আন্তর্জাতিক

ভারতে এখন থেকে পেট্রোল পাম্পে মদ বিক্রি!

ভারতের চণ্ডীগড়ে নতুন আবগারি নীতির আওতায় এখন থেকে পেট্রোল পাম্পে মদ বিক্রি করা যাবে। এছাড়া ডিপার্টমেন্টাল স্টোরেও মিলবে মদ। এর ফলে শহরের বাসিন্দাদের জন্য অ্যালকোহল কেনা আরও সহজ হয়ে উঠবে। আগে যেখানে শুধুমাত্র নির্দিষ্ট মদের দোকানের ওপর নির্ভর করতে হতো, এখন সেই সীমাবদ্ধতা আর থাকছে না। খবর এনডিটিভির। চণ্ডীগড়ের ডেপুটি কমিশনার নিশান্ত কুমার যাদব জানান, নির্দিষ্ট কিছু পেট্রোল পাম্প ও বড় ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে এই সুবিধা চালু করা হবে, তবে এর জন্য কঠোর যোগ্যতার মানদণ্ড রাখা হয়েছে। যেসব প্রতিষ্ঠান বার্ষিক জিএসটি টার্নওভার ৩ কোটি রুপির বেশি, তারাই কেবল এই লাইসেন্স পাবে। এই লাইসেন্স দেওয়া হবে সেকশন ১০বি-এর অধীনে। প্রশাসনের মতে, এই সিদ্ধান্ত চণ্ডীগড়ের মদ বিক্রির ব্যবস্থাকে আধুনিক করার একটি পদক্ষেপ। আন্তর্জাতিকভাবে যেমন সংগঠিত খুচরা বিপণিতে অ্যালকোহল বিক্রি করা হয়, সেই ধাঁচেই এই পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এতে বিশেষ করে প্রবীণ নাগরিক ও নারীদের জন্য কেনাকাটা আরও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ হবে, কারণ অনেকেই প্রচলিত মদের দোকানে যেতে অস্বস্তি বোধ করেন। বর্তমানে চণ্ডীগড়ে পেট্রোল পাম্পের ভেতরে বড় ডিপার্টমেন্টাল স্টোর নেই। তবে ভবিষ্যতে যদি এমন কোনো প্রতিষ্ঠান চালু হয় এবং নির্ধারিত টার্নওভার পূরণ করে, তাহলে তারা লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে পারবে। একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে স্বতন্ত্র পেট্রোল পাম্পগুলোর ক্ষেত্রেও। এছাড়া, মদের দোকানগুলোর খোলার সময়সীমাও বাড়ানো হয়েছে। এখন থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত এসব দোকান খোলা রাখা যাবে। আশপাশের রাজ্যগুলোর সময়সূচি বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রশাসন আরও জানিয়েছে, বর্তমানে মাত্র চারটি মদের দোকান এখনো নিলামে তোলা হয়নি এবং ১ এপ্রিলের মধ্যে সবগুলো দোকান চালু করার চেষ্টা চলছে। গত বছরের মতো সমস্যার পুনরাবৃত্তি এড়াতে এবার একটি নতুন আর্থিক শর্ত আরোপ করা হয়েছে। লাইসেন্স পেতে আগ্রহীদের সম্ভাব্য বার্ষিক আয়ের ১৭ শতাংশ অগ্রিম জমা দিতে হবে। এর ফলে লাইসেন্সধারীদের দায়বদ্ধতা বাড়বে এবং মাঝপথে চুক্তি বাতিলের ঝুঁকি কমবে। এই নতুন নীতিমালা ইতোমধ্যেই আর্থিকভাবে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। সাম্প্রতিক বরাদ্দ থেকে প্রশাসন অতিরিক্ত ১৫০ কোটি টাকা রাজস্ব অর্জন করেছে। সব মিলিয়ে, এই নীতি চণ্ডীগড়ের মদ বিক্রির ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনছে, যেখানে ভোক্তাদের সুবিধা, কঠোর নিয়ন্ত্রণ এবং রাজস্ব বৃদ্ধির মধ্যে একটি ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

Back to top button
error: Content is protected !!