আন্তর্জাতিক

শ্রীলঙ্কায় ইস্টার হামলার দণ্ডপ্রাপ্তদের কারাদণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল

শ্রীলঙ্কায় ইস্টার সানডের ভয়াবহ বোমা হামলায় দোষী সাব্যস্ত ১৫ ব্যক্তি রেকর্ড মেয়াদের কারাদণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল করবেন। তাদের কয়েকজনের পক্ষে থাকা এক আইনজীবী গতকাল বুধবার এ কথা জানিয়েছেন। দেশটির সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের এই ব্যক্তিদের পাঁচ বছর ধরে চলা বিচার শেষে মঙ্গলবার কলম্বো হাইকোর্ট প্যারোলে মুক্তির কোনো সুযোগ না রেখে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। কলম্বো থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে। ২০১৯ সালের ২১ এপ্রিল আত্মঘাতী বোমারুরা তিনটি বিলাসবহুল হোটেল ও তিনটি গির্জায় হামলা চালায়। এতে ৪৫ জন বিদেশিসহ ২৭৯ জন নিহত হন। তদন্তকারীরা এ হামলার জন্য দেশীয় একটি ইসলামপন্থী উগ্রপন্থী গোষ্ঠীকে দায়ী করেন। আদালতের কর্মকর্তারা জানান, দণ্ডপ্রাপ্তদের ২০০ থেকে ২৬০ বছর পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেকের গড় সাজা ২২০ বছর। রায়ের পরিমাণ ৩ হাজার পৃষ্ঠারও বেশি। প্রতিরক্ষা আইনজীবী কানীল মাদ্দুমাগে বলেন, দণ্ড ও রেকর্ড মেয়াদের সাজাÑদুটির বিরুদ্ধেই সুপ্রিম কোর্টে আপিল করা হবে। মাদ্দুমাগে বলেন, ‘আসামিদের কয়েকজনের পক্ষে কোনো আইনজীবী নেই। তবে সব দণ্ডপ্রাপ্তের পক্ষ থেকে আমি তাদের আপিল দায়েরের জন্য মামলার কার্যক্রমের অনুলিপি দেওয়ার অনুরোধ করেছি।’ হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়, ১৪ আসামি হত্যা, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ষড়যন্ত্র এবং সন্ত্রাস দমন আইনের আওতায় আগ্নেয়াস্ত্র রাখাসহ সব অভিযোগে দোষী। ১৫তম আসামিকে কেবল কয়েকটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। আরও নয়জনকে খালাস দেওয়া হয়েছে। শ্রীলঙ্কার বেসামরিক নাগরিকদের ওপর সবচেয়ে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় আত্মঘাতী বোমারুদের সহায়তা ও সহযোগিতা করার অভিযোগ ছিল এই ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে। সব অভিযোগে দোষী সাব্যস্তদের মধ্যে মোহাম্মদ নওফারও রয়েছেন। কৌঁসুলিরা তাকে আট সদস্যের আত্মঘাতী হামলাকারী দলের মূল হোতা হিসেবে চিহ্নিত করেন। হামলা চালানো ওই দলটিকে তিনি সহায়তা দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়। সমন্বিত এই বোমা হামলার সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে এটিই ছিল প্রথম ফৌজদারি মামলা। তবে গত জুলাইয়ে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সাবেক এক পুলিশ প্রধান ও সাবেক এক নিরাপত্তা প্রধানকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। আগাম গোয়েন্দা সতর্কতা থাকা সত্ত্বেও তাদের বিরুদ্ধে হামলা ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ ছিল।

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

Back to top button
error: Content is protected !!