সারাদেশ

বৃষ্টি এলেই আশ্রয় খোঁজতে হয় অন্যের ঘরে

ভাঙ্গা ঘরে মানবেতর জীবনযাপন জেলে পরিবারের

খাদেমুল ইসলাম, নিজস্ব প্রতিবেদক:
জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় জরাজীর্ণ টিনের ঘরে মানবেতর জীবনযাপন করছে হতদরিদ্র এক জেলে পরিবার। দোচালা মরিচাধরা টিনের চাল, নড়বড়ে বাঁশের খুঁটি আর ছেঁড়া বেড়ার ঘরে স্ত্রী ও চার সন্তান নিয়ে বসবাস করছেন জেলে মান্না। বৃষ্টি হলেই ঘরের ভেতর পানি পড়ে, তখন পরিবারটির ঠাঁই হয় অন্যের বাড়িতে।
উপজেলার বালিজুড়ী ইউনিয়নের তারতাপাড়া এলাকার এই পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে চরম দারিদ্র্যের মধ্যে রয়েছে। মান্না ওই এলাকার মৃত খালেক মন্ডলের ছেলে। প্রায় নয় বছর আগে মান্নার স্ত্রী মানসিক ভারসাম্য হারান। চিকিৎসা করাতে গিয়ে পরিবারের সামান্য সঞ্চয়ও শেষ হয়ে যায়। এরপর থেকেই জাল ফেলে মাছ ধরে কোনো রকমে সংসার চালাচ্ছেন তিনি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঘরের চালের অসংখ্য ছিদ্র দিয়ে দিনের আলো ঢুকছে। বৃষ্টি এলে সেসব ছিদ্র দিয়েই নামে পানি। ঘরের এক কোণে ভাঙা খাট, অন্য কোণে পুরোনো হাঁড়িপাতিল। সেগুলোই বৃষ্টির পানি ধরা আর সংসার চালানোর নীরব সাক্ষী।
চার সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভেঙে পড়েছেন এই অসহায় বাবা। অভাবের কারণে সন্তানদের ঠিকমতো পড়াশোনা তো দূরের কথা, দুই বেলা খাবার জোগাড় করাও এখন কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, বৃষ্টিতে ঘরের ছিদ্র দিয়ে পানি পড়ে বিছানা ও মেঝে ভিজে যায়। ফলে শিশু সন্তান ও অসুস্থ স্ত্রীকে নিয়ে বাধ্য হয়ে অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিতে হয় পরিবারটিকে। অভাবের এই সংসারে সবচেয়ে বেশি কষ্টে পড়ছে শিশুরা। নিয়মিত স্কুলে যাওয়া অনিয়মিত হয়ে পড়েছে। বই-খাতা কেনার সামর্থ্য নেই, অসুস্থ হলে চিকিৎসাও জোটে না।
ভুক্তভোগী মান্না জানান, স্ত্রী-সন্তান নিয়ে খুবই কষ্টে জীবনযাপন করছি। একদিন মাছ ধরতে না গেলে পরদিন না খেয়ে থাকতে হয়। নয় বছর আগে স্ত্রী মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে, তার চিকিৎসা করাতেই সব সম্বল শেষ হয়ে যায়। ঘর তোলার মতো কোনো অর্থ নেই। বৃষ্টি এলে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে অন্যের বারান্দায় আশ্রয় নিতে হয়। তাদের কাছে একটি নিরাপদ ঘরই এখন সবচেয়ে বড় স্বপ্ন।

স্থানীয় বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম বলেন, মান্নার পরিবারের কষ্টের কথা গ্রামের সবাই জানেন। তার স্ত্রী মানসিকভাবে অসুস্থ। স্ত্রীর চিকিৎসা করাতে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে পরিবারটি। একটি ভাঙাচোরা ঘরে ছেলে-মেয়ে নিয়ে কোনো রকমে জীবনযাপন করছে মান্নার পরিবার। অনেকে সামর্থ্য অনুযায়ী সহায়তা করেন। কিন্তু তা দিয়ে এই পরিবারের স্থায়ী কোনো সমাধান হচ্ছে না। সরকারি সহায়তা প্রয়োজন।
বালিজুড়ী ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য খলিলুর রহমান বলেন, মান্নার পরিবারটি খুবই অসহায়। স্ত্রী অসুস্থ, ঘর ভাঙা, আয়ও অনিয়মিত। সরকারি ও ব্যক্তিগত সহায়তা পেলে তারা উপকৃত হবে।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা তৌফিকুল ইসলাম খালেক বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে পরিবারটিকে সমাজসেবা কার্যালয়ের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন চৌধুরী বলেন, আপনাদের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারলাম। পরিবারটির বিষয়ে খোঁজ নিয়ে মানবিক সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

Back to top button
error: Content is protected !!