ফিলিপাইনের উত্তরাঞ্চলে পৃথক ভূমিধসে ৪ জনের প্রাণহানি

ফিলিপাইনের উত্তরাঞ্চলের বেঙ্গুয়েত ও রিজাল প্রদেশে ভূমিধসে অন্তত চারজনের প্রাণহানি হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার দেশটির কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানায়। এদিকে, একটি ক্রান্তীয় নিম্নচাপের প্রভাবে টানা ভারী বৃষ্টিতে উত্তরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে স্কুল। ম্যানিলা থেকে সড়কপথে প্রায় ছয় ঘণ্টার দূরত্বে অবস্থিত বেঙ্গুয়েত প্রদেশে গত বৃহস্পতিবার একটি পাহাড়ের ঢাল ধসে ছোট একটি রেস্তোরাঁর ওপর পড়ে। এ সময় রান্নাঘরে থাকা তিন কর্মী মাটিচাপা পড়েন। ম্যানিলা থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে। বেঙ্গুয়েত প্রাদেশিক পুলিশের কর্নেল ডিওনিসিও বনয় সাংবাদিকদের বলেন, ‘একজন জীবিত আছেন। দুজন ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন।’ তিনি জানান, ‘স্থানীয় সময় সকাল ১০টার দিকে জীবিত ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়েছে। এটিই ছিল আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার। ঈশ্বরের কৃপায় আমরা আশা করছি, তিনি বেঁচে থাকবেন।’ এদিকে, দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা পৃথকভাবে জানিয়েছে, এর আগের দিন পাশের রিজাল প্রদেশে আরেকটি ভূমিধসে আরও দুইজন প্রাণ হারিয়েছেন। দ্বীপদেশটির প্রধান দ্বীপ লুজনে গত চার দিন ধরে ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টির কারণে রাজধানী ম্যানিলাসহ উত্তরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ কয়েকটি প্রদেশে সরকারি অফিস ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার সরকারি আবহাওয়াবিদ জন মানালো জানান, আগে ক্রান্তীয় ঝড় ‘কুজিরা’ নামে পরিচিত নিম্নচাপটি ফিলিপাইন সাগরের দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় এর স্থায়ী বাতাসের গতি ছিল ঘণ্টায় প্রায় ৫৫ কিলোমিটার। তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘তীব্র বাতাস এখনো দেশের বেশির ভাগ এলাকায় আঘাত হানতে পারে।’ তিনি আরও বলেন, ‘টানা বৃষ্টিতে মাটি ইতোমধ্যে পুরোপুরি সিক্ত হয়ে গেছে। ফলে বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি আরও বেড়েছে।’ প্রশান্ত মহাসাগরীয় ঘূর্ণিঝড় বলয়ের মুখোমুখি হওয়া প্রথম বড় স্থলভাগ হলো ফিলিপাইন। প্রতি বছর গড়ে প্রায় ২০টি ঝড় ও টাইফুন আঘাত হানে দেশটিতে।




