঘর্ষে জড়ান বিএনপি-জামায়াতের নেতা-কর্মীরা। সন্ধ্যা পর্যন্ত দফায় দফায় চলা সংঘর্ষে উভয় পক্ষের শতাধিক লোক আহত হন। পরে জামায়াত নেতা রেজাউল করিমকে গুরুতর অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে ওই দিন রাতেই তিনি মারা যান। এদিকে এ ঘটনায় গত শুক্রবার বিকালে শেরপুর শহরে জেলা জামায়াতের বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভ মিছিল এবং সমাবেশে জামায়াত ও ১১ দলীয় জোটের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশ থেকে গতকাল শনিবার বিকালে ঝিনাইগাতী উপজেলা মিনি স্টেডিয়ামে শহীদ রেজাউলের জন্য দোয়া মাহফিলের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। এছাড়া জামায়াতের আমীর শফিকুর রহমান আজ রোববার মাওলানা রেজাউল করিমের কবর জিয়ারত এবং শেরপুর শহীদ দারোগ আলী পৌর পার্কে নির্বাচনি জনসভায় ভাষণ দেওয়ার জন্য শেরপুর আসছেন বলে জেলা জামায়াতের আমীর হাফিজুর রহমান জানিয়েছেন।

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

Back to top button
error: Content is protected !!