রাজনীতি

প্রস্তাবিত বাজেট জুলাই চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক: রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনার সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক, অগণতান্ত্রিক এবং বাস্তবতা-বিবর্জিত আখ্যা দিয়েছে বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর তোপখানা রোডে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই আনুষ্ঠানিক বাজেট প্রতিক্রিয়া ও বিকল্প প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয় দলটির পক্ষ থেকে। দলের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদার ভূঁইয়া। তিনি বলেন, একটি রক্তাক্ত গণঅভ্যুত্থানের পর জনগণের প্রধান প্রত্যাশাই ছিলÑ এমন একটি অর্থনৈতিক রূপরেখা, যা প্রচলিত আমলাতান্ত্রিক বৃত্ত থেকে বেরিয়ে এসে সাধারণ মানুষের কষ্ট লাঘব করবে। কিন্তু এই প্রস্তাবিত বাজেট সেই গণআকাঙ্ক্ষা পূরণে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। এই বাজেট প্রণয়নের পুরো প্রক্রিয়াটিই অগণতান্ত্রিক। তৃণমূল পর্যায় থেকে জনগণের সরাসরি অংশীদারত্ব নিশ্চিত না করায় এটি জনপ্রতিনিধিত্বমূলক চরিত্র হারিয়েছে। এসময় বর্তমান বাজেটকে জুলাই চেতনার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ করতে সুনির্দিষ্ট বিকল্প প্রস্তাবনা ও সংশোধনী পেশ করা হয় দলটির পক্ষ থেকে। অবাস্তব লক্ষ্যমাত্রা তাড়া করে ব্যবসায়ী ও সাধারণ জনগণকে হয়রানি করা বন্ধ করতে হবে। মুদ্রাস্ফীতি বিবেচনায় নিয়ে করমুক্ত আয়সীমা ৪,৫০,০০০ টাকা করা, উচ্চ আয়ের ওপর অতিরিক্ত ২.৫ শতাংশ থেকে ৭.৫ শতাংশ পর্যন্ত প্রগতিশীল আয়কর এবং ৫ কোটি টাকার ঊর্ধ্বের সম্পদের ওপর সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ পর্যন্ত ‘সম্পদ কর’ প্রবর্তন করতে হবে। উৎপাদনশীল কারখানায় ১০০ জনের বেশি নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করলে করপোরেট কর ৫ শতাংশ হ্রাস এবং নতুন স্টার্ট-আপ ও কুটির শিল্পকে প্রথম ৭ বছর সম্পূর্ণ ট্যাক্স হলিডে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়। মৌলিক শিল্প-কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতিতে আমদানি শুল্ক সর্বোচ্চ ১ শতাংশ বা শূন্য করা, প্রোটেক্টিভ ট্যারিফ বজায় রাখা এবং ২৮টি নিত্যপণ্যের উৎসে কর কমিয়ে ০.২৫ শতাংশ করার দাবি জানানো হয়। অকার্যকর পদ বিলোপ, সরকারি কর্মকর্তাদের নতুন গাড়ি কেনা, অপ্রয়োজনীয় বিদেশ ভ্রমণ ও বিলাসী সজ্জার বাজেট সম্পূর্ণ স্থগিত করতে হবে। সরকারি ও মেগা প্রজেক্টের কেনাকাটায় ন্যূনতম ৩০ শতাংশ দেশীয় পণ্য ও সেবা কেনা বাধ্যতামূলক করা, স্থানীয় সরবরাহকারীদের জন্য ১ কোটি টাকা পর্যন্ত সিকিউরিটি ডিপোজিট মওকুফ এবং ৪৫ কার্যদিবসের মধ্যে বিল পরিশোধের আইনি বাধ্যবাধকতার প্রস্তাব করা হয়। প্রতিটি নাগরিকের জন্য বিনামূল্যে বা নামমাত্র মূল্যে আধুনিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতে ‘জাতীয় স্বাস্থ্য কার্ড’ ও ‘সর্বজনীন স্বাস্থ্যবিমা’ চালু করে পকেটের খরচ আগামী ৫ বছরে শূন্যে নামানোর প্রস্তাব করা হয়। তাত্ত্বিক শিক্ষার বাজেট কমিয়ে কর্মমুখী শিক্ষায় জোর দেওয়া এবং দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের পরিবারকে সরাসরি ‘শিক্ষা ভাউচার’ দিতে হবে। প্রান্তিক কৃষকদের বাঁচাতে গ্রামভিত্তিক বাধ্যতামূলক ‘কৃষি সমবায় ও যান্ত্রিকীকরণ’ গড়ে তোলা এবং প্রতিটি উপজেলায় মাল্টি-চেম্বার কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ করতে হবে। সনাতন এডিপির ধারণা ভেঙে সোলার বিদ্যুৎ উৎপাদনকে ‘থ্রাস্ট সেক্টর’ ঘোষণা করে আগামী ১ বছরে বিদ্যুৎ চাহিদার ২৫ শতাংশ সোলার থেকে সংগ্রহ, বিনামূল্যে ‘নেট মিটারিং’ ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করে “গ্রিন এনার্জি গ্রিড” প্রজেক্ট চালু করতে হবে। বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে তরুণদের জন্য প্রস্তুতকৃত প্লট ও সিড ক্যাপিটাল দিয়ে “স্মার্ট স্টার্ট-আপ ম্যানুফ্যাকচারিং হাব” এবং অর্থনৈতিক অঞ্চল ও বন্দরের সাথে সরাসরি রেল ও ফোর-লেন মহাসড়ক যুক্ত করতে “ইন্ডাস্ট্রিয়াল কানেক্টিভিটি” প্রজেক্ট চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়। রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ূমের সভাপতিত্ব ও সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ সোহেলের সঞ্চালনা এসময় আরও উপস্থিত ছিলেনÑ দলের সিনিয়র সহ সভাপতি মাহবুবুর রহমান, সহ সভাপতি হাবিবুর রহমান রাজা প্রমুখ।

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

Back to top button
error: Content is protected !!