ভোলায় কোটি টাকার ইলিশ গায়েব, বিচারিক তদন্তের নির্দেশ

ভোলার চরফ্যাশন থেকে মাছ ব্যবসায়ীদের ক্রয় করা কোটি টাকার ইলিশ মাছ গায়েবের অভিযোগের ঘটনায় বিচারিক তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আগামী ৩০ দিনের মধ্যে তদন্ত কমিটিকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ১০ ব্যবসায়ীর করা রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে গতকাল সোমবার বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি মো. জিয়াউল হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেন। আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করে আইনজীবী ছিদ্দিক উল্যাহ মিয়া বলেন, অতিরিক্ত জেলা জজের নিচে ননÑ এমন একজন বিচারক দিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করতে বলা হয়েছে। ‘ভোলায় জব্দ ইলিশ গায়েব’ শীর্ষক একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদন সংযুক্ত করে এ রিট করা হয়। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ভোলার চরফ্যাশন থেকে ব্যবসায়ীদের বৈধভাবে ক্রয় করা কোটি টাকার ইলিশ ঢাকায় পরিবহনের পথে জব্দ করা হয়। পরে মাদ্রাসা ও এতিমখানায় কিছু মাছ বিতরণের নামে বেশিরভাগ মাছ লুটপাটের অভিযোগ ওঠে। এতে আরও অভিযোগ করা হয়, জব্দের পর ওই মাছের একটি অংশ বরিশালে নিয়ে বিক্রি করে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। জেলা শহরের কালিনাথ বাজার এলাকায় ৩টি ট্রাকে ১৫৫টি ককসিটে বোঝাই বড় আকারের ইলিশ মাছ জব্দ করে কোস্ট গার্ড দক্ষিণ জোনের অপারেশন টিম। ওই মাছের ক্রয়মূল্য ছিল ৯৪ লাখ ২ হাজার ৭৮৪ টাকা। ক্ষতিপূরণসহ হয়রানির বিচার দাবি করে জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত আবেদন করেন সামরাজ মৎস্য আড়ত মালিক সমিতির পক্ষে মো. তারেক আজিজ পাটোয়ারী। জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান বলেন, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। তবে ইলিশ মাছ সাগরের নাকি নদীর-এটি বিশেষজ্ঞরা নির্ধারণ করতে পারবেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে মৎস্য বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসাইন জানান, ইলিশ মাছ সাগরের নাকি নদীরÑ তা স্বাভাবিকভাবে আলাদা করা যায় না। গভীর সাগর থেকে মাছ ধরে উপকূলে আনার পথে জব্দ হলে তা সাগরের মাছ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তবে আলোচিত ইলিশগুলো জেলা শহরের কালিনাথ বাজার এলাকায় ট্রাকে পরিবহনের সময় জব্দ করা হয়। তিনি আরও বলেন, এ ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আরও যাচাই-বাছাই করা প্রয়োজন ছিল। স্থলপথ থেকে এসব মাছকে সাগরের মাছ হিসেবে জব্দ করা মৎস্য আইনের পরিপন্থি বলেও তিনি মন্তব্য করেন। এদিকে গভীর সাগরে ১৫ এপ্রিল থেকে ১১ জুন পর্যন্ত ৫৮ দিনের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ওই সময় সামুদ্রিক মাছ আহরণ বন্ধ রাখার বিধান রয়েছে। কোস্ট গার্ড ওই ইলিশকে সামুদ্রিক মাছ উল্লেখ করে জব্দ করে। তবে মাছ ব্যবসায়ীরা দাবি করেন, এসব মাছ নদী ও মোহনা থেকে ধরা হয়েছে। কোস্ট গার্ড দপ্তরে ইলিশ ক্রয় ও নদীর মাছ-এ সংক্রান্ত প্রমাণপত্র উপস্থাপন করা হলেও তা গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন ব্যবসায়ীরা। এদিকে চরফ্যাশন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার ১২ মে স্বাক্ষরিত এক অনুমতিপত্রে দেখা যায়, মাছ পরিবহনের আগে অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। সামরাজের ব্যবসায়ী মোশারফ হোসেনের আবেদনের পর ইলিশ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের সহকারী মো. আল-আমিন হোসেন যাচাই-বাছাই করে পরিবহনের অনুমতি দেওয়ার সুপারিশ করেন। প্রশ্ন উঠেছে, এমন অনুমতিপত্র থাকা সত্ত্বেও কেন কোস্ট গার্ড অপারেশন টিম ও জেলা সদরের মৎস্য কর্মকর্তারা ইলিশ জব্দ করেন। জব্দ করা মাছ ককসিটে ভর্তি অবস্থায় কোস্ট গার্ড দপ্তরে নেওয়া হয় এবং পরে ট্রাক থেকে নামানো হয়। এ সময় জেলা মৎস্য কর্মকর্তা যথাযথ দায়িত্ব পালন করেননি-এমন অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান জেলা মৎস্য কর্মকর্তা। কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদের সুষ্ঠু প্রজনন, উৎপাদন ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা চলাকালে ভোলা কোস্ট গার্ড ও মৎস্য অধিদপ্তরের সমন্বয়ে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় সন্দেহজনক ১ কোটি ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা মূল্যের ১০ হাজার ১৪০ কেজি সামুদ্রিক ইলিশ মাছ জব্দ করা হয়।




