‘মাটির ময়না’ দেখেই চলচ্চিত্র নির্মাণে আসেন রায়হান রাফি

বাণিজ্যিক ধারার সিনেমা বানিয়ে ঝড় তোলা নির্মাতা রায়হান রাফি এবার নিজের ভেতরের ভিন্ন এক গল্পকারের রূপ মেলে ধরলেন। সম্প্রতি এক পডকাস্টে অংশ নিয়ে নিজের নির্মাণ ক্যারিয়ার, অনুপ্রেরণা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন এই পরিচালক। সেখানেই তিনি জানিয়েছেন, প্রয়াত কিংবদন্তি চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদই মূলত তার চলচ্চিত্রে আসার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা। নিজের শৈশব ও স্বপ্নের লড়াইয়ের স্মৃতিচারণ করে রায়হান রাফি বলেন, ‘আমাদের ছোটবেলায় কী হয়? অনেকে অনেক স্বপ্ন দেখে, যা পূরণ হয় না। তো আমিও ভেবে নিয়েছিলাম যে, আমার স্বপ্ন আসলে পূরণ হবে না। কীভাবে আমি ডিরেক্টর হব? কীভাবে আমি সিনেমা বানাব? ঠিক তখন আমি তারেক মাসুদকে দেখলাম। তার একটা নিউজ আমি পড়লাম। দেখলাম, ‘মাটির ময়না’ নিয়ে কান উৎসবে গিয়েছেন।’ তারেক মাসুদের জীবনীর সঙ্গেই নিজের জীবনের মিল খুঁজে পেয়েছিলেন রাফি। সেই অধ্যায়টি মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘উনার জীবন দেখলাম। আমি উনার জীবন নিয়ে পড়াশোনা করার চেষ্টা করি। আমার জীবনের সাথে উনার লাইফের অনেক কিছু মিলে যায়। ওটাই ছিল আমার ইন্সপিরেশন। এবং একটা জিনিস কী হলো? আমি এত বছর পরে এসে পেশাদার, কিন্তু আমি আমার ওস্তাদকে মানে তারেক মাসুদকে এই ছবিটা উৎসর্গ করেছি।’ রাফি আরও বলেন, ‘এটা আমার কাছে মনে হয় স্পেশাল ফিল্ম যে, আমি এটা তারেক মাসুদ থেকে শুরু করতে পেরেছি। এবং এটা একটা প্রপার সিনেমা ছিল, যে সিনেমাটা আমি মেক করতে চাই। তার মানে কী? আমার কাছে মনে হয়, এজ এ ডিরেক্টর, ডিরেক্টরের জার্নি আমার এই সিনেমা থেকে শুরু হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘আগে আমি ভালো ভালো সিনেমা বানিয়েছি, কিন্তু এই সিনেমাটা আমার মনের অনেক কাছের ছবি আসলে। এবং এটা আমাকে অন্যরকম এক প্রশান্তি দিয়েছে। সামনে আমি এ ধরনের সিনেমা বানাব। কমার্শিয়াল সিনেমা আমি বানাব, কিন্তু বছরে একটা ছবি বানাব, যা আমি আমার মন থেকে বানাতে চাই আসলে।’ কেবলমাত্র ব্যবসায়িক সাফল্যই একজন প্রকৃত নির্মাতার একমাত্র লক্ষ্য হতে পারে না বলে মনে করেন ‘তুফান’ খ্যাত এই পরিচালক। সিনেমা নিয়ে নিজের আগামী দিনের দর্শন প্রকাশ করে রাফি বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয়, একটা ডিরেক্টরের জীবনে এটাই উদ্দেশ্য হতে পারে না, একজন শিল্পীর শুধুমাত্র ব্যবসা-বাণিজ্য। তো এক-দুইটা ছবি বানাব; একটা হবে এক্সপেরিমেন্টাল সিনেমা, একটা হবে কমার্শিয়াল সিনেমা। সবাই খুশি, আমার মনও খুশি, জাতিও খুশি।’




