সারাদেশ

দৈনিক ১৬ থেকে ১৮ ঘণ্টার লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত মাদারগঞ্জের জনজীবন

চাহিদার অর্ধেকও মিলছে না বিদ্যুৎ

খাদেমুল ইসলাম, নিজস্ব প্রতিবেদক:
জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় তীব্র গরমের মধ্যে ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। কয়েক সপ্তাহ ধরে দিনে-রাতে মিলিয়ে ১৬ থেকে ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন উপজেলার কয়েক লাখ বাসিন্দা। উপজেলা শহর থেকে গ্রাম, সবখানেই একই পরিস্থিতি বিরাজ করছে। লোডশেডিংয়ে একদিকে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিরা।
পল্লী বিদ্যুতের মাদারগঞ্জ জোনাল অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় বর্তমানে বিদ্যুতের চাহিদা ১৮ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৭ মেগাওয়াট, যা মোট চাহিদার প্রায় ৩৯ শতাংশ। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অনেক কম থাকায় বাধ্য হয়ে দীর্ঘ সময় লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, দিন-রাত সমানতালে চলছে ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিভ্রাট। কোন কোন এলাকায় টানা দুই থেকে তিন ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। আবার বিদ্যুৎ এলেও কিছুক্ষণ পরই তা চলে যাচ্ছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অনেকেই বাধ্য হয়ে মোমবাতি ও টর্চলাইটের আলোতে সন্ধ্যা থেকেই দোকানপাট ও গৃহস্থালির কাজ চালাচ্ছেন। তীব্র গরমে বিদ্যুৎ না থাকায় স্বস্তির খোঁজে অনেকে গভীর রাত পর্যন্ত ঘরের বাইরে কিংবা বারান্দায় অবস্থান করছেন।
উপজেলার বীরপাকেরদহ এলাকার বাসিন্দা রহুল আমিন বলেন, দিনে-রাতে কতবার যে বিদ্যুৎ যাওয়া-আসা করে তার কোন হিসাব নাই। রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে পারি না। কখন বিদ্যুৎ আসবে, তারও কোনো নিশ্চয়তা নেই। এমন পরিস্থিতিতে স্বাভাবিক জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে।
কোয়ালিকান্দী এলাকার বাসিন্দা আতিকুর রহমান বলেন, গরমে ঘরে থাকা দায় হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎ না থাকলে ফ্যান চলে না। ফ্রিজে রাখা খাবার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। শিশুসহ পরিবারের সবাইকে গরমে কষ্ট করতে হচ্ছে।
নব্যচর এলাকার এইচএসসি পরীক্ষার্থী তৌফিকুল ইসলাম বলেন, সন্ধ্যার পর থেকেই লোডশেডিং শুরু হয়। আগামী ২ জুলাই পরীক্ষা। প্রস্তুতি নিতে খুব সমস্যা হচ্ছে। প্রায়দিন মোমবাতি বা চার্জলাইটের আলোয় পড়তে হয়।
জোড়খালী এলাকায় ইয়াসিন আরাফাত বলেন, ২৪ ঘণ্টায় ৪-৫ ঘণ্টাও মিলছে না বিদ্যুৎ৷ কিছু কিছু সময় ২-৩ ঘণ্টা পর বিদ্যুৎ এলেও তা আধা ঘন্টার বেশি স্থায়ী হয় না। ফলে ঘরের কাজ থেকে শুরু করে ব্যবসা-বাণিজ্য সবখানেই বিরূপ প্রভাব পড়ছে।

উপজেলার বালিজুড়ী বাজারের ফটোস্ট্যাট ও কম্পিউটার ব্যবসায়ী লাবলু মিয়া জানান, ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় কাজ ব্যাহত হচ্ছে। অনেক গ্রাহক সেবা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। এতে প্রতিদিন আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।
এ বিষয়ে জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মাদারগঞ্জ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার সৈয়দা ফারজানা ইয়াসমিন বলেন, উপজেলায় দৈনিক ১৮ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে ৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। সরবরাহ ঘাটতির কারণেই লোডশেডিং করতে হচ্ছে। জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বৃদ্ধি পেলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে।

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

Back to top button
error: Content is protected !!